আপনি সর্বকালের বিতর্কিত চরিত্র বাসুদেব ! আপনার কথা ও কাজের গূঢ় অর্থ ঘিরে গড়ে উঠেছে যুক্তি তর্কের সমুদ্র। আপনি বিশ্ব ব্রম্ভাণ্ডের অধীশ্বর , একাধারে কঠিন , জটিল , রহস্যময় , আপনাকে বুঝতে পারা আর মোক্ষলাভের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই । আপনার কৃত কর্মের বিশ্লেষণ জগৎ সংসারের সাধ্যের অতীত, সে গুরুদায়িত্ব যে আপনাকেই নিতে হবে।আপনার নির্দেশ অনুযায়ী তিনটি অভিযোগের চিঠি আজকের সভায় উপস্থাপন করবার জন্য আমি প্রস্তুত।অজ্ঞাত কারণে তিনজন অভিযোগকারীর প্রত্যেকেই নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। তাদের দাবী ,অভিযোগের শব্দ গুচ্ছ ই নাকি তাদের পরিচয় আপনার কাছে স্পষ্ট করে তুলবে। আপনার উত্তরবন্দি চিঠি অভিযোগকারীদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে দেবেন মহাকাল।
বাসুদেব কৃষ্ণ চেনা ভুবনমোহিনী হাসি মেখে কাঠগড়াতে পদার্পন করে বললেন : বেশ , আমি প্রস্তুত ।
সারথী সে আমার হলে বদলে যেত ভাগ্য ,
বাঁধবে আমার রথের চাকা , কার তা ছিল সাধ্য ?
শক্তির শেষ পরীক্ষাতে সাজল যে সে বাঁধ ,
সবটা জেনেও বাড়িয়ে দিল পক্ষপাতের কাঁধ।
রথের লাগাম ধরলে আমি , মিথ্যা হত শ্রম ,
অনুদানের ভিক্ষা ঝুলি পাতে যে অক্ষম ,
গান্ডীবকে আড়াল করে সুদর্শনের শক্তি ,
নিরপেক্ষ ইতিহাসের পাতায় লেখা সত্যি।
নিরস্ত্র সে মৃত্যু বরণ , যুদ্ধনীতির হার ,
কর্ণ! আমি পক্ষপাতী , কিন্তু ভেবো কার !
করলি মায়ের ধন্য জীবন , পাঁচ পুত্রের বরে,
দুঃখ গোপন যত্নে লালন ,গরীব সূতের ঘরে ,
পুত্র শোকই ভাগ্যে যদি , মিথ্যা সকল জয় ,
পাইনি যাকে তাকেই ভীষণ হারিয়ে ফেলার ভয় ।
ইচ্ছামতন বিধান লিখিস , ভাগ্যে ফলাস জোর ,
পাঁচের হিসেব খন্ড করার, সাধ্য ছিল তোর !
ধর্মরাজের ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিল পাপ।
ইতিহাসকে পুড়িয়ে দিল নারীর অভিশাপ ,
অস্থির মন, মায়ার বাঁধন, দিলাম প্রতিশ্রুতি ,
স্ময়ং হলাম যুদ্ধ চালক , কুটিল রণনীতি !
ধর্মচ্যুতির দোহাই দিয়ে , দিলাম যাদের শিক্ষা ,
তাদের মা যে পায়নি কেঁদে একটি প্রাণও ভিক্ষা।
পাঁচের হিসাব খন্ডাতে চায় কুন্তী মায়ের সুখ ?
বিচার হলে নিরপেক্ষ,মা তোর শূন্য হত বুক।
তৃতীয় অভিযোগ :
ভালোবাসার দোহাই দিয়ে, আগলে ছিলাম পথ ,
পাথর সমান সিদ্ধান্ত , থামলো না তার রথ ।
কাটল জীবন মনের কোণে প্রশ্নটিকে ঘিরে ,
কলঙ্কিনীর অবৈধ প্রেম আসবে কি আর ফিরে ?
অভিমানের প্রশ্ন সরল , “লাভ কী থেকে জমা “?
যমুনাকে তাই সাক্ষী রেখে , করেই দিলাম ক্ষমা ।
বিস্ময়ে কিছুক্ষণ মৌন থাকলেন বিচারক , চোখের কোণে চিক চিক করে উঠল জল , তা আড়াল করে আবার মোহিনীমোহন হাসিতে ভরিয়ে দিলেন সভা।
করলি ক্ষমা , ভুললি সকল , মুক্তি পেলি রাধে !
আমায় তবু রাখলি আজও , নামের সাথে বেঁধে !
পূরণ হওয়ার আশাই বৃথা ,স্বপ্ন এমন কত ,
সব কথা তো যায় না রাখা ,ইচ্ছা থাকুক যত।
আত্মভোলা অবৈধ প্রেম , স্বপ্নেতে যায় ফিরে ,
বাঁশির সুরে স্বস্তি খোঁজে , বৃন্দাবনের ভিড়ে !
ভলোবাসা তোরই থাকুক, আমি নিলাম দোষ ,
আজন্মকাল পুড়বো একা , অনুতাপের রোষ ।
ধন্যবাদ ,
রোমি