দুর্গতিনাশিনীর ত্রিশূল

Comment 1 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

রোদ্দুর কলেজ লাইব্রেরীর শেষের টেবিলে বসে থাকা ঈশানীকে কে দেখে হাসি মুখে এগিয়ে এসে বললো ,” হ্যাপি ওমেন্স ডে ঈশাণী”।
ঈশাণী অল্প হেসে জবাব দিল : থ্যাঙ্কস রে।
রোদ্দুর: তুই মন্দিরাদির আয়োজন করা নারী সভায় যাচ্ছিস না ?
ঈশাণী: নারী সভা ?
রোদ্দুর: হ্যাঁ , তুই ভালো করে ইমেইল দেখিসনি হবে , নিমন্ত্রণ পেয়েছিস নিশ্চই , মন্দিরাদির শকুনের চোখ , তুচ্ছাতিতুচ্ছ নারীর পক্ষেও তার চোখে ধুলো দেওয়া সম্ভব নয় , তুই তো আবার সাইন্সের ফার্স্ট গার্ল।
ঈশাণী: ইমেইল একটা এসেছে ঠিকই কিন্তু নারী সভা বলে কোনোকিছুর উল্লেখ নেই।
রোদ্দুর: চুক্তির কাগজ দেখিসনি কখনো ? যেটা উহ্য সেটাই হল গিয়ে আসল কথা ।
ঈশাণী: তা কী হয় সে সভায় ?
রোদ্দুর: বিস্তর আলোচনা। কিভাবে সূর্যকে পশ্চিম দিকে ওঠানো যায়,সে পুরুষের প্রতিরূপ বৈ কিছু নয়,তার স্বেচ্ছাচারিতা তো বেশীদিন এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আবার ধর , কিভাবে জন্মের প্রক্রিয়া থেকে পুরুষকে চিরতরে বাদ দিয়ে দেওয়া যায় , মানে ওই একটা ব্যাপার ছাড়া তো আর কোনো কার্যকারিতাই কোনো পুরুষ ইতিহাসে কোনোদিন প্রমাণ করে উঠতে পারেনি। একটা কথা তো তোকে মানতেই হবে যে ,আজ পৃথিবীর জনসংখ্যার অনুপাতে যে এক ভীষণ বৈষম্য,তার জন্যেও তো এই অত্যাচারী অকর্মন্য জাতিই একমাত্র দায়ী যাদের প্রধান অবসর বিনোদন হল শ্লীলতাহানি।
ঈশাণী: আমি এখানে তৃতীয় ব্যক্তি , তুই আর তোর মন্দিরাদি একমত , এই পৃথিবীর কাছে সেটাই যথেষ্ঠ । তা তুই সে সভায় না গিয়ে এখানে কী করছিস ?
রোদ্দুর: আমি ? মানুষের কথা ছেড়েই দে , মন্দিরাদির দলবল পুংলিঙ্গ বিশেষে পশুদেরও সে সভার কাছে ধারে ঘেষতে দেয় না। অনুষ্ঠান শেষে বাকি থাকা খাবার কোন কুকুর খাবে সেটাও লিঙ্গ বিচার করে তারপর ঠিক করা হয়। পুরুষ হল গিয়ে অচ্ছুৎ জাত , আর পাঁচ টা ছেলেদের মতো হ্যাপি ওমেন্স দের দূর থেকে দেখেই নিজ সম্মান কোনোরকমে বাঁচিয়ে রেখেছি এতদিন পর্যন্ত।
ঈশাণী: বুঝলাম।
রোদ্দুর কী বুঝলি ?
ঈশাণী: এই যে ,তুই মন্দিরাদি ও তার দলবলকে ভয় পাস।
রোদ্দুর: আমি কেন ? কলেজের সব ছেলেই পায়। বুকের পাটা নিজের জায়গায় , মন্দিরাদি নিজের,তার সঙ্গত কারণও আছে। মন্দিরাদি এই কলেজের সবচেয়ে পুরোনো শিক্ষিকা ,উনি যতটা মনোযোগ সহকারে পল সাইন্স পড়ান, ঠিক ততটাই পারদর্শী , পরীক্ষার খাতায় সূক্ষাতি সূক্ষ্ম ভুল খুঁজে বের করে অকারণে ফেল করানোয়।
ঈশাণী: পড়াশোনা না করলে ফেল করানোই উচিত।
রোদ্দুর: উঁহু। তুই অঙ্কে ভালো আমি জানি , কিন্তু কিছু অঙ্ক দেখে আইনস্টাইনও পেন কামড়েছেন হবে ,ব্যাপারটা খানিকটা ওরকমই ধরে না। মন্দিরাদির কাছে আজ পর্যন্ত যারা ফেল করেছে , তাদের আর কখনো পাশ করা হয়ে ওঠেনি। চক্রব্যূহ থেকে বেরোনোর উপায় যে একেবারেই ছিল না তা বললে ভুল হবে , কিন্তু যতদূর শুনেছি লিঙ্গপরিবর্তন অপারেশন খুব ব্যয়সাপেক্ষ , তাছাড়া আনুসাঙ্গিক ঝক্কিও তো কম নেয়। অগত্যা অভিমন্যুর পরিণতি। কাকতালীয় ভাবে বছরের পর বছরে শীত গ্রীষ্ম বর্ষা নির্বিশেষে ,পল সাইন্স বিষয়ে মেয়েরা অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে , যে বিভাগে কোনো ছেলে আজ পর্যন্ত পাশ করতে পারেনি , সেই একই বিভাগে কলেজের ইতিহাসে কোনো মেয়ে কোনোদিন ফেল করে উঠতে পারেনি ।
ঈশাণী গম্ভীর ভাবে বললো : যতসব বাজে রটনা।
রোদ্দুর: রটনা ? এই কলেজে আজ পলসায়েন্স বিভাগে একটাও যে ছেলে নেই সেটা কাকতালীয় ?
ঈশাণী: তা নয়তো কি ? পলসায়েন্স কোনোদিনই ছেলেদের পছন্দের বিষয় নয়।
রোদ্দুর: মোটেই না। যারা ছিল তাদের কিছু , বছরের পর বছর ফেল করতে করতে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে , আশার আলোরও তো একটা জীবনকাল আছে ! কেউ বা চির অভাগা উপাধি স্বীকার করার আগে ভাগ্যকে আরো একবার বাজিয়ে দেখতে চেয়েছে বলে বিভাগ পরিবর্তন করেছে । শুনেছি কয়েকজন বাড়ির লোকের গালাগালি সহ্য না করতে পেরে আত্মতহত্যাও করেছে । চাকরি না পেলে দেশ কে দায়ী করা যায় ঈশানী! কিন্তু পাশ করতে না পারলে কলেজকে দায়ী করতে পারার সুদিন শুধুই স্বপ্নে, তাছাড়া কেউ তো নারীবাদী মন্দিরাদির ব্যক্তিগত শত্রুতার অজুহাত বিশ্বাস করার জন্য বসে নেই ! তবে এসব এখন অতীত, রণে বনে জঙ্গলে মন্দিরাদির নিরপেক্ষতা এখন সবাই জানে , কোটি টাকার বাজি ধরলেও কোনো ছেলে প্রাণ হাতে করে এই কলেজে পল সায়েন্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আসে না।
ঈশানী হাসি চেপে স্বভাব মতো নির্বিকার ভাবে বলল : এভাবে লাইব্রেরীতে নয় বরং হঠাৎ বৃষ্টির দিনে লোডশেডিংয়ে চা মুড়ি খেতে খেতে ,আবেশে চোখ বুজে তোর মন্দিরাদির বাকি গল্প গুলো শুনবো।
রোদ্দুর: কথা দিলি যখন , তাই সই। তুই চল , তোকে সভার দুমাইল দূরে ছেড়ে দিয়ে আমি ক্লাসে যাবো।
ঈশানী : তুই ক্লাসে যা , আমি কোথাও যাবো না।
রোদ্দুর: কেন ? তুই নারীবিদ্বেষী ?
ঈশানী: না , তুই ক্লাসে যা।
রোদ্দুর: তুই তো আমায় ছোট থেকে চিনিস , ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ি। কারণ বলে দে , চলে যাচ্ছি।
ঈশানী: তুইও আমাকে ছোট থেকে চিনিস। আমি তখন সেটাই করি যখন যেটা করতে ইচ্ছে করে বা করা করা উচিৎ মনে হয়।
রোদ্দুর:হায় রে পুরুষ ! স্বেচ্ছাচারিতা তোমার স্বভাব কিন্তু তার যে রক্তে। সে যাক ,আমার প্রশ্নের উত্তর এটা নয়।
ঈশানী: তোর প্রশ্নটাই তো স্পষ্ট নয়।
রোদ্দুর:এই তো ! মন্দিরাদির ভাষা। সাতপাঁক কি শুধুই নিয়ম!সেই আদ্যিকাল থেকে পুরুষ নারীকে ঘুরপাক খাইয়ে আসছে নিজের চারিদিকে স্পষ্ট কারণ ছাড়া। এক্ষেত্রে একটু ব্যাতিক্রম আছে , মানে আমার প্রশ্নটা স্পষ্ট। তুই মন্দিরাদির সভায় বিশেষ আমন্ত্রিত দের মধ্যে একজন , না গেলে যে নারীবাদের অপমান হয়। তাই জানতে চাইছিলাম না যাওয়ার আসল কারণ টা।
ঈশানী: আসল কারণ যা তোকে দ্বিতীয় বার বলছি , আমার ইচ্ছা করছে না।
রোদ্দুর:তুই নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করিস ?
ঈশানী:হুম ।
রোদ্দুর:তুই নিশ্চই বিশ্বাস করিস ,যে পুরুষ রা নারীকে নির্যাতন করলে তার একটা বিহিত হওয়া উচিত।
ঈশানী:করি।
রোদ্দুর:এতদিন সমাজে নারীর অশিক্ষা বা পিছিয়ে থাকার পিছনে দায়ী পুরুষ ! তাই তো ?
ঈশানী:কিছুটা।
রোদ্দুর:শ্লীলতাহানির দায়ভার নারীর পোশাকের নয় , পুরুষের বিকৃত মানসিকতার।
ঈশানী:একদম।
রোদ্দুর:সূর্যের পশ্চিম দিকে ওঠা টা মজা ছিল। মন্দিরাদির সভার বিষয় আসলে এসবই থাকে , ক্লাসের মেয়েদের মুখ থেকে শোনা।প্রচুর জানা অজানা তথ্য নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয় , তোকে চিনি বলেই বলছি তোর ভালোলাগবে , তাই এই নাছোড়বান্দা অত্যাচার।
ঈশানী এবার হেসে বলল , তোর বুঝি মনে হয় আমি নারীবাদী ?
রোদ্দুর:ভীষণ রকম , সে নিয়ে কোনো তর্কে তো আজ পর্যন্ত তোকে হারতে দেখিনি।
ঈশানী:তোর মনে আছে ছোটবেলায় মহালয়ার সকাল বেলা আমরা ঘুমোতাম আর সোনাকাকু গরম জিলিপি মুখে দিয়ে জাগিয়ে দিতো ! আধবোজা চোখে দেখা মরমে মিশে যাওয়া সেই ঘটনাক্রমের সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য কোনটা মনে কর।
রোদ্দুর:কোনটা আবার ? মা দুর্গার অসুর বধ। ত্রিশূলের গায়ে রক্ত , আমাদের হাততালি , সোনাকাকুর আনা সব জিলিপি শেষ।
ঈশানী: ত্রিশূল টা কিন্তু মা দুর্গার নিজের নয় , ধার করা। শুধু ত্রিশূল কেন বাকি সব অস্ত্রগুলোও তাই ! ব্রম্ভাণ্ডের সৌভাগ্য বা মন্দিরাদির দুর্ভাগ্য যাই বলিস না কেন , অস্ত্র গুলো দিতে মা দূর্গা তাদের বাধ্য করেন নি , তারা স্বেচ্ছায় দিয়েছিলেন। পুরান বলছে, অসুরের দমনে ত্রিদেবের শক্তি পুঞ্জীভূত হয়ে মা দুর্গার সৃষ্টি , তাহলে অঙ্ক টা কি দাড়ালো ? মা দুর্গার সৃষ্টির কারণ ও কারী দুই ই পুরুষ । এত সহজ হিসেব মেলাতে নিশ্চই আইনস্টাইনকে পেন কামড়াতে হবে না।
রোদ্দুর:কিসব বলছিস ? পুরান তো ঘেটে দিবি তুই। তবে হিসেব টা সত্যি সহজ ,যারা পুরান লিখেছেন তারাও তো আসলে পুরুষই ছিলেন তাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তেই নারীর মহিমার আড়ালে পুরুষেরই গুনকীর্তন করেছে।
ঈশানী:তা না হয় হল। আদালতে অন্য সাক্ষ্মী প্রস্তুত করার অনুমতি আছে ?
রোদ্দুর:আছে।
ঈশানী:আমি তোর থেকে বেশি ভালো ড্রাইভ করি , গাড়ি হোক বা স্কুটার , সত্যি?
রোদ্দুর:একদম , আর আমিও তো সেটাই বলছিলাম ….
ঈশানী:আমাকে ড্রাইভিং শিখিয়েছে আমার দাদা। প্রথমে স্কুটার তারপরে গাড়ি । দাদা কোনোদিন সকালে উঠতে পারতো না,কত বকা মার খেয়েছে মায়ের থেকে। কিন্তু আমাকে স্কুটার চালানো শেখানোর সময়ে বিনা ডাকে ভোর পাঁচটায় উঠে পড়তো , রাস্তা ফাঁকা থাকে তখন , নইলে যে আমার ভয় -জড়তা কাটানো অসম্ভব ছিল , প্রথমদিন তো স্কুটার চলতে আরম্ভ করলেই চোখ বন্ধ করে ফেলছিলাম। বহুদিন পর্যন্ত সে ভয় আমার কাটেনি ,নিজে মরার থেকেও বেশী ভয় অন্যকে মারার । উফ ! কী দুর্বিষহ সে উপলব্ধি ! সকাল ৭ টায় গানের ছিল ক্লাস , স্কুটার চালানো থেকে বাঁচতে লুকিয়ে পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্যারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম । আমার কারসাজি বুঝতে পেরে একদিন দাদার সে কি বকুনি ! নাচ গানের থেকে এটা অনেক বেশী জরুরি , কতদিন আর মা আমাকে স্কুলে , কোচিংএ দিয়ে আসবে , সংসারের কাজের পরে একটু বিশ্রাম না নিলে মায়ের শরীর যে খারাপ হয়ে যাবে! খুব কেঁদেছিলাম সেদিন। দাদা বকেছে বলে নয় , দাদা মায়ের কষ্ট বুঝতে পেরেছে আর আমি পারিনি বলে। তারপর থেকে নিজ গন্তব্যে অন্যের সাহায্য ছাড়া সময়মতো পৌঁছতে আর কখনো কোনো অসুবিধা হয়নি। নারী স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ, এক পুরুষের তাগিদে ।

রোদ্দুর:আগেরদিন সন্তুদার সাথে রাস্তায় দেখা হয়েছিল , জোর করে গাড়িতে তুলে বাড়ি পৌঁছে দিল , পথে একটা গাড়ি উল্টোপাল্টা চালাচ্ছিল দেখে আমি মজা করে বলেছিলাম ড্রাইভার নিশ্চই মহিলা , সন্তুদা হেসে যে উত্তর টা দিয়েছিল তা আমার এখনও মনে আছে , “ড্রাইভারের কোনো লিঙ্গভেদ হয় না, ভালো হোক বা খারাপ । ”

ঈশানী: আমি ভেবেছিলাম বিএসসি র পরে চাকরী করবো , তুই তো জানিস পেয়েও ছিলাম। করিনি কারণ বাবা চেয়েছিল আমি মাস্টার্স করি , দাদা যেমন করেছে , ঠিক তেমন । রোজ সে তর্ক বিতর্কে র পর রাত ১টা বেজে যেত শুতে যেতে । শোয়া মাত্র ফোন আসতো দাদার , আমেরিকাতে তো তখন সকাল। বুঝতাম বাবা দাদাকে বলেছে আমাকে বোঝাতে উচ্চশিক্ষার প্ৰয়োজনীতা , বাবার ছেলেও অবিলম্বে সে দায়িত্ব পূরণে লেগে পড়তো ,কাজ কর্ম ভুলে । মায়ের নিরলস কাকুতিমিনতি , বাবা যা চায় তাই করলেই তো পারি , তাহলেই আমেরিকা ও ভারতে একসাথে শান্তি ফিরে আসে , ফলস্বরূপ দেখতেই তো পাচ্ছিস , তোর কলেজে ঠাঁই নিয়েছি । সমাজে নারীর অশিক্ষার জন্য কিছু পুরুষ নিশ্চই দায়ী , আবার আমার মতো নারী কে উচ্চ শিক্ষা নিতে যে বাধ্য করে সেও তো পুরুষই ।

রোদ্দুর হেসে বললো : ভাগ্যিস !

ঈশানী :আমার আজকের নিরপক্ষ স্বাধীন ধরন ধারনের জন্য দায়ী আরো একজন পুরুষ ,আপনি স্ময়ং মাননীয় মহাশয়।ছোটবেলা থেকে আমাকে না জানিয়ে আমার নামে ডিবেটের ফর্ম ভরে দিতিস । স্বভাবমত আজকেও তাই মন্দিরাদির আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঠাতে চাইছিলিস , আমার সাফল্যে খুঁজে পাস কী যে অজানা অলৌকিক আনন্দ । সেই ছোট থেকে চর্চা অজানা বিষয় , নতুন তথ্য , অদম্য কৌতূহল , অজান্তে অর্জিত শিক্ষা ,বুঝতে শেখা যা ঠিক তা বলতে হবে , সহজভাবে , নির্ভয়ে। অকাট্য যুক্তি প্রমাণের যোগ্যতা তর্কের পরিণাম নির্দিষ্ট করবে , সামনে বসা বিচারক বা প্রতিপক্ষের লিঙ্গ নয় । আত্মবিশ্বাসের অভাব হলে ভাবতাম আমার জয় নিয়ে তুই যদি এতটা নিশ্চিত হতে পারিস তাহলে আমার হতে অসুবিধা কোথায় ! হয়তো অজান্তেই একসময় তুই ধরালি ত্রিশূল – আমাকে , আমার চিন্তাকে ।নিষ্পাপ কিশোরী মনের সে অসামান্য ছন্দপতন , রাত জাগানো উপলব্ধি , একটা ছেলে হয়ে যদি ছেলেদের করা নিন্দনীয় অপরাধ গুলো তোর অসহ্য হয়ে থাকে, তবে মেয়েদের অপরাধে আমি প্রতিবাদ করলে দোষ কি ? বুঝতে শেখা বন্ধুর মতো অপরাধীর ও কোনো লিঙ্গভেদ হয় না । সময়ের সাথে সাথে বাড়ল বয়স , তবু বাড়ি ফিরতে আমার কখনো ভয় লাগেনি,বাসে ট্রামে রাস্তায় অযাচিত স্পর্শের প্রতিবাদ করতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠা বোধ হয় না , অন্যের অসংযমকে নিজের লজ্জার কারণ বলতে আমার বাঁধে। মনের গভীরে বাসা করা আশ্বাস , অনুচ্চারিত প্রতিশ্রুতি – আমার ক্ষতি কেউ করলে তাকে শাস্তি দেবার মানুষগুলোর নাম আমার জন্মের মুহূর্ত থেকে নির্দিষ্ট । নিজের যোগ্যতা নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই । তর্ক হোক বা পড়াশোনা , যেকোনো প্রতিযোগিতার একঘেয়ে সাফল্যে আমি নির্বিকার , তবুও আমার চাপা অহংকার অনিচ্ছাসত্বেও কখনো প্রকাশ হয়ে পড়ে , কারণ পুরুষ আমার দেহরক্ষী নয় , ছায়াসঙ্গী হিসেবে বিচরণ করে।
আমি তার দায়িত্ব বা কর্তব্য কোনোটাই নই, বরং বাঁচার তাগিদ । আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো অজান্তে নারীর পক্ষপাত দুষ্ট কখনো হতে পারি কিন্তু পুরুষবিদ্বেষী চিতায় উঠলেও হতে পারব না ,অকৃতজ্ঞ হতে পারবো না , অসঙ্কোচে মিথ্যা বলতে পারবো না , নিজ সত্ত্বাকে অস্বীকার করতে পারবো না ।

রোদ্দুর মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে ছিল ঈশানীর দিকে । অজান্তে এসে যাওয়া চোখের জল আড়াল করে বলল : তুই ছোট থেকেই খু ব সাহসী ঈশানী, আমার থেকে অনেক বেশী , ত্রিশূল আগলে রেখে কী লাভ বল যদি নির্ভয়ে চালানোর নিদারুণ দক্ষতা ই না থাকে ! তাই যে তোকে প্রয়োজন , নিত্য , আদি-অনন্তকাল । আমি যা পারিনা তুই যে তা পারিস , আমার স্বপ্ন তোর নিপুণতায় মুহূর্তে হয় বাস্তবের প্রতিরূপ । কোনটা আসল , কোনটা প্রতিবিম্ব সে সত্য বরং ঝাপসাই থাক , শক্তি ও সাহসের চিরন্তন নির্ভরতার আয়ু মহাকালের জ্ঞানের অতীত । শুধু এটুকু জেনে রাখ , যা চিরকাল হয়ে আসছে , তাই যে নিয়ম ।

ধন্যবাদ ,
রোমি

One thought on “দুর্গতিনাশিনীর ত্রিশূল

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান