চাওয়া পাওয়া

Comments 2 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

লেকের ধারে একা একা চুপ করে বসে থাকা রাত্রির পাশে গিয়ে বসলো মৃগাঙ্ক। রাত্রি তাকে দেখেও না দেখার ভান করতে সে বলল , “কিরে রাত্রি মন খারাপ ? কারোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না ?”

রাত্রি মৃগাঙ্কর দিকে না তাকিয়েই উত্তর দিল “বলতে পারিস।”

মৃগাঙ্ক : কেন ? মন খারাপ কেন তোর ? কেউ কিছু বলেছে ?

রাত্রি : সবসময় কেউ কিছু বললেই বুঝি মন খারাপ হয় ?

মৃগাঙ্ক : বুঝলাম। তা মন খারাপের কারণ যখন বলবি না ,তখন অন্য কথা বলি,ভালো না লাগলে বলিস চলে যাবো।

রাত্রি : পৃথিবীর সব মেয়ের মন ভালো করার গুরু দায়িত্ব বুঝি তোর উপর ?

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : আগে পাশে বসে থাকা মেয়েটার মন ভালো করার চেষ্টাতে তো সফল হই তারপর না হয় বাকিদের কথা ভাবা যাবে।

রাত্রি : আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস কিরকম মেঘ করে এসেছে ! এখনি বৃষ্টি নামবে মনে হয়।

মৃগাঙ্ক : যাক ,আমি না পারলেও বৃষ্টি তোর মন ভালো করে দেবে ,আর সকলের মত তুইও নিশ্চই বৃষ্টি ভিজতে ভালোবাসিস ?

রাত্রি : না।

মৃগাঙ্ক : তোর বৃষ্টি ভিজতে ভালো লাগে না ?

রাত্রি : বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়ে মাইলের পর মাইল হাঁটার সময় অজস্র লোভী চোখের লালসাময় দৃষ্টির শিকার হয়েছিস কখনো ? যদি হতিস তাহলে ওই কাব্যিক ভালবাসার বদলে যা থাকতো তা হলো শুধুই দুঃস্বপ্ন।

মৃগাঙ্ক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল : আচ্ছা ওই ফুল টা কিরকম অন্যরকম দেখ,তুলে নিয়ে আসবো তোর জন্য?

রাত্রি : না। তোর ভালো লাগলে তুই রাখ , আমি তার সৌন্দর্যের যোগ্য কদর করতে পারবো না।

মৃগাঙ্ক : তোকে বুঝি ফুল ও আনন্দ দেয় না ?

রাত্রি : না , আমার পাওয়া সব ফুলের মধ্যে প্রেরকের সুপ্ত বাসনার স্বার্থ ফুলের সৌন্দর্য অব্দি আমাকে কখনো পৌছাতে দেয়নি।

মৃগাঙ্ক (হেসে) : আমাকেও তাহলে তুই সেই দলেই ফেলিস।

রাত্রি : তা নাহলেও অনেকদিনের ভালো না লাগার অভ্যেস হঠাৎ কি করে বদলাই বল ?

মৃগাঙ্ক : রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনবি ? ভয় নেই আমি গাইব না ,মোবাইলে বাজাবো।

রাত্রি : একদম না, জমা মনখারাপ কে মুহুর্তে চোখের জলে রুপান্তরের কৌশল রবীন্দ্রনাথের থেকে ভালো কেউ জানে না।

মৃগাঙ্ক: তবে আর কি ! বারবিকিউ চিকেনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে ,চল এবার ,খাবি তো ?

রাত্রি : না ,এখন আমার চিকেন খেতে ইচ্ছা করছে না ,তুই গিয়ে বাকিদের সাথে খাওয়া দাওয়া কর ,এভাবে আমার কাছে বসে পিকনিকের আনন্দ নষ্ট করিস না।

মৃগাঙ্ক: চিকেন আমারও বিশেষ পছন্দ নয় ,তার বদলে যদি মায়ের হাতের মুড়ি ঘন্ট হতো আহা ! আমাকে বিদায় করার তোর এতক্ষণের চেষ্টা আমি নিজের অজান্তেই সফল করে দিতাম।

রাত্রি হেসে বলল : আর তার সাথে আমার মায়ের হাতের আলু বড়ি দিয়ে তৈরী সাদা সুক্ত যা আমাকে কিছুতেই এখানে একা একা বসে থাকতে দিত না।

মৃগাঙ্ক: তুই ঠিক আমার মতই পেটুক গোছের।

রাত্রি হেসে বলল : তোর থেকে অনেক অনেক বেশী। জিরো ফিগারের হাতছানি আমি অবলীলায় উপেক্ষা করলেও থালা ভরা রঙ বেরঙের মিষ্টি র স্বপ্ন মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙিয়ে ঠিক ফ্রিজের দরজার সামনে দাড় করিয়ে ছাড়ে।

মৃগাঙ্ক (সজোরে হেসে ) : যা বললি তারপর এই প্রশ্ন টা সত্যি অপ্রয়োজন ,তবুও করছি ,তুই বুঝি মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসিস ?

রাত্রি : ভীষণ ।আমার বাবার তো মিষ্টির দোকান ,স্কুলের গরমের ছুটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল রাত জেগে সবার সাথে মিষ্টি বানানো, তার মধ্যে ক খানা যে সবার অগোচরে মুখে পুরে ফেলতাম তার হিসেব সত্যি কখনো করিনি।

মৃগাঙ্ক : কিছু হিসাব বোধ হয় না করাই ভালো নাহলে যোগ বিয়োগের সীমাবদ্ধতা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়ে যাবে।

রাত্রি : একদম ঠিক। ছোটবেলার বেহিসাবী মন আর নিশ্চিন্ত ঘুমের রাতগুলোর জুরি মেলা ভার।

মৃগাঙ্ক : আচ্ছা তুই লক্ষী পুজোতে আল্পনা দিয়েছিস কখনো ?

রাত্রি : কতবার দিয়েছি কিন্তু সে আল্পনায় লক্ষীর পাঁচটা আঙ্গুল হয় থেবড়ে গিয়ে আলাদা ভাবে বোঝা যেত না অথবা এতটাই দূরে দূরে থাকতো যে হঠাৎ দেখলে গোরিলার পায়ের ছাপ মনে হতে পারে।

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : গোরিলার হলেও পা তো আঁকতে পারতিস ,আমি চেষ্টা করেও যখন পা ,ফুল ,পাতা কিছুই আঁকতে পারতাম না তখন সব জল ন্যাকরা দিয়ে মুছে দিতাম কিন্তু শোকাবার পর বুঝতে পারতাম ঠিক মত মুছতেও পারিনি , মেঝে জুড়ে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়ে থাকা সাদা দাগ দেখে বাড়ির লোকজন আমাকে পেলেই গম্ভীর ভাবে প্রশ্ন করত ” এত সুন্দর আল্পনা কে করলো বলত টুটুল ? “

রাত্রির খিল খিল হাসি কিছুক্ষণ উপভোগ করে মৃগাঙ্ক বলল ” জানিস রাত্রি আমার কাছে মায়ের পাঠানো একটা জিনিস সবসময় মজুত থাকে যা শেষের দিকে হলেই মা নগেন কাকা কে দিয়ে আবার পাঠিয়ে দেয় ,আজও তা আছে আমার পকেটে ,তুই যদি বলিস তোকে তার থেকে ভাগ দিতে পারি। “

রাত্রি হাসি থামিয়ে বলল ” কি জিনিস রে ?”

মৃগাঙ্ক বলল : নাম বলছি না তবে ক্লু দিচ্ছি ,সেটা হল লক্ষী পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

রাত্রির চোখ খুশিতে জ্বল জ্বল করে উঠলো ,পকেট থেকে বার হওয়া মৃগাঙ্কর হাতের মুঠো রাত্রি নিজের হাতে মুহুর্তে খুলে ফেলে সব কটা একসাথে মুখে পুরে চোখ বন্ধ করে বলল : আহ ! অমৃতর আরেক নাম বোধহয় নারকেলের নাড়ু ,বুঝলি মৃগাঙ্ক ?

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : সব মন খারাপ তুই একসাথে গিলে ফেললি ?

রাত্রি চোখ বুজেই বলল : গিলে তো তোর আল্পনার গল্পের সাথেই ফেলেছিলাম ,নাড়ুর স্বাদে তা হজম হল মাত্র !

2 thoughts on “চাওয়া পাওয়া

  1. পিংব্যাকঃ চাওয়া পাওয়া নিয়ে উক্তি জীবনের চাওয়া পাওয়া নিয়ে উক্তি

  2. apurba mistry's avatar

    erokom mon valo kora..r situation galpe..i hae. sotti bolte erakom meaningful ekta situation jekhane sudhu kotha ekta reletion e gobhirota ane amar life e hae ni. keu hae to dami gift er ashae keu hae to karor bike er back seat e. keu ba handsome hunk er abohela..e seta khuje peye6e. practicality bad diye kno meye ki aj swapno dekhte chae? . naki swapno dekha aj ker din e practicality hariye6e?

    Like

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান