প্রথম ধাপ :
তখন কি আর বুঝতে জানি ,
পরিধানের মন্দ ভালো ,
পছন্দসই রং না হলে ,
মুখ টা করে থাকতি কালো।
মাপের বড় জামার কারণ ,
চোখ পাকিয়ে শুধাস আবার ,
মায়ের উপর বলবো কথা ,
তখন কোথায় সাধ্য আমার !
দ্বিতীয় ধাপ :
বয়স না হয় বাড়লো খানিক ,
বদলে গেল সময় নিজে ,
ভালোবাসাও আর ঢাকা নেই ,
যত্নে রাখা চিঠির ভাজে ,
স্বপ্নতে আর নেই না পিছু ,
নাম বলি না ঘুমের ঘোরে ,
আঙ্গুল টা তোর মুঠোয় নিয়ে ,
পাশ ফিরে শুই হঠাৎ ভোরে।
ঝগড়া হলে বন্ধ কথা ,
ভোর না হতেই বাপের বাড়ি ,
ফোন ঘোরালেও অন্যে বলে ,
মেয়েটি তাদের ব্যস্ত ভারী।
শাস্তি দেবার নিঠুর উপায় ,
অভিমানের অঙ্কে কষা ,
নিজের মনেই হাসতি দেখে ,
ভালোবাসার দৈন দশা।
অগত্যা যাই শ্বশুর দুয়ার ,
দানের আশায় সত্য চারণ ,
তাদের প্রাণের রত্নটি যে ,
হয়েছে আমার বাঁচার কারণ।
তৃতীয় ধাপ :
মা হলি তুই দস্যি ছেলের ,
স্নেহের ফাঁকে কঠিন শাসন ,
মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখি ,
দায়িত্ব নেবার ইচ্ছা পূরণ ।
রঙের বাছাই , মাপের হিসাব ,
এখন করিস ইচ্ছে মতন ,
দর্জি আসে হুকুম হলে ,
উলের কাঁটায় মর্জি লালন।
চতুর্থ ধাপ :
নিয়ম তো সেই তেমনি আছে ,
বাড়লে বয়স অসুখ হাজার ,
পারবে না তোর বাক্স ওষুধ ,
বদলে দিতে সময় যাবার।
ভাবলি বুঝি হয়েছে মনে ,
মৃত্যু ভয়ের জবরদখল !
কর্ম ফলের পাপ পুন্য ,
তুই ছাড়া যে মিথ্যে সকল!
তোর মনেতেও ভয়ের দাপট ,
প্রমাণ ঢাকা ঠান্ডা হাতে ,
অভ্যাস যে ঘুমিয়ে পরা ,
আমার বুকে ঝড়ের রাতে ।
চমকে উঠে আমায় খুঁজিস ,
স্বস্তিতে চোখ আবার বুজিস ,
হঠাৎ ভয়ের কারণ খানি ,
মিথ্যা বলে আড়াল করিস।
পুজোর ঘরে সাজিয়ে থালা ,
চাস যে কি তা আমিও জানি ,
প্রার্থনাতে বদলে দিতে ,
মহাকালের নিয়ম খানি।
ফুলটা হাতের মাথায় ঠেকাস,
শান্তি জলে কপাল ভেজাস,
যত্ন করে জমিয়ে রাখা ,
আমার মনের ইচ্ছা শুধাস।
চাওয়ার বাকি নেই যে কিছু ,
এখন বরং সাধ হয় দিতে ,
একা থাকার বাড়তি সময় ,
বলিস তাকে ফিরিয়ে নিতে ।
আগে পরের বদলে হিসেব,
ভালোবাসার ইচ্ছাপূরণ,
ঝড়ের রাতে আলিঙ্গনে ,
মোদের সাধের মৃত্যু বরণ ।
আলোর খোঁজে যাত্রা নতুন ,
জমিয়ে রাখা পুন্য মেপে ,
অজানা পথ ভয় দেখালে ,
হাত টা আমার ধরবি চেপে।
গন্তব্যের নতুন ভোরে ,
জেদকে বেঁধে অবুঝ মনে ,
তোর কোলে মুখ গুজব আমি ,
মহাকালের চিরন্তনে ।
ধন্যবাদ ,
রোমি দাস