ছদ্মবেশী

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

চঞ্চল কাঠবিড়ালীর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভগবান রোজের মতন আজও মন দিয়ে নিরীক্ষণ করছিলেন মেয়েটিকে। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া নিশ্চই জরুরি , কিন্তু তার গুরুত্বের মাত্রা কি ঈশ্বরকেও ব্যাকুল করে ? কিন্তু তা কি করে সম্ভব! তিনি তো ত্রিকাল জ্ঞানী , কৌতূহল যে তাকে স্পর্শ করতে পারে না ! তবুও অসাধারণের মোড়ক খুলে স্বয়ং স্রষ্টাকে অতিসাধারণ ছদ্মবেশের আড়াল নিতে হয়, সে প্রয়োজনের সন্ধান দিতেই বুঝি তিনি মৌনতা ভাঙলেন আজ।

ছদ্মবেশী নদীর পারে একলা দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন ,

ছদ্মবেশী> তোমাকে প্রায়ই এইসময় নদীর পারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি , তুমি বুঝি কারো অপেক্ষা করো ?

মেয়েটি > হুম , নিজের । ভিড়ের মাঝে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টাতেই এই বিপত্তি । আসলে আমি তো আলাদা নই,আশেপাশের চেনা শতকরা ৯০ জনের সাথেই মিল খুঁজে পাবেন আমার , অতি সাধারণ চাওয়া পাওয়ার ঘেরাটোপের আড়ালে অসাধারণের মুখোশ পরে থাকা কি সহজ বলুন !

ছদ্মবেশী> একদম সহজ নয় , তা কেন পড়লে এমন বেমানান মুখোশ ?

মেয়েটি >সাধারণের মূল্য ধার্য করার সময় যে কারো হয়নি । অসাধারণ বলেই কিনা দ্রৌপদী শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা পেল, সবাই কি পায়!

ছদ্মবেশী > তোমার নিজেকে ফিরে পেতে ইচ্ছা করে না ?

মেয়েটি > সে ইচ্ছার টানেই তো রোজকার এই সময় বাঁধা নিয়ম । খুব অদ্ভুত হলেও ব্যাপারটা সত্যি । চোখের জলের ফোঁটা নদীর জলে একবার মিশতেই নিজেকে ফিরে পাই আমি , একদম খাঁটি নির্ভেজাল সত্ত্বা ।

ছদ্মবেশী > তাহলে কী আর সমস্যা! , সকালে যা হারালে বিকেলে তা কড়ায় গন্ডায় ফেরৎ ।

মেয়েটি >সমস্যা একটু আছে বৈকি , চোখের জল জমতে যে সময় লাগে ,কখনো কয়েক মাস , কখনো বা বছর , সহ্যের সীমা ছাড়ানোর নিরন্তর অপেক্ষা , অভ্যাসের জীবনে দুঃখ দুর্লভ কিনা !

ছদ্মবেশী > বুঝলাম ! তা তুমি কি করো ?

মেয়েটি > বিক্রি ,যা আসলে পুঁথি পড়া বিদ্যা কিন্তু পেশার কারণে গুণ বলতে হয় ।

ছদ্মবেশী >তাতে অভাব মেটে ?

মেয়েটি > টাকার ? তা মেটে , বাকি কিছুর অভাব কোনো পেশাই মেটাতে পারে না ।

ছদ্মবেশী >কখনো নিজেকে অসহায় মনে হয় ?

মেয়েটি > ভালোবাসার মানুষ গুলোকে সময় দেওয়া যখন বিলাসিতা মনে হয় , ঠিক তখন ।

ছদ্মবেশী >তুমি ভগবানে বিশ্বাস করো ?

মেয়েটি > না , আস্তিকদের ভিড় আমাকে বুঝিয়েছে স্বার্থের সম্পর্কে বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে হয়ে থাকে ।

ছদ্মবেশী >যদি তিনি সত্যি থেকে থাকেন আর তুমি তাকে হঠাৎ দেখতে পাও তাহলে কিছু চাইবে ?

মেয়েটি > চাইবো না , দেবো , তার অস্তিত্বে আমার স্বার্থহীন বিশ্বাস ।

ছদ্মবেশী >কিছু চাইবে না ? তার যে অদেয় কিছুই নেই । সুখ , অর্থ অথবা মোক্ষ , চাইতে দোষ কি ?
মেয়েটি >এক সুখ এক মানুষকে বেশীদিন সুখী রাখে না , অর্থ উপায়ের জন্য ভগবানের প্রয়োজন নেই,মোক্ষ ব্যাপারটা লোভনীয় হলেও ক্ষতির পরিমাণ টা বড় বেশী ।

ছদ্মবেশী > মোক্ষ লাভে ক্ষতি ?

মেয়েটি > ক্ষতি নয় ? বাকি জীবনের চাওয়া পাওয়া , সমস্যার লক্ষণরেখা , সমাধানের শক্তিশেল , নিংড়ে নেওয়া অভিজ্ঞতা ,সময়ের চাল বদল , গোনা কয়েক মুহূর্ত , ভালোবাসার গাট ছড়া , এসকলই যে দিয়ে দিতে হবে বিনিময় প্রথা অনুযায়ী , তাতেও সাফল্য প্রতিশ্রুত নয় । তাছাড়া চিরস্থায়ী যখন নয় আর পুরোটাই আমার , স্বাদ যেমনই হোক চেখে নিতে দোষ কি ? মানে জীবনের কথা বলছিলাম ।

ছদ্মবেশী (হেসে)> কখনো মনে মনে প্রার্থনা কোরো , নিজ সৃষ্টি র জন্য স্রষ্টার গর্ব যেন চিরস্থায়ী হয় , হৃদয় যেন সহস্র কোটি বছর । নিশ্চিত থেকো এতে তোমার স্বার্থ নেই , আছে অন্য কারো ।

ধন্যবাদ ,
রোমি

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান