বাড়তি

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

প্রথম ধাপ :

তখন কি আর বুঝতে জানি ,

পরিধানের মন্দ ভালো ,

পছন্দসই রং না হলে ,

মুখ টা করে থাকতি কালো।

মাপের বড় জামার কারণ ,

চোখ পাকিয়ে শুধাস আবার ,

মায়ের উপর বলবো কথা ,

তখন কোথায় সাধ্য আমার !

দ্বিতীয় ধাপ :

বয়স না হয় বাড়লো খানিক ,

বদলে গেল সময় নিজে ,

ভালোবাসাও আর ঢাকা নেই ,

যত্নে রাখা চিঠির ভাজে ,

স্বপ্নতে আর নেই না পিছু ,

নাম বলি না ঘুমের ঘোরে ,

আঙ্গুল টা তোর মুঠোয় নিয়ে ,

পাশ ফিরে শুই হঠাৎ ভোরে।

ঝগড়া হলে বন্ধ কথা ,

ভোর না হতেই বাপের বাড়ি ,

ফোন ঘোরালেও অন্যে বলে ,

মেয়েটি তাদের ব্যস্ত ভারী।

শাস্তি দেবার নিঠুর উপায় ,

অভিমানের অঙ্কে কষা ,

নিজের মনেই হাসতি দেখে ,

ভালোবাসার দৈন দশা।

অগত্যা যাই শ্বশুর দুয়ার ,

দানের আশায় সত্য চারণ ,

তাদের প্রাণের রত্নটি যে ,

হয়েছে আমার বাঁচার কারণ।

তৃতীয় ধাপ :

মা হলি তুই দস্যি ছেলের ,

স্নেহের ফাঁকে কঠিন শাসন ,

মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখি ,

দায়িত্ব নেবার ইচ্ছা পূরণ ।

রঙের বাছাই , মাপের হিসাব ,

এখন করিস ইচ্ছে মতন ,

দর্জি আসে হুকুম হলে ,

উলের কাঁটায় মর্জি লালন।

চতুর্থ ধাপ :

নিয়ম তো সেই তেমনি আছে ,

বাড়লে বয়স অসুখ হাজার ,

পারবে না তোর বাক্স ওষুধ ,

বদলে দিতে সময় যাবার।

ভাবলি বুঝি হয়েছে মনে ,

মৃত্যু ভয়ের জবরদখল !

কর্ম ফলের পাপ পুন্য ,

তুই ছাড়া যে মিথ্যে সকল!

তোর মনেতেও ভয়ের দাপট ,

প্রমাণ ঢাকা ঠান্ডা হাতে ,

অভ্যাস যে ঘুমিয়ে পরা ,

আমার বুকে ঝড়ের রাতে ।

চমকে উঠে আমায় খুঁজিস ,

স্বস্তিতে চোখ আবার বুজিস ,

হঠাৎ ভয়ের কারণ খানি ,

মিথ্যা বলে আড়াল করিস।

পুজোর ঘরে সাজিয়ে থালা ,

চাস যে কি তা আমিও জানি ,

প্রার্থনাতে বদলে দিতে ,

মহাকালের নিয়ম খানি।

ফুলটা হাতের মাথায় ঠেকাস,

শান্তি জলে কপাল ভেজাস,

যত্ন করে জমিয়ে রাখা ,

আমার মনের ইচ্ছা শুধাস।

চাওয়ার বাকি নেই যে কিছু ,

এখন বরং সাধ হয় দিতে ,

একা থাকার বাড়তি সময় ,

বলিস তাকে ফিরিয়ে নিতে ।

আগে পরের বদলে হিসেব,

ভালোবাসার ইচ্ছাপূরণ,

ঝড়ের রাতে আলিঙ্গনে ,

মোদের সাধের মৃত্যু বরণ ।

আলোর খোঁজে যাত্রা নতুন ,

জমিয়ে রাখা পুন্য মেপে ,

অজানা পথ ভয় দেখালে ,

হাত টা আমার ধরবি চেপে।

গন্তব্যের নতুন ভোরে ,

জেদকে বেঁধে অবুঝ মনে ,

তোর কোলে মুখ গুজব আমি ,

মহাকালের চিরন্তনে ।

ধন্যবাদ ,

রোমি দাস

কাল-আজ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

ক্লান্তি ভুলে রাত জাগানোর নেশা ,
গল্প বইয়ের শেষের পাতা জানে ।
মায়ের বকায় আধভাঙা সে ঘুম ,
ফেলুদাকেই দুষত মনে মনে।

পছন্দের সে হলুদ জামাখানি ,
সাধ্যে আড়াল সাধের হাহাকার,
চোখের জলে দুঃখ ভোলে মন ,
মেনে নেওয়া সহজ ছিল হার।

কাঠবেড়ালির খাঁচার পাশে ঘুম ,
পালিয়ে যাওয়া তবুও অনির্বার ,
প্রতারণার ভুলিয়ে দিতে স্বাদ ,
কুকুর ছানা জায়গা নিল তার।

ব্যার্থ যখন সাজের সরঞ্জাম ,
করতে মলিন বর্ণে মেশা কালো ,
আরশি দেখায় হরিণ চোখের মায়া ,
নিজেকে তার বাসতে শেখা ভালো ,

ভালোবাসার প্রথম চিঠি হাতে ,
জীবন দিল উজাড় করে সুখ ,
বিচ্ছেদেরও ভীষণ ছিল তাড়া ,
অগত্যা সেই শুকিয়ে যাওয়া মুখ।

জমিয়ে রাখা গানের ক্যাসেট গুলো,
অজান্তে যা সবটা করে ভালো ,
বুঝিয়েছিল করতে খুশি মন ,
সঙ্গ শুধু নিজের প্রয়োজন।

মহাকালের লোভ দেখানো পথে ,
বাঁকলো জীবন , অঙ্কে মাপা গতি ,
দায়িত্ব আজের কালের সাথে বাড়ে ,
লাভের যোগে লুকিয়ে হাসে ক্ষতি।

যত্নে রাখা গোলাপ ফুলের তোড়া ,
রোজের জলেও মুখ করে রয় কালো ,
আগাছা ডাল স্বপ্নে এসে বলে ,
“স্বার্থ ছাড়াই বেসেছিলাম ভালো।”

সমস্যা তো আগেও অনেক ছিল ,
আজের গুলো বন্ধ করে শ্বাস ,
বক্র হাসির প্রশ্ন আসে কানে ,
“নিজের উপর আছে তো বিশ্বাস ?”

চাটুকতায় চমকে ওঠে মন ,
মানুষ চেনা জটিল সে এক ধাঁধা ,
অভিমন্যুই শিকার একা নয় ,
চক্রবুহ্যের অব্যাহত ক্ষুধা ।

স্বপ্নতে সে চেনা পথের মোড়ে ,
যেখানে খুব সহজ ছিল বাঁচা ,
হিসাব পেনে কালির মেয়াদ শেষ,
অঙ্কে আবার আগের মত কাঁচা।
খোলা হাওয়ার অদম্য হাতছানি ,
অবহেলায় লুটায় ছদ্মবেশ ,
আজও মনের ইচ্ছা গুলো একই ,
মলিন সেথায় কৃত্রিমতার রেশ ।
অভিজ্ঞতা হওয়ার তালে বয়
কানের কাছে ফিসফিসিয়ে কয় ,
“পরিস্থিতি বদলানো না গেলে
চুপটি করে পালিয়ে যেতে হয়।”

স্বস্তি ভোরে ভাঙলো রাতের ঘুম ,
হালকা হাসির আমেজ মিশে ঠোঁটে ,
নষ্ট সময় হয়তো অনেক হলো ,
বাকির হিসেবে কম কিছু নয় মোটে।

ধন্যবাদ

রোমি

বাকরুদ্ধ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

বোঝার যদি ইচ্ছা থাকে, শব্দ রাশি ব্যর্থ খোঁজা ,
বাক্যে মেপে গন্ডি মনের নাগাল পাওয়া ওতই সোজা ?
সদ্য জাত শিশু যখন মাকে প্রথম স্পর্শ  করে,
অভিধানের স্পর্ধা কোথায় , মনের ভিতর আয়না ধরে ?

মৃত্যু যখন অপেক্ষাতে , ঝাপসা যখন জগৎ বাকি ,
বুঝতে পারা, যায়নি দেওয়া সময়কে তার অঙ্কে ফাঁকি ,
“আসছি আমি , ভালো থেকো “, শব্দে বলা নাই বা গেল ,
ভালোবাসার শেষ পাতা টা , নাই বা  কথায়  ব্যক্ত হল।

হাত টা চেনা  ছাড়ল যখন, নতুন হাতের অমোঘ টানে ,
কষ্ট  কী আর ভার হারাতো   ক্ষণিক কটু বাক্য বাণে ?
দোষ ছিল কার ,  ব্যাখ্যা হাজার , আর কী হত প্রশ্ন করে ,
শব্দ ভিড়ে ভাগ্য লিখন  বদলে দিতে কেউ কি পারে ?
সুখের হিসেব মিলিয়ে দিতে  , চায়নি সে আর ডাকতে পিছু ,
চোখের জলের নীরব ধারায় লুকিয়ে ছিল হয়তো  কিছু।

একলা না হয় সবাই থাকে ,বন্ধু তবু ভীষণ  প্রিয় ,
স্বার্থ এমন হানবে আঘাত ,কক্ষনো তা  জানতো না ও !
গড়তে যাহা বছর গেল , মুহূর্ত তার  সবটা  কাড়ে ,
বিশ্বাসেতে লাগলে মোচড় , শব্দ কি আর জুড়তে পারে ?

সেই যে বিশেষ ইচ্ছাখানি , হঠাৎ করেই পূরণ হল ,
যুগের শেষে বন্দি যেন খাঁচার থেকে মুক্তি পেল ,
স্বপ্ন সুখে বিভোর হৃদয় , হারিয়ে গেল  শান্তি ঘুমে ,
পারল না সে চুকিয়ে দিতে সুখের হিসেব শব্দ গুনে ,
হাসির স্রোতে  ভাসিয়ে দিল সবটুকু তার উজাড় করে ,
শব্দ হারায় স্বত্বা নিজের , হৃদয় ভরা খুশির ঘোরে।

ঈশ্বরও তো মৌন থাকে , তোর ডাকে সে দেয় কি সাড়া ?
অধিকারের প্রশ্ন বিনাই অন্তরে তার বিরাজ করা ,
যত্নে তবু করিস পুজো , চাস যা খুশি ইচ্ছা হলে  ,
চাওয়া পাওয়ার টানাপোড়েন ,শব্দ ছাড়াই দিব্যি চলে ।

আমার বেলাই অন্য নিয়ম , অপেক্ষাতে থাকিস বসে,
খুলবো কখন মনের খাতা , নিখুঁত কটি বাক্য কষে ।
মিথ্যা জমা অভিযোগের  আঁচল থাকে শব্দে ভরা ,
গভীর যখন অনুভূতি , যায় না কথায় প্রকাশ করা ,
মনকে ছুঁতে মন ই পারে , শব্দ কেন খুঁজিস বৃথা ?
চাস না দিতে বদলে নিয়ম ,  অটুট থাকুক নিজস্বতা ।

ইচ্ছা

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

নামিয়ে মাথা মৌন থাকি ,চাই কী আমার  শুধাস  যখন,
উপহারেও মন ওঠে না , এমন কী হয় সত্যি  এখন  !
ভাবিস আরো  অনেক কিছু , ভাবিস তোকে দিচ্ছি ফাঁকি ,
নয়তো কেন ইচ্ছা নিজের  , যত্ন করে  লুকিয়ে রাখি !
যখন ভাবি বলবো কথা , কাজের ভিড়ে ব্যস্ত থাকিস ,
চিঠির ভাঁজে দিলাম রেখে , ইচ্ছা জমাট মনের হদিস ।

সিগারেটের ধোঁয়ার খেয়াল , হারাস  চেনা পথের মোড়  ,
ইচ্ছা আমার, বৃষ্টি হঠাৎ , নেভাক আগুন , কাটাক ঘোর !
ভয়ের লাগাম চাই না দিতে,  স্বাধীন চেতা হৃদয় টাকে ,
তবুও বলি মৃত্যুর চেয়ে  ,বাঁচার নেশাই মানায় তোকে !

বইয়ের স্তূপে বুঁদ হয়ে তুই , ভুলিস যখন জগৎ  বাকি ,
দমকা হাওয়ায় উড়ুক পাতা , মনে প্রাণে চাইতে থাকি ।
চশমা ভাঙুক , মেঝের উপর কলম সারির  লুটোপুটি ,
তখন শুধুই গল্প হবে ,ঝড় হলে তো পড়ার ছুটি ।

মনখারাপের চোখের জলে , সাধের  কাজল নষ্ট হলে  ,
হারিয়ে যাওয়ার মন্ত্র বলে  ,লুকোতে চাই  তোর আড়ালে !
মনভোলানো জাদুর কাঠি  ,রাজপুত্রের সাদা ঘোড়া ,
মিথ্যে  যখন রূপকথারা ,  জীবন শুধু ই তোকে ঘেরা  ।

দামী শাড়ি , গয়না পড়ে  ,তোর সামনে দাড়াই আমি ,
“ভালোই তো বেশ  “,  বলেই আবার বইতে হারাস সবটুখানি ,
ইচ্ছা পূরণ হঠাৎ হল , খোলা চুলে স্নানের পরে ,
মুগ্দ্ধ চোখে দেখলি আমায়  , সেদিন যখন পুজোর ঘরে ।

ভবিষ্যতের ভাবনা টানে , অনিশ্চিতেই  চিঠির ইতি ,
হ্যাঁচকা টানে ছোটোবেলা , চিন্তাবিহীন দিনের স্মৃতি ।
শান্তি ঘেরা রাত্রি  গুলো , নির্ঝঞ্ঝাট বিকেল আমার,
ইচ্ছা ভীষণ, দায়িত্ব শেষে,তোর ই সাথে খুঁজবো আবার।

নিন্দুক

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

কাঠগড়া তে মুখের বদল , অপরাধের নতুন নালিশ ,
বিচারকের আসনে তুই ,তেমনি যেমন আগেও  ছিলিস,
পরের দোষে ভাঙিস  কলম, কালির দাগে  ঢাকিস রক্ত,
জীবন বইয়ের শেষের পাতায় অপেক্ষাতে প্রায়শ্চিত্ত!

 

ভরা সভায় নাম কুড়াতে , দিলি  যাকে “বেশ্যা ” আখ্যা ,
পরিস্থিতির স্বীকার নারী , চেয়েছিল তোর বিচার ভিক্ষা !
কর্তব্যের পুতুল সেজে , অপমানে মিশিয়ে  ঘৃনা ,
জুয়ার দানে বিকিয়ে দিতে বেশ্যা বলেই পারলি কিনা !

 

তোর  হিসেবে  আগুন নাকি করবে  দেহের শুদ্ধি বিচার ,
নিবার্সনই  ভাগ্যে যখন  , শুদ্ধিতে কি  লাভ হবে তার ?
আগুন যদি সত্যি পারে , পবিত্রতা ফিরিয়ে দিতে,
তোর কদাকার মনটাকে তো পারিস খানিক ঝলসে নিতে!

 

স্ময়ং ভুলে ভালোবেসে মেয়েটি হল   কলঙ্কিনী ,
হারিয়েছে সব কিন্তু তবু তোর কাছে সে  হাত পাতেনি,
চরিত্রে তার ঢালিস কালি  ,উপাখ্যানের  মন্দ ভালো ,
ঠিক বেঠিকের হিসাব খানি তোকেই বা কে কষতে দিল ?

 

যার তীক্ষ্ণ কলম করে  দিকভ্রান্ত ধর্মে আঘাত ,
তোর বানানো শহরে সে ,লুকিয়ে কাটায় সারাটা  রাত ,
অধিকারের কোন হিসেবে,  পেয়েছিলি বর স্পর্ধা মাপার ?
দোষ যদি সে করেও থাকে ,তুই কে তাকে শাস্তি দেবার !

 

হলই  বা সে অহংকারী , উদ্ধত মন ছন্নছাড়া ,
নিজের শাসন নিজেই করে  , নিয়ম মানে নিজের গড়া ,
তোর কী তাতে ঘটল ব্যাঘাত ? নিন্দা ভরা আঙ্গুল তুলিস ,
গন্ডি যদি এতই প্রিয় , নিজেও সেটার মধ্যে থাকিস    !

 

সত্যি বোঝা শক্ত অনেক , বৃথাই শুধু চেষ্টা করিস ,
সহজ হবে হিসেব যদি  মিথ্যাটাকে বুঝতে পারিস ,
মনের ভিতর শিকড় গেড়ে  করছে যা তোর দৃষ্টি  কালো ,
উপড়ে সেটা দ্যাখ না যদি পাস খুঁজে তুই একটু  আলো !

বহুরুপী মনখারাপ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

মন খারাপের  গন্ধ কেমন অজানা এক আবেশ আনে ,
বারণ ভুলে মন ভেসে যায়  ভীষণ চেনা স্মৃতির টানে ।
বাজের আওয়াজ চমক ভাঙ্গায় , আকাশ জুড়ে মেঘের কালো ,
মরচে ধরা প্রশ্ন মনে , “সব টা  তবে মিথ্যে ছিল  ?”
চোখের জলে বৃষ্টি মিশে , ঠোটের কোণে  ফোটায় হাসি ,
খাতার পাতায় লুকিয়ে লেখা নামের পাশে “ভালোবাসি।

 

মন খারাপের নাম বুঝি হয় ? জানিস কি তুই তার ঠিকানা ?
অনুরোধে র  আর্জি যাবে ,করতে  তাকে আসতে মানা ।
চালের ঘটি উল্টে দিয়ে ,ঢুকলো মেয়ে নতুন ঘরে ,
পুরনো সেই ঘরের মায়া মনখারাপের আঁচল ধরে ,
ঘুমিয়ে থাকা স্বামীর পাশে ,স্মৃতির ভিড়ে রাত্রি যাপন ,
মনখারাপের চাদর নিয়ে ,পাশ ফিরে শোয় নতুন জীবন ।

 

নতুন শহর  ,অচেনা মুখ ,ছড়িয়ে থাকা বইয়ের সারি ,
যখন তখন মারছে  উঁকি ,মনখারাপের বলিহারি ,
তেল মাখানো খাবার যখন, হচ্ছে হজম নির্বিবাদে ,
মায়ের রাঁধা রান্না জাগায়  স্মৃতির আবেশ মুখের স্বাদে ।
হাতের কড়ে গুনতি দিনের , আগাম কবে আসবে ছুটি ,
মনখারাপের রাস্তা ভুলে , মায়ের কোলে লুটোপুটি ।

 

দিন টা তবু যেমন তেমন , রাত্রে ঘড়ির নেইকো তাড়া,
নিস্পলকে  কাটাই প্রহর , শ্বাসের মেয়াদ  তোমায় ছাড়া,
ছাই করলো যেদিন আগুন  , চিতায় শোয়া ভালবাসা ,
মনখারাপে বন্দি আমি , ফুরিয়ে গ্যাছে বাঁচার আশা,
আর কটা দিন ! কটাই বা রাত ! তুমিও আছো অপেক্ষাতে,
শুধুই এখন মৃত্যু পারে,জীবন আমার ফিরিয়ে দিতে !

 

মনখারাপের রঙ হয় কি ? লাল বা সবুজ চিহ্ন কোনো ?
রঙীন হতে চাইনা আমি , সাদাই প্রিয় আমার জেনো ,
জানলা খোলা ,নজর কাড়ে , পথের ধারের ক্ষুধার্ত মুখ ,
অসহায়ের হাতছানিতে বাড়তে থাকে মনের অসুখ ,
গুলির আওয়াজ,জটিল হিসেব,কাঙ্খিত জিত,অপ্রিয় হার ,
আমার  কিছুই হয়না বদল ,মনখারাপ ই ভরসা আমার !

 

অলস মনের বিলাসিতা  , খাঁচা ভাঙার ব্যর্থ উপায় ,
মনই তখন মনখারাপের কারণ খানি আমায় শুধায় ,
স্মৃতির মোড়ক ফেলে আসা , চেনা পথে ফিরতে চাওয়া ,
সম্ভব আর অসম্ভবের মধ্যেখানে হারিয়ে যাওয়া ,
“কী হয়েছে ? কী চাই তোর ? সন্ধান দে খুশির চাবির ”
বালিশ খানি জাপটে ধরে , মৌন থাকে ক্লান্ত শরীর !

মনের মানুষ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

উপহার তো ছেড়েই দিলাম  , ফুলের তোড়াও দিসনি এনে ,

কবির লেখা ধারের সুদে , চাসনি নিতে হৃদয় কিনে ,

জন্মদিনও যেতিস ভুলে , চোখের জলে রাত্রি ভারী ,

তবুও কেন মন  দিয়েছি , আজকে তোকে বলতে পারি ।

ভাবলি বুঝি হারিয়ে যাব , মেলার ওই অল্প ভিড়ে ?

নইলে কেন ধরলি আমার  হাতটা  ওমন শক্ত করে !

যখন হাঁটি  তোর  পাশে  ওই অচেনা সব  রাস্তা ধরে ,

আমায় রাখিস বাদিক ঘেষে , বিপদ থেকে অনেক দূরে !

মন খারাপের দিন গুলোতে, “কি হয়েছে” শুধোস নি তো ,

দৌড়ে গিয়ে আনিস কিনে , আমার প্রিয় খাবার যত ।

“খেলে কাঁদার শক্তি পাবি ” , দুঃসাহসী কথার ছুরি ,

তবুও ফিরে অন্য দিকে , মুখের হাসি আড়াল করি ।

রাগ ভাঙ্গাতে পারিস না তুই , করলে আশা কষ্ট বাড়ে,

সত্যি কথা স্পষ্ট করে , বলতে এমন কজন পারে !

ঝগড়া হলে বন্ধ কথা ,নিজের মত একলা থাকিস ,

খেয়েছি কিনা , ঘুমোই  কখন , আড়াল থেকে  খেয়াল রাখিস।

মন্দিরের বাইরে দাড়াস , আজও  আমার অপেক্ষাতে ,

নিজের মনে নাস্তিকতা , দিসনি তাকে আমায় ছুঁতে ।

চিন্তিত মন , নিদ্রা বিহীন , ভয় পেয়েছে সাহসী মেয়ে ,

চোখের জলের অবুঝ ফোঁটা, উঠলি কেঁপে স্পর্শ পেয়ে,

শরীর নাকি যন্ত্র জটিল , খারাপ তো সে হতেই পারে ,

শক্ত গলায় বললি আমায় ,হাড় কাঁপানো জ্বরের ঘোরে।

আমায় যখন ধরল জ্বরে  , রাত কাটালি প্রহর গুণে ,

কপাল জুড়ে  ঘামের কনা ,তখন কেন উঠলো জমে ?

উত্তর টা দিসনি আজও ,জোর করিনি স্বভাব দোষে ,

অধিকারের সহজ হিসেব ,মনে মনেই নিলাম কষে ।

ঘুমের মাঝে অচেতনে , বাহুডোরে আমায় বাঁধিস ,

হয়তো ভেবে মোহর কলস, সাপের  মত আগলে রাখিস !

দেওয়া নেওয়ার জটিল হিসেব , করছে যখন হৃদয় কালো ,

সহজ ভাবে  শিখিয়ে দিলি  , কিভাবে হয় বাসতে ভালো ।

ধন্যবাদ ,

রোমি

ভালবাসার দিন

Comments 2 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

পথের ধারে  লাল বেলুনের মেলা

প্রেমের গন্ধে মনগুলো রঙীন ,

গোলাপের দাম মানুষের চেয়ে বেশী ,

পালন হচ্ছে ভালবাসার দিন !

>”আমিও তোকে দিতে চাই উপহার ,

বল না আমায় ,চাইছে কী তোর মন ,

কথা দিলাম সকল উজাড় করে ,

ভালবাসায় করব সমর্পণ !”

>”মন তো আমার কত কিছুই চায় ,

ইচ্ছাপূরণ মোটেই সহজ নয় ,

তবুও যখন জানতে চাইলি তুই,

লোক খাওয়ালে আজকে কেমন হয় ?”

>”হৃৎপিন্ড তোর ই কথায় চলে ,

করব আমি সকল আয়োজন ,

যাকে যাকে ডাকতে ইচ্ছা করে ,

বিনা দ্বিধায় করিস নিমন্ত্রণ !”

>”যে ছেলেটি ল্যাম্প পোস্টের নীচে ,

জুতো ই পালিশ করে নিয়মিত ,

কিন্তু আজ বেলুন নিয়ে বসে ,

ওই আমার প্রথম নিমন্ত্রিত ।

স্টেশনের যে কচি কাঁচার দল ,

হাতের বাটি ,মোহর রাশি ভরা ,

সব কটাকে আসবি নিয়ে ধরে ,

আমার জন্যে হ না ছেলে ধরা !

মন্দিরের ওই চাতাল জুড়ে শুয়ে,

মানুষ টি যার বাঁশির সুরে যাদু ,

আজকে আমি তাকে বোঝাবই ,

মদের  চেয়েও পায়েস সুস্বাদু ।

ওই মেয়েকে ডাকতে ভুলিস না ,

যে প্রতি রাতে ভেবেছে  বারবার ,

প্রাণের চেয়ে দেহের দাম বেশী ,

ভুল টা  তার ভাঙানো দরকার ।”

> “নিজের উপর গর্ব হত খুব ,

ভালবাসায়  স্বার্থ   আমার কই ,

আজকে প্রথম সত্যি টা বুঝলাম ,

ভালবাসার যোগ্য আমি নই !

যেমনটি চাস তেমনি হবে  আজ  ,

স্বার্থ নয় , একটি মাত্র আশা ,

কখনো ভুলের বিয়োগ মেলাতে,

ক্ষমা করবে আমায় ‘ভালবাসা’ !”

ফিরে দেখা

Comment 1 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

তারিখ টা আজ সত্যি মনে নেই ,
রোজের মতই সকাল হয়েছিল ,
“তুই আমার বন্ধু হবি কি ? ” ,
অজানা এক আওয়াজ ভেসে এলো ।

হতেই পারি , আপত্তি কি !
একলা চলা যায় কি সারাক্ষণ ?
আমার আছে আবোল তাবোল গল্প ,
আর আছে বন্ধু হওয়ার মন ।

“দেবার মত যদি হিসেব করি ,
আমার আছে মন খারাপের ঝুড়ি ,
হাসির বাক্সে জমা অনেক ধুলো ।”
আমার কানে বাজলো কথাগুলো ।

বললাম , “চাইনা আমার এমন উপহার ,
দুঃখ দিতে বন্ধু কি দরকার ?
তার চেয়ে দিস হাসির বাক্স খানি ,
যত্নে ধুলো সরিয়ে দেব আমি ।”

এমন ভাবেই বছর ঘুরে গেল ,
অজানা মন বন্ধু হয়ে এলো ,
ঝগড়া হাসির শব্দ ভেসে আসে ,
বন্ধু তুই থাকিস আমার পাশে ।

সময় বাড়ায় নিজের চলার গতি ,
ব্যস্ত জীবন পাতা বদলে যায় ,
মহাকালের ভীষণ অট্টহাসি ,
বলেন ,”সবসময়ের জন্য কিছু নয় ।”

ব্যস্ত সকাল ,নিঝুম রাতের ঘোরে ,
হঠাৎ যদি আমায় মনে পড়ে ,
আবার যদি বন্ধু হতে চাস ,
বদলে দিয়ে কালের ইতিহাস ,
ডাকিস আমায় , ইচ্ছে যখন তোর ,
বলছি দেখিস ,ঠিক পাবি উত্তর ।

সময় যদি বদলে অনেক যায় ,
আমরাও নয় বদলে গেলাম অল্প ,
তবুও আবার হাসবো অকারণে ,
আবার হবে আবোল তাবোল গল্প ।

ধন্যবাদ ,
BongNote

মা

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

আমার শ্বাস প্রশ্বাসে ধ্বনিত হচ্ছে কৃতজ্ঞতার ছন্দ ,
তোমার স্বার্থহীন ভালবাসার ঢেউ ,আমার রক্তে বহমান ,
আমি এই বিশাল পৃথিবীতে তোমার ই প্রতিচ্ছবি ,
এ সত্য চিরন্তন ,অকৃত্তিম ,অম্লান ।
তোমার প্রতিনিয়ত চেষ্টা ,আমার দুর্গম পথকে সুগম করে তোলার ,
আমার হারের দুঃখকে যাদুস্পর্শে করে তোলো জেতার আনন্দ ,
তোমার সুস্পষ্ট চেতনার অনুভূতি স্পর্শে ,
ভেঙ্গে দাও আমার চাপা অহংকার ,মুছে দাও আমার দ্বন্দ ।

তোমার আদি অন্ত নেই ,নেই কোনো সংজ্ঞা ,
দিশাহীন অচেনা ভিড়ে ,তুমি খুব চেনা বিশ্বাস ,
তুমি এক অভঙ্গুর স্নেহময় প্রাচীর রূপে বিরাজমান ,
ক্লান্ত জীবনপথে শান্তিময় আশ্বাস ।
তুমি অচেতন শিশুর মনের মাঝের সুপ্ত সান্ত্বনা ,
রক্তের টানে সীমাবদ্ধ তোমার কামনা বাসনা ,
তোমার সৃষ্টিতে বিস্মিত স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ,
তুমি সকল প্রেরণার উৎস ,তুমি মা !

ধন্যবাদ,
BongNote