244-1139

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

পাখি কলেজ লাইব্রেরীতে ঢুকে অম্লানকে দেখতে পেয়ে ওর সামনের চেয়ারে বসে বলল , “তোর কাছে বেলা ম্যাডামের নম্বর টা আছে ?”

অম্লান অল্প হেসে বলল : কেন থাকবে না ?একেবারে মনের মনিকোঠায় সেভড আছে সেই কবে থেকে ,টুকে নে ,244-1139 ।

পাখি অবাক হয়ে বলল : এটা কি ? মোবাইল নম্বর দে।

অম্লান নির্বিকার ভাবে বলল : মোবাইল নম্বর তো জানি না ,ওই একটাই নম্বর উনি বার বার বলেছেন।

পাখি এবার রেগে গিয়ে বলল : কিসব উল্টো পাল্টা ,আমি কার কথা বলছি বলতো ?

অম্লান : তা জানি না তবে ওই নামে একজনের নম্বর ই আমার কাছে আছে ,বেলা বোস ,চিনিস নিশ্চই ?

পাখি : না ,সে আবার কে ? তোর নতুন গার্ল ফ্রেন্ড ?

অম্লান : না রে ,আমার নারী ভাগ্য বরাবর মন্দ। পা ভাঙার ভয়ে রঞ্জনার পাড়াতেও আর যাওয়া হল না আর কালো সাহেবের মেয়ে খ্রীস্টান বলে বাড়িতে সবাই বাগড়া দিল , শেষে বেলার সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় পাকা হয়েই এসেছিল কিন্তু ভেঙে দিল টেলিফোন দপ্তর, বার বার এভাবে wrong number এর অজুহাতে যেকোনো মেয়েরই সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক।তাও আবার ওদের নিজেদের বাড়িতে ফোন নেই ,পাশের বাড়ির কাকিমা বাতের ব্যথা নিয়ে ওকে ডাকতে যেতেই ফোন কেটে যেত। এভাবে কি আর সম্পর্ক টেকে !তারপর আর কি !এগারোশো টাকার চাকরী ছেড়ে অগত্যা আবার কলেজে ঢুকলাম ,প্রেম ই যখন নেই তখন আর ১০ টা ৫ টার চাকরীতে মোটিভেশন কোথায় !

পাখি : নামগুলো খুব চেনা চেনা লাগছে ,সে যাই হোক তোর প্রেমের ইতিহাস শোনার আমার সময় নেই ,একজন টিচারের নম্বর চাওয়াতে এত সব বিপত্তি।

অম্লান : তোর মত সব সাবজেক্ট এর জন্য আমি কোচিং এ দৌড়ই না বুঝলি ! আমার কাছে টিচার মানে একজনই ,সে হলো Mr Hall , পকেটে আধখাওয়া ফলের এনার্জি নিয়ে পেদিয়ে লাট করে দিত তবুও একটা ভীষন ভালবাসার টান , আজও একটুর জন্য বেরিয়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেলের শব্দ মনটা কেমন আনমনা করে দেয়,খুব মনে হয় জানিস পাখি ,মাঝ রাস্তায় এর ওর সাথে ধাক্কা না লাগলেই ট্রেনে ওনার সাথে শেষ দেখাটা ঠিক হয়েই যেত আমার।

পাখি : Mr Hall বলে এ কলেজে কেউ পড়ায় বলে তো শুনিনি, এ নিশ্চই তোর রাত জেগে টিভিতে সিনেমা দেখার ফল !

অম্লান :মোটেই না ,উনি বারণ করার পর আমি একদম আর টিভি দেখি না।

পাখি : এই উনি টা কে ? নিশ্চই ভগবানের স্বপ্নাদেশ পাসনি ! সে যাই হোক টিভি দেখিস না তো একা থাকলে করিস টা কি ?

অম্লান : একা তো আমি থাকি না ,একা লাগলেই আব্দুল মানান হোসেনের রিক্সা চড়ে আলতাভ ফকিরের বাঁশি শুনতে চলে যাই। আর কোনদিন বৃষ্টিতে বাড়ির সামনের ম্যাকলয়েড স্ট্রিট হাঁটু জল হয়ে থাকলে তো বেরোবার উপায় থাকে না ,তখন জানলা খুলে আকাশ দেখি।

পাখি : মাথাটা একেবারে গেছে মনে হচ্ছে ,ভালো ডাক্তার দেখা।

অম্লান : দেখিয়েছি তো ,বলেছে হাওয়া বদল লাগবে।

পাখি : আমি প্রথমেই আঁচ করেছিলাম ,রাঁচির টিকিট বেশ সস্তা এখন ,যা গিয়ে ঘুরে আয় চটপট ,আর বেশী দেরী করলে ভীষন বিপদ, তোর না হলেও আশে পাশের লোক জনের।

অম্লান : রাঁচি নয় ,রাঁচি নয় , পাহাড় ! ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে পরিস্কার লেখা দার্জিলিং র কাঞ্চনজঙ্ঘাই শুধু আমাকে দিতে পারে সঞ্জীবনী সুধা ,তোর বোঝার সুবিধার জন্য বলি ব্যাপরটা অনেকটা ওই বিশল্যকরণীর মত।

হঠা ৎ লাইব্রেরী ম্যাডাম ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে মুখে আঙ্গুল দেখাতেই অম্লান মুখ টা পাখির কানের কাছে নিয়ে গিয়ে বলল “এবার ওনার লেটেস্ট সিনেমার মত একদম নির্বাক হয়ে যা। “

পাখি রেগে উঠে যেতেই অম্লান হেসে ওর পিছু নিয়ে বলল “এভাবে যাস না পাখি ,তুই না থাকলে কালকের সকালবেলার চা তে পুরো চিনির প্যাকেট ঢেলে দিলেও যে পানসে ভাবটা কিছুতেই যাবে না । “

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান