ক্লান্তি ভুলে রাত জাগানোর নেশা ,
গল্প বইয়ের শেষের পাতা জানে ।
মায়ের বকায় আধভাঙা সে ঘুম ,
ফেলুদাকেই দুষত মনে মনে।
পছন্দের সে হলুদ জামাখানি ,
সাধ্যে আড়াল সাধের হাহাকার,
চোখের জলে দুঃখ ভোলে মন ,
মেনে নেওয়া সহজ ছিল হার।
কাঠবেড়ালির খাঁচার পাশে ঘুম ,
পালিয়ে যাওয়া তবুও অনির্বার ,
প্রতারণার ভুলিয়ে দিতে স্বাদ ,
কুকুর ছানা জায়গা নিল তার।
ব্যার্থ যখন সাজের সরঞ্জাম ,
করতে মলিন বর্ণে মেশা কালো ,
আরশি দেখায় হরিণ চোখের মায়া ,
নিজেকে তার বাসতে শেখা ভালো ,
ভালোবাসার প্রথম চিঠি হাতে ,
জীবন দিল উজাড় করে সুখ ,
বিচ্ছেদেরও ভীষণ ছিল তাড়া ,
অগত্যা সেই শুকিয়ে যাওয়া মুখ।
জমিয়ে রাখা গানের ক্যাসেট গুলো,
অজান্তে যা সবটা করে ভালো ,
বুঝিয়েছিল করতে খুশি মন ,
সঙ্গ শুধু নিজের প্রয়োজন।
মহাকালের লোভ দেখানো পথে ,
বাঁকলো জীবন , অঙ্কে মাপা গতি ,
দায়িত্ব আজের কালের সাথে বাড়ে ,
লাভের যোগে লুকিয়ে হাসে ক্ষতি।
যত্নে রাখা গোলাপ ফুলের তোড়া ,
রোজের জলেও মুখ করে রয় কালো ,
আগাছা ডাল স্বপ্নে এসে বলে ,
“স্বার্থ ছাড়াই বেসেছিলাম ভালো।”
সমস্যা তো আগেও অনেক ছিল ,
আজের গুলো বন্ধ করে শ্বাস ,
বক্র হাসির প্রশ্ন আসে কানে ,
“নিজের উপর আছে তো বিশ্বাস ?”
চাটুকতায় চমকে ওঠে মন ,
মানুষ চেনা জটিল সে এক ধাঁধা ,
অভিমন্যুই শিকার একা নয় ,
চক্রবুহ্যের অব্যাহত ক্ষুধা ।
স্বপ্নতে সে চেনা পথের মোড়ে ,
যেখানে খুব সহজ ছিল বাঁচা ,
হিসাব পেনে কালির মেয়াদ শেষ,
অঙ্কে আবার আগের মত কাঁচা।
খোলা হাওয়ার অদম্য হাতছানি ,
অবহেলায় লুটায় ছদ্মবেশ ,
আজও মনের ইচ্ছা গুলো একই ,
মলিন সেথায় কৃত্রিমতার রেশ ।
অভিজ্ঞতা হওয়ার তালে বয়
কানের কাছে ফিসফিসিয়ে কয় ,
“পরিস্থিতি বদলানো না গেলে
চুপটি করে পালিয়ে যেতে হয়।”
স্বস্তি ভোরে ভাঙলো রাতের ঘুম ,
হালকা হাসির আমেজ মিশে ঠোঁটে ,
নষ্ট সময় হয়তো অনেক হলো ,
বাকির হিসেবে কম কিছু নয় মোটে।
ধন্যবাদ
রোমি