বৃষ্টি ব্রেকফাস্টের থালা টা হাতে নিয়ে জানলার পাশে বসে রাস্তার দিকে তাকালো , সবসময়ের মতো রবিবার সকালের ব্যস্ত রাস্তা। দৈনন্দিন জীবনের একফালি টুকরো, প্রতি রবিবার এই বারান্দায় বসেই মন ভরে উপভোগ করে বৃষ্টি। আজকে অন্য দিনের থেকে রাস্তা টা একটু বেশি ব্যস্ত কারণ আজ হল ১৫ ই আগস্ট । বৃষ্টি দের বাড়ি থেকে একটু দূরেই একটা প্রাইমারি স্কুল , প্রচুর ছোটো ছেলে মেয়ের দল তাদের বাবা মায়ের সাথে আজকে স্কুলে এসেছে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে , তাতানও ওই স্কুলে ই পরে, ওকে ভোরবেলা পৌঁছে দিয়ে এসেছে মনিমা । তাতান বৃষ্টির ছোট কাকুর ছেলে , ক্লাস থ্রি তে উঠেছে এবার , বয়সে প্রায় দশ বছরের ছোট সে বৃষ্টি র চেয়ে তবুও বাড়িতে থাকার বেশির ভাগ সময়টাই ওর সঙ্গে গল্প করে কাটায় বৃষ্টি , অন্য কারোর সাথে বেশি কথা না বলা তাতান , বৃষ্টির সাথে দিনরাত এত কি করে গ ল্প করে ,বাড়ির সবাই প্রায় এই নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে। এই তো সেদিন রাতে খাবার টেবিলে তাতানকে খাইয়ে দিতে দিতে মনিমা যখন ওকে জিজ্ঞাসা করছিল ,” তোর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে রে তাতান ? রানা ,অর্ঘ্য না অনুসুয়া ? ” তাতান আঁকার খাতা থেকে মুখ না তুলেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে গম্ভীর ভাবে জবাব দিয়েছিল “দিদিভাই”।
কালকে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে তাতানকে করা প্রমিস রাখতে, আজকে বৃষ্টি যাবে তাতান কে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে । প্রতি বছরের মত এবারেও সকাল দশ টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে আর তারপরই স্কুল ছুটি । তাড়াতাড়ি স্নান সেরে আয়নার সামনে চুল আচড়ানো শেষ করতেই বৃষ্টির মোবাইল টা বেজে উঠল ,চুলের ক্লিপ টা লাগাতে লাগাতে ফোন টা ধরে বৃষ্টি বলল ,”বল”।
ওপাশে তন্ময়ের ভাঙ্গা গলা : বৃষ্টি ! আমার খুব জ্বর হয়েছিল রে ,সেজন্য কালকে কোচিং এ যেতে পারিনি , D.K.D র কালকের ক্লাস টা খুব জরুরি ছিল ,তোর থেকে নোটস টা নেব ,বুঝতে না পারলে তুই বুঝিয়ে দিবি তো ?
বৃষ্টি হেসে বলল : না দেব না ,আমার সময়ের অনেক দাম। তুই কি এখনি নিবি না পরে ? আসলে আমি একটু বেরোচ্ছি তাতানকে স্কুল থেকে আনতে ,বিকেলের দিকে হলে অসুবিধা নেই তো ? এখন বরং রেস্ট নে তুই ,জ্বর টা কমলে ক্ষণ D.K.D র কথা ভাবিস,গলার যা অবস্থা ,ফোনে নম্বর সেভ না থাকলে তো বুঝতেই পারতাম না যে আমি মাধ্যমিকের ফার্স্ট বয় তন্ময় মজুমদারের সাথে কথা বলছি ।
তন্ময় : জ্বরে কাহিল অসহায় ছেলেটাকে খোঁচা মেরে প্রাণ জুড়োলো তো বৃষ্টি চক্রবর্তী ? বিকেলে মা আমাকে জোর করে হলেও ডাক্তার দেখিয়েই ছাড়বে বলেছে ,২ দিন কোনভাবে কাটাতে পারলেও আজ আর বাগে আনতে পারব না সেই প্রচন্ড প্রতাপশালী মহিলা কে ,তাই আমি এখনি যাচ্ছি তাতানের স্কুলে র সামনে ,তুই আসার সময় নোটস টা নিয়ে আসিস ,দুপুরে আমার ঘুম আসে না ,ওটাতে চোখ বুলিয়ে নেব একবার ,কিছু বুঝতে না পারলে বিকেলে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার সময় তোর বাড়িতে হানা দেব ,আর কি !
বৃষ্টি : আচ্ছা ,সবসময়ের মত দেরী করিস না কিন্তু ,স্কুল ঠিক ১০ টায় ছুটি হবে ,রোদের মধ্যে তাতানকে নিয়ে আমি কিন্তু বেশীক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে পারব না ।
স্কুলের সামনে পৌঁছে হাত ঘড়ি টা দেখে নিল বৃষ্টি , ছুটি হতে এখনো পাঁচ মিনিট বাকি । দূর থেকে ছাতা মাথায় দিয়ে তন্ময় কে হেঁটে আসতে দেখে বৃষ্টি মনে মনে ভাবলো , ” সত্যি বাবা ! জ্বরের ঘোরে ফিসিক্সের নোট , এর মত পাগল ছাড়া কার ই বা মাথায় ঢোকা সম্ভব ,সাধে কি সবাই আইনস্টাইন বলে !” ব্যাগ থেকে খাতা টা বের করে নিল বৃষ্টি ,তন্ময় আসতেই হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল ,”নে ,তোর D.K.D র অমৃত ! জ্বরের মধ্যে আর রোদে দাড়িয়ে না থেকে এবার বাড়ি যা !” তন্ময় হেসে বলল , “আমার এখন আর জ্বর নেই ,কাল রাতের পর এখনো আর আসেনি , তোর সাথে তোর বাড়ির দিকেই একবার যাব কয়েকটা জিনিস জেরক্স করতে হবে,আমাদের ওদিকের দোকানের জেরক্স টা খারাপ ।” বৃষ্টি এরপরে আর কি বলবে বুঝতে না পেরে শুধু একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল !
তাতান ভিড়ের মধ্যে দৌড়ে এসে বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে বলল ,” Happy Independence Day দিদিভাই! ” তন্ময়ের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত বৃষ্টি একদম খেয়াল ই করেনি কখন স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছে তাতান , ভিড়ে তাতানের উল্টে যাওয়া টাই টা ঠিক করে দিতে দিতে হেসে বৃষ্টি বলল,”আগে বল , Independence এর বাংলা কি ? “
তাতান : স্বাধীনতা , তুই তো কালকেই শেখালি !
বৃষ্টি হেসে বলল : একদম ঠিক ।
ইংলিশ মিডিয়াম এ পড়া তাতানকে কিছুতেই বাংলা থেকে আলাদা হতে দেবে না বৃষ্টি ,নিজের ভাষা কে ভালবাসতে যেভাবেই হোক তাতানকে শেখাতেই হবে বৃষ্টিকে ।
তন্ময় : আচ্ছা তাতান , এবার বল তো স্বাধীনতা মানে কি ?
তাতান মুখ নিচু করে বলল : জানিনা , এটা দিদিভাই শেখায়নি !
বৃষ্টি এবার হেসে ফেলে বলল : সত্যি, খুব ভুল হয়ে গেছে তাতান ! স্বাধীনতা মানে হল নিজের ওপর নিজের শাসন ,নিজের ইচ্ছা মত কথা বলতে পারা ,কাজ করতে পারাকেই বলে স্বাধীনতা ! তবে যা ইচ্ছা তাই করলে চলবে না ,তাহলে নিজেকে শাসন করা হলো না কিন্তু ,আগে তোকে ভাবতে হবে ,তোর যা করতে বা বলতে ইচ্ছা করছে ,সেটা কি ঠিক না ভুল ,কারণ নিজের ইচ্ছা যদি অন্যের ওপর হওয়ার অন্যায়ের কারণ হয়ে যায় সেই ইচ্ছা মত কাজ করা টাকে তখন আর স্বাধীনতা বলে না , সেটাকে বলে সেচ্ছ্বাচারিতা ! বুঝলি?
তাতান : পুরোটা নয় , একটু সহজ করে বুঝিয়ে দে না রোজের মত।
বৃষ্টি একটু ভেবে বলল : এই যে সেদিন বলছিলি তোর ক্লাসের অরিন্দমের একটা বাক্য বলতে অনেক সময় লাগে ,আটকে আটকে যায় বার বার ,তাই ক্লাসে সবাই ওকে নিয়ে মজা করে ,রানা প্রায়ই ওর দলের সব বন্ধু নিয়ে টিফিন টাইমে আরিন্দম কে ঘিরে ধরে ইচ্ছা করে সিলেবাসের সবচেয়ে শক্ত ইংরাজী পদ্য টা বলতে বলে ,তবুও অরিন্দম টিচার কে কখনো রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না। কেন বল ?
তাতান : রানা তো আমাদের ক্লাসের মনিটর ,সবাই ওর দলে ,ও বোর্ড এ নাম লিখে দিলে টিচার তো প্রচন্ড শাস্তি দেয় ।
বৃষ্টি বলল : এর মানে হলো অরিন্দম স্বাধীন নয় কারণ সে রানা কে ভয় পেয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেই কাজ টা করছে ,যেটা রানা ওকে করতে বলছে ।
তাতান : তাহলে রানা কি স্বাধীন দিদিভাই ?
বৃষ্টি : ওই যে তোকে বললাম নিজের যা খুশি তাই করাকে স্বাধীনতা বলে না ,আগে দেখতে হবে সেটা ঠিক না ভুল , রানা নিজের মজার জন্য অরিন্দমের ওপর যে অন্যায় করে সেটাকে কখনই স্বাধীনতা বলে না ,বলে সেচ্ছ্বাচারিতা ।
তাতান একটু ভেবে বলল : তাহলে দিদিভাই ,আমি কি স্বাধীন ? আমি তো অরিন্দম কথা বললে কখনো হাসি না ,ওকে আমার টিফিন ও দি মাঝে মাঝে।
বৃষ্টি : না তাতান , এক্ষেত্রে তুইও স্বাধীন নস ,তোর নিজের ওপর শাসন আছে ঠিকই কিন্তু তোর ইচ্ছা থাকলেও রানার ভয়ে অরিন্দম কে সমর্থন বা করতে পারিস না ,অরিন্দমের জন্য তোর খারাপ লাগলেও ওর সাহায্য করতে টিচার কেও কখনো রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিসনি। অন্যায় দেখেও,নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ,শুধু ভয়ের কারণে চুপ করে থাকিস তুই ,স্বাধীন হতে গেলে তো ভয় পেলে চলবে না তাতান ,তুই যদি নিজের ভয় কাটিয়ে একদিন স্বাধীন হয়ে যাস ,যেটা উচিত সেটা করতে পারিস আর যেটা অনুচিত সেটাকে আটকাতে পারিস ,হতে পারে তোকে দেখে আরো অনেকে তোর ক্লাসে তোর মত স্বাধীন হতে চাইবে , সেটা অরিন্দমও হতে পারে অথবা অন্য কেউ ।
তাতানের সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে অনেকটা চলে এসেছে বৃষ্টি , তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে দেখল ,সেও তাতানের পাশে চুপ করে হাটছে।বৃষ্টি হেসে বলল ,”বুঝলি তন্ময় ! এবার আমার তাতান কিন্ত স্বাধীনতার মানে জানে ,আর সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন করে ঠকানো যাবে না !”
তন্ময় হেসে বলল : জেরক্সের দোকান এসে গেছে ,আমার সময় লাগবে একটু ,তোরা চলে যা ।
তাতান হঠাৎ বলল : দিদিভাই ! ওই মিষ্টি লজেন্স টা কিনে দে না আগের দিনের মত ,এই দোকানেই তো পাওয়া যায় ।
বৃষ্টি হেসে বলল : আচ্ছা ,চল ।
তন্ময়ের জেরক্সের অর্ডার বুঝে নেবার পর দোকানদার বৃষ্টিকে লজেন্স দিতেই সে দেখল পাশে তাতান নেই ,বাইরে তাকাতেই দেখল উল্টো দিকে চায়ের দোকানে জটলা করে বসে থাকা পার্টির ছেলে দের দিকে যাচ্ছে তাতান । বৃষ্টি কিছু বুঝতে না পেরে এগিয়ে যেতেই শুনলো তাতান রাস্তায় শুয়ে থাকা একটা কুকুরের দিকে হাত দেখিয়ে দোকানের অনেকের সাথে বসে থাকা মাঝখানের ছেলেটাকে বলছে ” কাকু ? তুমি ওকে ফুলঝুড়ি জালিয়ে ভয় দেখাচ্ছ কেন? তুমি কি স্বাধীনতার মানে জানো না?যা ইচ্ছা তাই করলে চলবে না ,নিজের ইচ্ছা যদি অন্যের ওপর হওয়া অন্যায়ের কারণ হয় সেটাকে আর স্বাধীনতা বলে না , বলে সেচ্ছ্বাচারিতা !” ছেলেটা প্রথমে খানিক টা অবাক হয়ে তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে তাতানকে বলে , ” ওরে ব্বাস! এইটুকু ছেলে হলে কি হবে,কি তেজ দেখেছিস ! বাবা র নাম কি রে তোর ?” পাশে বসে থাকা বাকিরা হেসে উঠলো ।
বৃষ্টি দৌড়ে এসে তাতানের হাত ধরে টেনে বলে ,” চলে এসো তাতান ! কতবার বলেছি এভাবে অচেনা মানুষদের সাথে কথা বলতে নেই ।”
তাতান : কিন্তু দিদিভাই ! তুই যে একটু আগেই আমাকে ..
তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বৃষ্টি উচু গলায় বলল : তাতান! মুখে মুখে তর্ক করবে না একদম । বাড়ি পৌঁছনো অব্দি আমি যেন তোমার মুখে আর একটাও কথা না শুনি ।
হঠা ৎ তন্ময় এগিয়ে এসে চায়ের দোকানের ছেলেটা কে বলল ,” আরে বাবাই দা ! কেমন আছো গো ? বাড়িতে সব ভালো ?”
ছেলেটা একগাল হেসে বলল , ” ওই চলছে রে ভাই ,তুই তো আমাদের পাড়ার গর্ব , মাধ্যমিকের রেসাল্টের দিন টিভি র লোকে এসেছিল তোর বাড়িতে শুনলাম ,আমার ওই সেদিন ই M L A শৈলেশ দার ইমার্জেন্সি কাজ পরাতে থাকতেই পারলাম না ধ্যুর ! তোর সাথে আমাকেও টিভি তে দেখাত ,নেপুকে তো একঝলক দেখিয়েছে শুনলাম কোন একটা চ্যানেল ,মালটা ঠিক সময় জায়গায় গিয়ে দাড়িয়ে পরেছে মাইরি !এত আপসোস হয় রে আমার কি বলব , যাইহোক তুই তো সামনের বছর উচ্চমাধ্যমিক – জয়েন্ট না আরো কি কি পরীক্ষা দিবি সবাই বলছিল , এবার কিন্তু আমার টিভি তে এন্ট্রি চাই ! পাড়ার অনুষ্ঠানে এবার তোকে একটা প্রাইজ দেওয়া হবে সবার তরফ থেকে।”
মাত্রাহীন রাগে তন্ময়ের দিকে পুড়িয়ে দেওয়া চাহনি তে দেখে বৃষ্টি বিদ্রুপের স্বরে বলল , “তাহলে মাধ্যমিকের ফার্স্ট বয় ! তুই তোর অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে প্রানের বন্ধুদের সাথে আলোচনা কর ,আমরা এগোলাম।”
তন্ময় শুধু বলল ” না দাড়া ,আমিও যাব !” , তারপর বাবাই দার দিকে দেখে তন্ময় বলল , “ধন্যবাদ বাবাই দা ! আর বলছিলাম ,তাতান আমার ভাইয়ের মত ,ওর কথায় তুমি কিছু মনে করো না ! “
আর সহ্য করতে পারছিল না বৃষ্টি,রাগে সারা শরীর তার জ্বালা করছিল, নিজের ঠোঁট কামড়ে মাটির দিকে তাকালো সে ,হাতে শক্ত করে ধরা তাতানের হাত |
বাবাই দা : ধ্যুর ! কি যে বলিস ! ও বোধহয় কুকুর বেড়াল ভালবাসে ,আসলে আজকে তো স্বাধীনতা দিবস ,পাপ্পু বাজি কিনে আনতে ওই লালু র সাথে একটু মজা করছিলাম !
তন্ময় এবার শক্ত হয়ে বলল : এটা তোমার মজা হলেও কুকুর টার মজা নয় বাবাই দা , সব জীব জন্তুই আগুন দেখলে আর শব্দ শুনলে ভয় পায়,এভাবে অবলা জীবকে কষ্ট দেওয়া খুব অন্যায় বাবাই দা ,তোমার মত পরোপকারী মানুষ কে তো এসব মানায় না ।
বাবাই দা এবার একটু লজ্জা র ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে জিভ কেটে বলল : আরে ! এটা পাপ্পুর বুদ্ধি ! এই আমি প্রথমে বারণ করেছিলাম কিনা বল ?
পাপ্পু নামের ছেলেটা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেই বাবাই দা বলল :দেখলি তো ! যত নচ্ছার জুটেছে দলে ,এ তদিনের রেপুটেশন টাই মাটি করে ছাড়বে ,এই নারান দা ! লালুকে ৪ টে বিসকুট দাও তো , আর হিসেব টা আমার খাতায় লিখে রাখো ।
তন্ময় হেসে বাবাই দা র কাধে হাত রেখে বলল “আচ্ছা বাবাই দা ! এগোলাম তাহলে ।
বাবাই দা এক গাল হেসে বলল : আচ্ছা ভাই ! ভালো থাক ,আবার দেখা হবে !
বৃষ্টি তাতানের হাত ধরে বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো । তাতান হঠাৎ বলল , ” তন্ময় দা স্বাধীন , তাই না দিদিভাই ? “
বৃষ্টি উত্তর না দিয়ে বলল ,”ওই বাড়ির গেট দেখা যাচ্ছে ,সোজা গিয়ে একদম বাড়িতে ঢুকে যাও , আমি আসছি এখনি !”
তাতান মাথা নাড়িয়ে এগিয়ে যেতেই বৃষ্টি তন্ময় কে উঁচু গলায় বলল : এসব নাটকের কি দরকার ছিল ? যতসব লোফার ছেলের দল ! ওদেরকে ঐসব লেকচার দিয়ে কি লাভ হল তোর ?তোর কি মনে হয়! ওরা রাতারাতি সব বুঝে গেল ? এখন গিয়ে দেখ! আবার একই কাজ করছে হবে !
তন্ময় শান্ত গলায় বলল : জানি।
এবার বৃষ্টি আরো রেগে গিয়ে বলল : জানিস তো নিজের ,আমার ,তাতানের এতটা সময় নষ্ট করলি কেন তুই ? গায়ে জ্বর নিয়ে রোদের মধ্যে দাড়িয়ে এইসব জঘন্য লোকজনদের ভাষন না দিলে তোর কি চলতো না ?
তন্ময় এবার ভারী গলায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বলল : না ,চলতো না । আজ আমি যা বলেছি বা করেছি ,তা না করলে তোর তাতানকে শেখানো স্বাধীনতার মানে সারাজীবন ওর কাছে মিথ্যে হয়ে থেকে যেতো বৃষ্টি ! বাবাই দা রা না বুঝতে পারলেও তাতান পেরেছে। বৃষ্টি ! বাংলা শেখার মত স্বাধীন হওয়াও যে ওকে শিখতেই হবে !
বৃষ্টি র চোখ ভিজে এলো , তন্ময়ের দিকে আর না তাকিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল সে ।
swadhinata ar sechachirita er difference ta koo sundor vabe bojhano hoeche…
LikeLike