সুমন : পূজো তে কটা জামা হল তোর ?
আত্রেয়ী : ১২ টা।
সুমন : সেকি রে ? পূজো তো ৫ দিন , হিসেব মিলাতে হলে তো ২ বেলা নিয়ম করে জামা বদলাতে হবে !
আত্রেয়ী : তা কেন ? দুর্গাপূজার পরেও তো আরো কত পূজো আছে , সেগুলোর হিসেব ভুললে চলবে কেন ,তাছাড়া ছোটবেলায়
আরো অনেক বেশী জামা হত , এই হিসেব মিলাতে আমার কখনই কোনো অসুবিধা হয়নি !
সুমন : অক্সিজেন যেখানে নাকের ফুটো খুঁজে পায় না ওই চিড়ে চ্যাপটা ভিড়ে ,সেখানে কে দেখবে তোর রঙ বেরঙের জামা ?
আত্রেয়ী : দুগ্গা ঠাকুর ! বাড়ির লোকজনের সাথে পাড়ার একই ঠাকুর বার বার দেখতে গেলেও অতি বড় মহিষাসুরও বলতে পারবে না
আমার একদিনের জামার সাথে অন্যদিনের জামার কোনোদিন মিল ছিল।
সুমন : বুঝলাম ! তা কে দিল তোকে এত জামা ?
আত্রেয়ী : শুধু আমাকে দেবে কেন ? দিদিভাই কে দিয়েছে ৬ টা , বোনকে ৪ টে ,আমাকে ২টো !পূজোর কটা দিন প্রতিবার আমরা তিন বোন একসাথে কাটাই। দিদিভাইয়ের মামা আর মাসির সংখ্যা বেশী হবার লাভ ,আমি আর বোন সেই ছোট থেকে চুটিয়ে ভোগ করছি , বোনের মামা থাকলেও মাসি নেই , আমার মা তো এক মেয়ে তাই অগত্যা বাবাই ভরসা । সর্বসাকুল্যে তাই আমাদের ১২ টা জামা হয়েছে পুজোতে।
সুমন : মানে তোরা একই জামা তিনজনে পড়িস ?
আত্রেয়ী : তাতে কি ! আরে দিন টা তো আলাদা ! লক্ষীর কোনদিন সাদা শাড়ি পড়তে ইচ্ছা করলে সরস্বতীর আলমাড়ি কি তার সে ইচ্ছাপূরণ করবে না ? শ্মশানচারী শিব ঠাকুরের রোজগার আমার বাবার চেয়ে কম বই বেশী তো হবে না তাই দুগ্গা ঠাকুরও নিশ্চই নিজের সাংসারিক অভিজ্ঞতায় আমার মা -জ্যেঠিমা -কাকীমার মত নিজের ছেলেমেয়েকে ‘আমার’ এর বদলে সবসময় ‘আমাদের’ ভাবা শিখিয়েছেন।স্বার্থের হিসেব যে যোগের থেকে বিয়োগ ই বেশী করে সে সত্যি আমার মা জানলে দুগ্গা ঠাকুর কি
জানে না ভেবেছিস ?
সুমন : সে না হয় জানেন উনি ! কিন্তু তোদের জামা ছোট বড় হয় না ? যতদুর জানি তোরা তিনজন তো একই বয়সী নস।
আত্রেয়ী : ছোট হয় না কখনো কারণ সবাই কে দিদিভাইয়ের মাপ বলা , আমি আর বোন পরার আগে পাশ মুড়ে নি , তাতে ১৫ মিনিটের বেশী লাগে না।
সুমন হেসে বলল : যাক তাহলে ‘uniqueness’ র বাজার লক্ষী সরস্বতীর মত তোর মাথাটাও এখনো খায়নি দেখছি। সুকুমার রায়ের আমলে গোঁফ দিয়ে লোক চেনা যেত , লোকজন যেভাবে ডিসাইনার পোশাকের পিছনে ছুটছে তাতে মনে হচ্ছে কিছুদিন পর পাসপোর্ট আর লাগবে না ,তার বদলে পরনের পোশাক ই যথেষ্ঠ হবে ।
আত্রেয়ী : তাহলে তো প্যান্টালুনস , ওয়েস্টসাইট ,শপার’স স্টপ ইত্যাদি পাইকারী স্টকের ব্র্যান্ড নামগুলো অনশনে বসবে আর রাস্তার বদলে ব্যাঙের ছাতার মত রাতারাতি গজিয়ে ওঠা ডিসাইনার বুটিকের ছাদ দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হবে।তবে পোশাকের ‘uniqueness’ কনসেপ্ট টা ইমপ্লিমেন্ট হলে অলৌকিক হেরফের হবে আমাদের দেশের জনসংখ্যার হিসেবের খাতায়!
সুমন: মানে ঠিক বুঝলাম না , কিরকম হেরফের ?
আত্রেয়ী : হালকা সবুজ শাড়ির আঁচলে সাদা রঙে করীনা কাপুর লেখা – ১ জন , what an uniquness! একই পোশাকে অন্য কাউকে দেখা গেলে চুরির অভিযোগের সাথে সাথে কপিরাইটের কেসও যোগ হবে,idenitity নিয়ে মজা করা বেরিয়ে যাবে।
লাল জামার কলারে লেখা ‘S K’ – ১ জন , আরে শাহরুখ খান নয় ,ওনার S ছোট , এটা হল সলমন খান। জনসংখ্যার হিসেবের খাতায় আরো ১ যোগ হল।
কোনো পোশাক কেনার সামর্থ নেই তাই যেকোনো উৎসব ও সাধারণ দিনে বিনা ব্যতিক্রমে খালি গা – ১২০ কোটি , ওহ! থুড়ি , ‘uniquness’ র হিসেবে ১ হবে তো!
এবার বুঝলি তো হেরফের টা কোথায় হবে !
ধন্যবাদ ,
BongNote