কাঠগড়া তে মুখের বদল , অপরাধের নতুন নালিশ ,
বিচারকের আসনে তুই ,তেমনি যেমন আগেও ছিলিস,
পরের দোষে ভাঙিস কলম, কালির দাগে ঢাকিস রক্ত,
জীবন বইয়ের শেষের পাতায় অপেক্ষাতে প্রায়শ্চিত্ত!
ভরা সভায় নাম কুড়াতে , দিলি যাকে “বেশ্যা ” আখ্যা ,
পরিস্থিতির স্বীকার নারী , চেয়েছিল তোর বিচার ভিক্ষা !
কর্তব্যের পুতুল সেজে , অপমানে মিশিয়ে ঘৃনা ,
জুয়ার দানে বিকিয়ে দিতে বেশ্যা বলেই পারলি কিনা !
তোর হিসেবে আগুন নাকি করবে দেহের শুদ্ধি বিচার ,
নিবার্সনই ভাগ্যে যখন , শুদ্ধিতে কি লাভ হবে তার ?
আগুন যদি সত্যি পারে , পবিত্রতা ফিরিয়ে দিতে,
তোর কদাকার মনটাকে তো পারিস খানিক ঝলসে নিতে!
স্ময়ং ভুলে ভালোবেসে মেয়েটি হল কলঙ্কিনী ,
হারিয়েছে সব কিন্তু তবু তোর কাছে সে হাত পাতেনি,
চরিত্রে তার ঢালিস কালি ,উপাখ্যানের মন্দ ভালো ,
ঠিক বেঠিকের হিসাব খানি তোকেই বা কে কষতে দিল ?
যার তীক্ষ্ণ কলম করে দিকভ্রান্ত ধর্মে আঘাত ,
তোর বানানো শহরে সে ,লুকিয়ে কাটায় সারাটা রাত ,
অধিকারের কোন হিসেবে, পেয়েছিলি বর স্পর্ধা মাপার ?
দোষ যদি সে করেও থাকে ,তুই কে তাকে শাস্তি দেবার !
হলই বা সে অহংকারী , উদ্ধত মন ছন্নছাড়া ,
নিজের শাসন নিজেই করে , নিয়ম মানে নিজের গড়া ,
তোর কী তাতে ঘটল ব্যাঘাত ? নিন্দা ভরা আঙ্গুল তুলিস ,
গন্ডি যদি এতই প্রিয় , নিজেও সেটার মধ্যে থাকিস !
সত্যি বোঝা শক্ত অনেক , বৃথাই শুধু চেষ্টা করিস ,
সহজ হবে হিসেব যদি মিথ্যাটাকে বুঝতে পারিস ,
মনের ভিতর শিকড় গেড়ে করছে যা তোর দৃষ্টি কালো ,
উপড়ে সেটা দ্যাখ না যদি পাস খুঁজে তুই একটু আলো !