ছদ্মবেশী

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

চঞ্চল কাঠবিড়ালীর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভগবান রোজের মতন আজও মন দিয়ে নিরীক্ষণ করছিলেন মেয়েটিকে। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া নিশ্চই জরুরি , কিন্তু তার গুরুত্বের মাত্রা কি ঈশ্বরকেও ব্যাকুল করে ? কিন্তু তা কি করে সম্ভব! তিনি তো ত্রিকাল জ্ঞানী , কৌতূহল যে তাকে স্পর্শ করতে পারে না ! তবুও অসাধারণের মোড়ক খুলে স্বয়ং স্রষ্টাকে অতিসাধারণ ছদ্মবেশের আড়াল নিতে হয়, সে প্রয়োজনের সন্ধান দিতেই বুঝি তিনি মৌনতা ভাঙলেন আজ।

ছদ্মবেশী নদীর পারে একলা দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন ,

ছদ্মবেশী> তোমাকে প্রায়ই এইসময় নদীর পারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি , তুমি বুঝি কারো অপেক্ষা করো ?

মেয়েটি > হুম , নিজের । ভিড়ের মাঝে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টাতেই এই বিপত্তি । আসলে আমি তো আলাদা নই,আশেপাশের চেনা শতকরা ৯০ জনের সাথেই মিল খুঁজে পাবেন আমার , অতি সাধারণ চাওয়া পাওয়ার ঘেরাটোপের আড়ালে অসাধারণের মুখোশ পরে থাকা কি সহজ বলুন !

ছদ্মবেশী> একদম সহজ নয় , তা কেন পড়লে এমন বেমানান মুখোশ ?

মেয়েটি >সাধারণের মূল্য ধার্য করার সময় যে কারো হয়নি । অসাধারণ বলেই কিনা দ্রৌপদী শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা পেল, সবাই কি পায়!

ছদ্মবেশী > তোমার নিজেকে ফিরে পেতে ইচ্ছা করে না ?

মেয়েটি > সে ইচ্ছার টানেই তো রোজকার এই সময় বাঁধা নিয়ম । খুব অদ্ভুত হলেও ব্যাপারটা সত্যি । চোখের জলের ফোঁটা নদীর জলে একবার মিশতেই নিজেকে ফিরে পাই আমি , একদম খাঁটি নির্ভেজাল সত্ত্বা ।

ছদ্মবেশী > তাহলে কী আর সমস্যা! , সকালে যা হারালে বিকেলে তা কড়ায় গন্ডায় ফেরৎ ।

মেয়েটি >সমস্যা একটু আছে বৈকি , চোখের জল জমতে যে সময় লাগে ,কখনো কয়েক মাস , কখনো বা বছর , সহ্যের সীমা ছাড়ানোর নিরন্তর অপেক্ষা , অভ্যাসের জীবনে দুঃখ দুর্লভ কিনা !

ছদ্মবেশী > বুঝলাম ! তা তুমি কি করো ?

মেয়েটি > বিক্রি ,যা আসলে পুঁথি পড়া বিদ্যা কিন্তু পেশার কারণে গুণ বলতে হয় ।

ছদ্মবেশী >তাতে অভাব মেটে ?

মেয়েটি > টাকার ? তা মেটে , বাকি কিছুর অভাব কোনো পেশাই মেটাতে পারে না ।

ছদ্মবেশী >কখনো নিজেকে অসহায় মনে হয় ?

মেয়েটি > ভালোবাসার মানুষ গুলোকে সময় দেওয়া যখন বিলাসিতা মনে হয় , ঠিক তখন ।

ছদ্মবেশী >তুমি ভগবানে বিশ্বাস করো ?

মেয়েটি > না , আস্তিকদের ভিড় আমাকে বুঝিয়েছে স্বার্থের সম্পর্কে বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে হয়ে থাকে ।

ছদ্মবেশী >যদি তিনি সত্যি থেকে থাকেন আর তুমি তাকে হঠাৎ দেখতে পাও তাহলে কিছু চাইবে ?

মেয়েটি > চাইবো না , দেবো , তার অস্তিত্বে আমার স্বার্থহীন বিশ্বাস ।

ছদ্মবেশী >কিছু চাইবে না ? তার যে অদেয় কিছুই নেই । সুখ , অর্থ অথবা মোক্ষ , চাইতে দোষ কি ?
মেয়েটি >এক সুখ এক মানুষকে বেশীদিন সুখী রাখে না , অর্থ উপায়ের জন্য ভগবানের প্রয়োজন নেই,মোক্ষ ব্যাপারটা লোভনীয় হলেও ক্ষতির পরিমাণ টা বড় বেশী ।

ছদ্মবেশী > মোক্ষ লাভে ক্ষতি ?

মেয়েটি > ক্ষতি নয় ? বাকি জীবনের চাওয়া পাওয়া , সমস্যার লক্ষণরেখা , সমাধানের শক্তিশেল , নিংড়ে নেওয়া অভিজ্ঞতা ,সময়ের চাল বদল , গোনা কয়েক মুহূর্ত , ভালোবাসার গাট ছড়া , এসকলই যে দিয়ে দিতে হবে বিনিময় প্রথা অনুযায়ী , তাতেও সাফল্য প্রতিশ্রুত নয় । তাছাড়া চিরস্থায়ী যখন নয় আর পুরোটাই আমার , স্বাদ যেমনই হোক চেখে নিতে দোষ কি ? মানে জীবনের কথা বলছিলাম ।

ছদ্মবেশী (হেসে)> কখনো মনে মনে প্রার্থনা কোরো , নিজ সৃষ্টি র জন্য স্রষ্টার গর্ব যেন চিরস্থায়ী হয় , হৃদয় যেন সহস্র কোটি বছর । নিশ্চিত থেকো এতে তোমার স্বার্থ নেই , আছে অন্য কারো ।

ধন্যবাদ ,
রোমি

সারথী

Comments 2 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

অমলেন্দুবাবু  চোখ খুলতেই তার একমাত্র নাতি সৈকত কে পায়ের কাছে বসে থাকতে দেখে বিস্ময়ে বললেন : একি দাদুভাই ! তুমি কখন এলে ?

সৈকত মৃদু হেসে বলল : তোমার এই ঘরের  প্রতিটা কোণায় জমে থাকা ছোট বেলার স্মৃতি গুলো এমন ভাবে জাপটে ধরেছিল যে ঘড়ির দিকে তাকাবার অবসর হয়নি |

>আহা ! কিন্তু আমাকে কেউ ডাকেনি  তো ! দুপুরে ঘুমের অভ্যেস টা দাদু নাতির কতটা সময় মিছিমিছি নষ্ট করে দিল !

>তুমি যে বলেছিলে মহাভারতের গল্পে অর্জুন শ্রী কৃষ্ণের পায়ের কাছে বসে তার ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করেছিল কারণ সে জানতো  ধৈর্য্যের পরীক্ষায় পাশ করলে নষ্ট সময়ও জীবনের হিসেব বদলে দিতে পারে।

>হ্যাঁ সে না হয় বলেছিলাম ! কিন্তু এই বুড়োকে সারথি করে কোন যুদ্ধ জয় করতে চাও তুমি দাদুভাই !

>তুমি তো জানো ,আমি যুদ্ধ থেকে বরাবর পালিয়ে এসেছি , আমার যে হারতে ভয় করে !

>হারা কি ওত সহজ দাদুভাই ? কত মানুষ  যে চেষ্টা করেও হারতে পারে না ।

>কি যে বল তুমি দাদান ! কেউ বুঝি সেচ্ছায় হারতে চায় ?

> চায় বৈকি ! নিঃসঙ্গতার চোখের জলে রাতের বালিশ যখন ভিজে যায় , অতি বড় জয়ীর কানে মহাকাল তখন ফিস ফিস করে বলেন , “এর থেকে তো হেরে যাওয়াই ভালো ছিল , অন্তত দুদন্ড শান্তির ঘুম তো জুটত ভালবাসার মানুষ গুলোর পাশে ” , সেই মুহুর্তের দুর্বলতায় জয়ের মেডেল গুলো ছুঁড়ে ফেলে হারের খোঁজে পা বাড়াতেই  , আরো একবার জেতার ইচ্ছাটা নাগপাশের মত মন কে বেঁধে ফেলে ! সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে  যত শক্ত হয় সে  বাঁধন  , একের পর এক পাশার দানে বিকোতে থাকে সম্পত্তি ও সম্পর্ক !

> তুমি বুঝি হারতে ভয় পাও না ?

> না দাদুভাই ! এখন আর পাই না ,তবে তোমার বয়সে পেতাম বৈকি , আর সেই ভয় থেকে বাঁচতেই  বার বার জেতার লড়াইয়ে সামিল হতাম , আশ্চর্যের বিষয় হল ছোট বড় কোনো জয়ই  আমার সে ভয়কে কখনো দূর করতে পারেনি উপরন্তু শত গুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।হঠাৎই  একদিন আমার মায়া ত্যাগ করে  বিনা বাক্যব্যয়ে সে চিরতরে নিখোঁজ হল ।

> এতদিনের জাঁকিয়ে ধরা ভয় হঠাৎ একদিন দূর হয়ে গেল ! কবে ? ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন ? তোমার কি মনে আছে দাদান ?

> বাহ্ ! মনে থাকবে না ? সেদিনই তো আমি প্রথমবার বিশ্রী ভাবে হেরে গিয়েছিলাম । ফকিরের মনে সুখের পরিমাপের আন্দাজ পেয়ে সেদিন চমকে উঠেছিলাম আমি ।

>তোমার কথা শুনে তো মনে হচ্ছে  হারা  ঠিক জেতার মতই কঠিন ?

>মোটেই  না , আরো বেশী ! সর্বকালের জয়ীও অভ্যাসের ব্যতিক্রমে হেরে গেলে , প্রত্যাশা অপূর্ন  রাখার অভিযোগে কৈফিয়তের কাঠগড়া তার আত্মসম্মান কে  বিদ্রুপ মাখা বিশেষণে বার বার আঘাত করে! কজনই বা সে আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা রাখে ! আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনের আত্ম হত্যার কারণ ক্ষনিকের হার মনে হলেও আসলে তারপরের পাওয়া চিরস্থায়ী অপমান !

>আমি তো ভেবেছিলাম চাইলেই জেতা যায় না কিন্তু হার অন্তত  সহজলভ্য !

>তোমার ভাবনা সত্যি হলে আমার মত কিছু মানুষের আনন্দের পরিসীমা আকাশের প্রস্থ দিয়েও মাপা যেত না ! এই যে  পঙ্গু শরীরটা  রোজ মৃত্যুর কাছে হারতে চায় কিন্তু সেই হার লাভে তপস্যার হিসেবের খাতা সময় বোধহয় হারিয়েই ফেলেছে !

>উফ ! তুমি কি আমাদের একটুও ভালোবাসো না দাদান ?

>বোকা ছেলের কথা শোনো দেখি ! ভালো না বাসলে  , ওই অখাদ্য ওষুধ গুলো আমাকে গেলানোর সাধ্যি বুঝি ওই সুরেন ডাক্তারের ছিল ?

>এরকম আর বোলো না দাদান ! তুমি ছাড়া এই অচেনা ভিড়ে আমি যে হারিয়ে যাবো ! আমি এখনো ঠিক বেঠিকের গোলক ধাঁধায় আটকে পড়ি ,বুঝতে পারিনা কতকিছু ,  নিরন্তর চেষ্টা করেও ভুলতে পারি না কিছু স্মৃতি , অসহায় মন নিদ্রাহীন রাতে ছটফট করে!

>আহা ! ছোটবেলায় কুমীর ডাঙা খেলায় ,গুনতির হারে কুমীর হওয়ার দুর্ভাগ্য , সেই বিকেলে কষ্ট দিলেও আজ  আর দেয় কি !

> কিন্তু দাদান সে  বিকেল ছিল নিষ্পাপ , জীবনের জটিল হিসেব তখনও শুরু হয়নি ! রাত ভোর হতেই যে হারের দুঃখ মন থেকে মুছে যায় ,  তার সাথে আজকের জটিলতার কি তুলনা চলে !

> দূরত্ব বাড়লে দৃষ্টির গণ্ডিতে সর্বোচ্চ পাহাড়ও  ক্রমশ ক্ষুদ্র  হতে থাকে । কি জানতো দাদুভাই! সময়ের  ডাস্টার নিয়ম মত ব্ল্যাকবোর্ডের সকল হিসেবই  মুছে দেয় , তার কাছে জটিল সরলের কোনো ভেদাভেদ নেই !

> সবকিছু মুছে দেয় ? কিছুই থাকে না?

> থাকে নাই তো ! একমুঠো  ছাই  ছাড়া কিচ্ছু থাকে  না , সেটুকুও মা গঙ্গা এক ঢোকে গিলে ফেলে  !

> তাহলে চারিদিকে যে এত লড়াই , উদ্বেগ ,টান টান উত্তেজনা !

> ঘড়ির কাঁটা ঘোরার অপেক্ষা লড়াই করেও করা চলে অথবা আপোষে , তাতে অন্যায় তো কিছু নেই দাদুভাই ! কিন্তু সেই ক্ষনিক  জিত হারের হিসেব কে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা দেখে যদি মহাকাল হাসেন , তাকেও কি  খুব বেশী দোষ দেওয়া চলে ?

>জীবন মানে কি তবে শুধুই মৃত্যুর অপেক্ষা দাদান ?

> তা কেন হবে দাদুভাই !  জীবন মানে শুধুই  জীবন ! সেখানে জেতার লড়াই করাই যেতে পারে কিন্তু হারলেও বিশেষ ক্ষতি নেই , শুধু এই উপলব্ধি টুকুই যথেষ্ঠ যে  এতখানি পথ যদি বিনা জয়লাভে কেটে যেতে পারে বাকিটা আটকানো কোন হারের সাধ্যি!

>সেই হারের ফাঁকে লুকিয়ে ফেলা চোখের জলের মূল্য কেউ চুকিয়ে দিলে হিসেব টা অনেক সহজ হয়ে যেত, তাই না দাদান ?

> নিজের চোখের জলের মূল্য অতি বড় বিধাতার কাছেও আদায় করতে চেও না দাদুভাই ! এর চেয়ে বড় মূর্খামি যে আর হয় না ।সব হিসেবও সহজ করতে নেই নইলে গণিতের আনন্দে ঘাটতি হয় যে ! ডাক্তারের নির্দেশে চিনি ছাড়া কালো চা খাওয়ার বেস্বাদ বিকেল গুলোয় , মাটির ভাড়ে চা খাওয়ার আনন্দের স্মৃতিই শুধু মুখে হাসি আনতে পারে । ফুটো ভাড়ের চা তে হাত পুড়ে যাওয়ার কষ্ট নিদারুণ ছিল বটে কিন্তু তৃপ্তির চুমুকের কাছে সে জ্বালা সেচ্ছায় হার মেনেছে বারবার ! তাই বলি আর দেরী না করে উঠে পড় রথে ,সময় ফুরোনোর আগে জীবনটাকে একটু চেখে দ্যাখো দেখি দাদুভাই ! যুদ্ধে জিত হারের মাশুল না হয় দিলেই কিছু , শেষমেষ আক্ষেপের মাশুল গুণতে না হলেই জীবনের সাথে মৃত্যুও স্বার্থক ।

Act of God’

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

> ‘Act of God’ ! তার মানে কাজটা আপনি করেছেন ?

> না !

>মানে ? তাহলে কে করেছে ?

>আহা ! তারই তো চুল চেরা বিশ্লেষণ চলছে । দেখছো না ,দফায় দফায় বিচার সভা বসছে ! ইতিহাসের পাতা উল্টে প্রমাণ খোঁজা চলছে! টান টান উত্তেজনার মুহূর্ত  ! জটিলতার ঘোরপ্যাচে সৃষ্টিকর্তার চোখ পর্যন্ত ধাঁধিয়ে যাচ্ছে । ‘নিরীহ’ প্রমাণের দৌড়ে সামিল হওয়ার আগে পাপের ঘড়া  লোকানোর বৃথা চেষ্টা ! ওত বড় জিনিস টা ওই টুকু পৃথিবীতে বুঝি লোকানো যায় ? তাছাড়া কাদের থেকেই বা লুকোতে চায় ? অন্ধের কি বা দিন কি বা রাত !

>আপনি এখন এইসব নোংরা রাজনীতির কলাকৌশলে মশগুল ? আর ওদিকে তো ওরা এখনো ধ্বংস স্তূপের নীচে !

>ওরা কারা ?

>যারা প্রকৃত অর্থে  ‘নিরীহ’  ! ‘পাঁচ লাখ’ অনেক বড় মূল্য হলেও যারা  সে দামে নিজেদের অতি সাধারণ জীবন টাকে বেঁচে দিতে চায় না তাই এত কিছুর পরও নিজের সবটুকু  দিয়ে চেষ্টা করছে মৃত্যুর কবল থেকে বেরিয়ে আসতে ।

>হুম ! সবাইকে সম্ভব না হলেও কিছু মানুষকে আমি বাঁচিয়েছি বৈকি ।

>এভাবে মিথ্যে বলা আপনাকে মানায় কি ! অক্লান্ত পরিশ্রমে মানুষই মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে,আপনি শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ দর্শী ছিলেন !

>’প্রাণ ‘ তো বলিনি ,তবে দলাদলি  -মারামারি থেকে বাঁচিয়েছি , বিকৃত রাজনীতি থেকে বাঁচিয়েছি , অতিসাধারণ হয়ে থাকার অভিশাপ থেকে বাঁচিয়েছি , অহর্নিশ ভাগ্যের হাতে গিনিপিগ হওয়া থেকে বাঁচিয়েছি , রোজের  মৃত্যু ভয় থেকে বাঁচিয়েছি ! ক্ষনিকের দুর্বলতায় নরক থেকে মুক্তি দানের দায়, আমি এবারও চেষ্টা করে এড়াতে পারিনি , স্বজন হারা হৃদয়ের অভিশাপে না হয় আরো একবার জলের গভীরে তলিয়ে যাবে আমার অস্তিত্ব !

দেবনারী

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

>আপনি আমাকে নিশ্চই চিনতে পারছেন ! সেই ছোট্ট বেলা থেকে , শিবরাত্রির দিন গঙ্গায় স্নান করে আপনার মাথায় জল ঢেলে  সারাদিনের উপোষ ভেঙ্গে এসেছি আমি ।

>হ্যাঁ চিনি বৈকি ! তুমি তো সেই মেয়ে যে প্রথমে আমাকে স্বামী রূপে চাইলে ,তারপর সমগ্র ব্রম্ভান্ডের সৃষ্টিকর্তাকে অবাক করে দিয়ে নিজের ছেলে রূপেও আমাকেই চেয়ে বসলে।

>যখন বুঝতে পারলাম , কোনো ইচ্ছাই আপনি আমার পূর্ণ করেন নি ,আমিও অবাক হয়েছি বৈকি !

>শোন মেয়ে !পূরণ করার যোগ্য ইচ্ছা না হলে এমন অভিযোগ অর্থহীন !

>অভিযোগ অর্থহীন ? আচার অনুষ্ঠানে কমতি থাকতে পারে,ওদিকে ওতটা নজর দিইনি কারণ ঠাকুমা বলেছিল আপনার ভোলা মন , নিয়ম নিষ্ঠা  ব্রতপালনের জটিল হিসেব আপনি মেলাতে পারেন  না , আপনাকে পাওয়ার ওই একটাই পথ , ‘ভালবাসা’! আরো শুনেছিলাম যদি শেষ ভক্তি বিন্দুউজার করে দিতে পারি , আপনি নাকি আমার জন্য অসাধ্য সাধন করতেও পিছপা হবেন না ! আমার মত সাধারণ মেয়ে আপনার সাধ্যের সীমানা মাপার ধৃষ্টতা কখনই করেনি , বরাবর  আপনার কাছে শুধু তাই  চেয়ে এসেছি  যা দেওয়া সবচেয়ে সহজ , যা দিতে গেলে অধিকার বিচারের প্রয়োজন নেই , যার জন্য কোনো সাধ্য অসাধ্যের জটিল হিসেব কষতে হত  না আপনাকে ।

> তাই তো সবচেয়ে বেশী অবাক করে আমাকে ! আমার মত চালচুলো হীন সন্ন্যাসী কোন উপকারে লাগতো তোমার ! তুমি তো জানতে সংসারের চাওয়া পাওয়া আমার নেশার ঘোর কাটাতে পারে না , আমি সব হারানোয় বিশ্বাসী ,অমোঘ মায়ায় আমায় বাঁধা যায় না ! এমন  ইচ্ছা কী করতে আছে  যা পূরণে সুখের দ্বার তো খোলেই না ,উপরন্তু দুঃখের আয়ু  শত গুণে  বেড়ে যায় !

>গঙ্গার উচ্ছসিত জলরাশি যার ধ্যান ভাঙ্গাতে অক্ষম , আমার কয়েক ফোঁটা চোখের জলের মূল্য সে  কেমন  করে দেবে বলুন ! তাই সুখের আশায় আপনাকে পাশে চাইনি আমি !

>তাহলে ! কী পাওয়ার আশায় , ভিজে কাপড়ে অনন্ত প্রহর অপেক্ষার পর হাত পাততে  বার বার ?

> হাত পেতেছি বৈকি ! তবে পাওয়ার আশায় নয় ,দেবার আশায়!

>দেবার আশায় ? আমাকে ! সমগ্র  বিশ্ব ব্রম্ভান্ডের অধিপতিকে কী  এমন দিতে চাও তুমি !

>বিষ ! বন্য জগতের লোভাতুর দৃষ্টির বিষ , বন্ধ দরজার পিছনে হওয়া নিরন্তর পাপের বিষ , ভালো থাকার অভিনয় করে জমতে থাকা অজস্র মিথ্যের বিষ , পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর লড়াই তে বিশ্রী ভাবে হেরে যাওয়ার বিষ , অহর্নিশ অন্যায়ের সাথে অপোষ করা অভ্যাসের বিষ , গোটা মেয়েজন্মে সহ্য করা  অপমানের বিষ ! আপনি তো নীলকন্ঠ ! শুনেছি বিষের প্রভাব আপনার দেহের রং বদলেই সীমিত,  নারী হৃদয়ের বিষের  স্তূপ গ্রহনের ক্ষমতা একমাত্র আপনারই  আছে । বিবস্ত্র হওয়ার ভয় দ্রৌপদীকে রাতে ঘুমোতে দেয় না , রান্নাঘরে আগুনের সামনে দাড়িয়ে যা কাঁপে তা সীতার হাত মনে হলেও , আসলে তার অস্তিত্ব !আমরা অশুচি ,মোক্ষ লাভের স্বপ্ন দেখি না , কিন্তু মুক্তি ! তাও কি নেই ভাগ্যে !

হাসির পাহারা

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট
  • আপনার কাছে গণতন্ত্র মানে কী  ?

     সহজ ভাবে হাসতে পারি , বলতে পারি মনের কথা ,

      রাজনীতি বা ধর্ম ভয়েও অটুট যখন  নিজস্বতা ।

  • আপনি কী সহজ ভাবে হাসতে পারেন ?

ধর্ম গুরুর ভীষণ শাষণ , হাসির উপর খবরদারি ,

 কারাগারের পদধ্বনি , পালাও ‘হাসি’ তাড়াতাড়ি !

  • মানে আপনার দেশে ধর্ম গুরু ঠিক করেন যে আপনি কখন হাসবেন , অন্যথা কারাবাসও হতে পারে ! তা ধর্ম গুরু টা কে?

ধর্ম গুরুই মানুষ একা , জটিল হিসেব  ‘মান-অপমান’ ,

 ক্ষণিক ভুলেই ভক্তের দল করিয়ে দেবে রক্তস্নান ।

  •  আপনার দেশে কি আইন কানুন নেই নাকি ?

    আইন আছে লুকিয়ে কোথাও ,ডাকলে গুরু বেরিয়ে আসে ,

    রাতবিরেতে পথের ধারে নির্ভয়া দের  কাপড় হাসে !

  •  আপনি কি সত্যি কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক ?

->      মিথ্যা তো নয় , সত্যি বটে , সেই প্রথম থেকেই, সবাই জানে ,

           তবে গণতন্ত্রের  উপস্থিতি শুধুই আমার সংবিধানে !

নিরপেক্ষতা

Comment 1 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট
বিস্মিত মুখে ফোনের রিসিভার টা রেখে , জানলার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা  স্ত্রীকে , রমেনের শক্ত চোয়ালের প্রশ্ন  : এটা তুমি কেন করলে মালা?
> বিদ্রুপ মাখা হাসি তে চোখের জল ঢেকে মালা বলল : নার্সিং হোম থেকে ফোন করেছিল বুঝি ?

> শুনতেই তো পেলে , আমার স্ত্রীর গর্ভপাতের খবর দেওয়ার জন্য অচেনা কন্ঠস্বরকে কিভাবে বলিষ্ঠ ভাবে ধন্যবাদ দিলাম !

> খবরের মধ্যে নতুনের গন্ধ না থাকলে আকস্মিকতা যে বিনয়ের মুখোশ কে আড়াল করতে পারবে না ,সেটাই  কি  স্বাভাবিক নয় !আসলে এর আগের দু বার , তুমি তো আমাকে বুঝিয়েই দিয়েছিলে কী করতে হবে ,তাই এবার আর তার অবকাশ দিলাম না , শুধু শুধু দিন বাড়লে তারও কষ্ট আর আমারও ।

> তোমাকে তো বলেছিলাম , আমি নিজে ভ্রুণ পরীক্ষা করেছি !  এবার আর আগের দু বারের ব্যাপার এক নয় , এবার আমাদের ছেলে  হত মালা ! তোমার কি আমার ডাক্তারি বিদ্যার ওপর একেবারেই বিশ্বাস নেই ?
> তোমার বিদ্যের উপর সম্পুর্ন আস্থা আছে আমার , আর ঠিক সেই জন্যেই তোমার মৃত সন্তানদের কাছে আমি আজ নিরপেক্ষ মা !

স্বার্থক মৃত্যু

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

->চলুন এবার , সব তো শেষ , আর কি পিছন ঘুরে দেখছেন ওত ?

->মানে বলছিলাম কিছুই কি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যাবে না ?

->আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে জাগতিক কিছুর দরকার হয় না মশাই  ,আর শুনুন আপনার মত মানুষের মায়া করা সাজে না।

->মানে ঠিক বুঝলাম না ।

-> মানে অতই যদি বেঁচে থাকার সখ , এত পেশা থাকতে যুদ্ধকে বেছে নিলেন কেন ?

->নিয়তি আমাকে যোগ্য মনে করেছে  অজস্র প্রানের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে । শত্রুর বন্দুকের সামনে , মন্দিরের পুতুল রক্ষকের থেকে মুখ ফিরিয়ে  , প্রচন্ড বিশ্বাসে আমার উর্দি ই  জাপটে ধরে অসহায় হাত , সেই সম্মানের সাথে আর যাই হোক আপোষ চলে না।

->আপনার স্ত্রী , ওইটুকু মেয়ে , তাদের কথা একবারও ভাবলেন না ?  যে দেশের মানুষের জন্য আপনি শত্রুর বুলেট গর্বের সাথে হজম করে নিলেন , আপনি কি ভাবছেন  দুদিন বাদে  তারা আপনাকে বা আপনার পরিবারকে মনে রাখবে ?

-> কই  তা ভাবিনি তো , তবে এটুকু জানি মৃত্যুশোকের যন্ত্রণা , কফিন ছোয়ার গর্বের কাছে  একসময় ঠিক ফিকে হয়ে যাবে ।

-> অজস্র কোটি নামের সাথে আপনার নামও অদরকারী স্মৃতির তলানিতে গিয়ে ঠেকবে , কিছুদিন পরই আপনার নাম বেরোনো খবরের  কাগজের ঠোঙায় , নবদম্পতি পার্কে বসে  ছোলা  খেতে খেতে প্রেমালাপ করবে , শহীদের প্রানের থেকে সলমন খানের সিনেমার টিকিটের দাম এখানে বেশী , এই তো আপনার দেশ, তার জন্য খামোখা তেজী প্রাণ টা দিয়ে বসলেন !

-> বলছিলাম শুধু ওই পতাকা টা সাথে নিয়ে গেলে খুব আপত্তি আছে ? দেশের গন্ধের যে খুব মায়া ।

-> দেশ মানে ঠিক কি বলুন তো ! আপনাকে দ্বার রক্ষী নিযুক্ত কারী নাকি আপনার মৃত্যুর অসহায় দর্শক ? আপনার মত শহীদ যদি তার সন্তান হত , প্রতিশোধের আগুনে এতদিনে জগৎ সংসার ছাই করে দিত সে , ঠান্ডা ঘরে  কফিতে চুমুক দিয়ে উষ্ণ শোকপ্রকাশের  ফাঁকে ফাঁকে ,  রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার হিসেব নিকেশ কোনো সন্তান হারা মা কে মানায় কি !

-> এত কঠিন ভাবে তো ভাবিনি কখনো , আমার কাছে দেশ মানে ওই অচেনা ছেলেগুলো ,যাদের সাথে আমার  কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই কিন্তু  আমার মৃত্যুতে তাদের গরম রক্ত , শত্রুর ভবিষ্যৎ কে মুহুর্তে ঝাপসা করে দেয় । দেশ মানে ওই মেয়েটা , এইবারের জন্মদিনের আনন্দ যাকে অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই ছুতে পারেনি , তার চোখের জল শহীদের চিতার আগুন না নিভাতে পারলেও মৃত্যুযন্ত্রনার স্মৃতি একেবারে বিলীন করে দিয়েছে  , অথবা বলতে পারেন আমার কাছে দেশ মানে ওই ভদ্রলোক  যিনি  কাল অব্দি ভাবছিলেন  আত্মহত্যা করবেন  ,  কিন্তু আজ অন্তরাত্মার প্রশ্নের গভীরতায় সে ভাবনা চিরতরে ত্যাগ করলেন !

->  কী প্রশ্ন ?

-> জীবন নিরর্থক হলই বা , তাই বলে কি  মৃত্যুও স্বার্থক হবে না ?

উপহার 

Comments 3 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

দাদাভাই : হ্যাপি বার্থডে তিন্নি  ।

তিন্নি : থ্যাঙ্ক ইউ দাদাভাই ।

দাদাভাই :  পূর্ণবয়স্কা  হতে আর মাত্র ২ বছর দেরী ,মনে রাখিস টিভির রিমোট নিয়ে মারামারি এই বয়সে আর তোকে মানায় না।

তিন্নি : কথাটা আয়নার সামনে দাড়িয়ে বল ।

দাদাভাই : আয়তন তো বাড়ছে না , মাথাটা এখনো আমার কাঁধে পৌঁছয় নি , তবু  তোর  বুদ্ধিদীপ্ত  কথার খেলায় আমি যে এখনো দুধেভাতে তিন্নি !

তিন্নি : আয়তনের সাথে বুদ্ধির সম্পর্ক থাকলে পিপড়ের বদলে হাতিকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী বলা হত দাদাভাই !

দাদাভাই : আমাকে হাতি বললি ! তোর দৈর্ঘ্য কম বলেছি , প্রস্থের বিচারে পিপড়ের থেকে হাতির দিকেই পাল্লা ভারী কিন্তু তোর !

তিন্নি : এই যদি আমার কথার ব্যাখ্যা হয় , ইঞ্জিয়ারিং পড়ার ফাঁকে বাংলা ক্লাসে ভর্তি হ , প্রযুক্তির আগে মাতৃভাষার উপর দখল হওয়াই  বেশী  দরকার ।

দাদাভাই হেসে বলল  : বুঝলাম !  তা জন্মদিনে মা কী দিল তোকে ?

তিন্নি : কুন্দনের সেট ।

দাদাভাই: সেকি গয়না তো তুই পড়িস না । মা তো বলে তুই ভিখিরীর মত খালি কান গলায় ঘুরে বেড়াস বলে মার ও সাধের গয়না গুলো পড়া হয় না ।  খুব চিন্তিত ভাবে বাবাকে বলছিল সেদিন , সামনে রিনি দির বিয়ে , তার ছন্নছাড়া মেয়েটাকে দেখে লোকে কি বলবে , সেই মেয়ের পাশে তার পরিপাটি মাকে দেখে “নিজের বেলায় আটিসুটি ,মেয়ের বেলায় দাত কপাটি ” ধরনের মন্তব্য যে কেউ করবে না ,তা যদি বাবা লিখে দিতে পারে , তবেই মা যাবে রিনিদির বিয়েতে ।

তিন্নি (হেসে ): তা বাবা লিখে দিল   ?

দাদাভাই : না , বরং  নির্বিকার ভাবে বলল “সে না হয় দেওয়া যাবে ,বিয়ে তো এখনো দেরী আছে ,আর কাগজ কলমও তো পালিয়ে যাচ্ছে না।” বাবার উত্তর শুনে রাগের মধ্যেও মার চিন্তাটা যে আরো বেশী জোরালো  হলো তা বেশ বোঝা যাচ্ছিল । তোর জন্মদিনের  কুন্দন সেট সেই চিন্তারই  ফলপ্রসু বলে আমার বিশ্বাস  ।

তিন্নি : জানি , তুই জন্মদিনে কি দিবি আমায় দাদাভাই ?

দাদাভাই : বহুদিন ধরে  বাবার মাথা খেয়ে আদায় করা  iPad টা ১ মাসের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি ।

তিন্নি : দরকার নেই , তোর গয়না তুই পড় ।

দাদাভাই : ভেবে দ্যাখ ,অনেক ভালো ভালো গেম আছে কিন্তু , temple run খেলা শুরু করলে ‘সত্যজিত রায়’ নাম টা  মুহুর্তে ভুলে যাবি ।

তিন্নি : অনির্দিষ্ট লক্ষ্যের পিছনে আমি দৌড়ই না , একঘেয়েমি তে আমার যে বড় আপত্তি । তাই সে লোকের দেখানো বৈচিত্রময়  জগৎ  ভুলে তোর temple run র সাথে আপোষ করা , বোধহয় এ জন্মে আমার আর হয়ে উঠলো না। স্টিভ জবস এর কাছে আমার হয়ে এতদিনে নিশ্চই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন Mr রায় ।

দাদাভাই : গেমের কথা ছাড় , আমার ডাউনলোড করা দারুন  দারুন  ebook পড়ার সুযোগও কিন্তু হারাচ্ছিস ।

তিন্নি : ebook আমার ভালো লাগে না , বইয়ের গন্ধ নাকে না এলে আমার নেশা হয় না , বইয়ের পাতা কে ছোঁয়ার মধ্যে দিয়ে লেখা গল্পের চরিত্রকে ছোঁয়ার স্বাদ তোর ebook দিতে পারলে ,বইমেলার মাঠ প্রতিবছর  কুম্ভের মেলার মত ভিড়ের সাক্ষী হত না  দাদাভাই !

দাদাভাই :উফ ! কি যুক্তি ! আমার আর মায়ের কপাল তাহলে  চিরকালের পোড়া , এবার বল বাবা তার আদরের মেয়েকে কী দিল ?

তিন্নির উত্তরের আগেই  একজন ভদ্রলোক ঘরে প্রবেশ করলেন , তাকে দেখে তিন্নি বলল ,”কিছু বলবে বাবা ?”

ভদ্রলোক হাসি মুখে কয়েকটা বই তিন্নির হাতে দিয়ে বললেন , ” এনাদের জন্য একটু জায়গা বের কর দেখি মা ! উপরের তাকে  ধরে যাবে মনে হয় ,সত্যজিত ও  শরৎ বাবুকে একটু অনুরোধ করলেই সরে বসবেন । “

তিন্নির চোখ খুশীতে জ্বলজ্বল করে উঠলো , সে  বইগুলোর নাম এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলল ,

  • ‘কাছের মানুষ’ ,
  • ‘লোটাকম্বল’ ,
  • ‘বাবলি’ ,
  • ‘আমার মেয়েবেলা’

তারপর বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল , ” আমার দোষ নেই , তোমার জন্যেই আর কারো দেওয়া উপহার আমার কখনো পছন্দ হয় না ! “

অভিন্নতা

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

সুমন : পূজো তে কটা জামা হল তোর ?

আত্রেয়ী : ১২ টা।

সুমন : সেকি রে ? পূজো তো ৫ দিন , হিসেব মিলাতে হলে  তো ২ বেলা নিয়ম করে জামা বদলাতে হবে !

আত্রেয়ী : তা কেন ? দুর্গাপূজার পরেও তো আরো কত পূজো  আছে , সেগুলোর হিসেব ভুললে চলবে কেন ,তাছাড়া ছোটবেলায়

আরো অনেক বেশী জামা হত , এই হিসেব মিলাতে আমার কখনই কোনো অসুবিধা হয়নি !

সুমন :  অক্সিজেন যেখানে নাকের ফুটো খুঁজে পায় না ওই  চিড়ে চ্যাপটা ভিড়ে ,সেখানে কে দেখবে তোর রঙ বেরঙের জামা ?

আত্রেয়ী  : দুগ্গা ঠাকুর ! বাড়ির লোকজনের সাথে পাড়ার  একই  ঠাকুর  বার বার দেখতে গেলেও অতি বড় মহিষাসুরও বলতে পারবে না

আমার একদিনের জামার সাথে অন্যদিনের জামার কোনোদিন মিল ছিল।

সুমন : বুঝলাম ! তা কে দিল তোকে এত জামা ?

আত্রেয়ী  : শুধু আমাকে দেবে কেন ? দিদিভাই কে দিয়েছে  ৬ টা , বোনকে ৪ টে ,আমাকে ২টো !পূজোর কটা দিন প্রতিবার আমরা তিন বোন একসাথে কাটাই। দিদিভাইয়ের মামা আর মাসির সংখ্যা বেশী হবার লাভ ,আমি আর বোন সেই ছোট থেকে চুটিয়ে ভোগ করছি , বোনের মামা থাকলেও মাসি নেই , আমার মা তো এক মেয়ে তাই অগত্যা বাবাই ভরসা । সর্বসাকুল্যে তাই আমাদের ১২ টা জামা হয়েছে পুজোতে।

সুমন : মানে তোরা একই জামা তিনজনে পড়িস ?

আত্রেয়ী  : তাতে কি ! আরে দিন টা তো আলাদা ! লক্ষীর কোনদিন সাদা শাড়ি পড়তে ইচ্ছা করলে সরস্বতীর আলমাড়ি কি তার সে ইচ্ছাপূরণ করবে না ? শ্মশানচারী শিব ঠাকুরের রোজগার আমার বাবার চেয়ে কম বই বেশী তো হবে না তাই দুগ্গা ঠাকুরও নিশ্চই নিজের সাংসারিক অভিজ্ঞতায় আমার মা -জ্যেঠিমা -কাকীমার মত নিজের ছেলেমেয়েকে ‘আমার’ এর বদলে সবসময়  ‘আমাদের’ ভাবা শিখিয়েছেন।স্বার্থের হিসেব যে যোগের থেকে বিয়োগ ই বেশী করে সে সত্যি আমার মা জানলে দুগ্গা ঠাকুর কি

জানে না ভেবেছিস ?

সুমন : সে না হয় জানেন উনি ! কিন্তু তোদের জামা ছোট বড় হয় না ? যতদুর জানি তোরা তিনজন তো একই বয়সী নস।

আত্রেয়ী  : ছোট হয় না কখনো কারণ সবাই কে  দিদিভাইয়ের মাপ বলা , আমি আর বোন পরার আগে পাশ মুড়ে নি , তাতে ১৫ মিনিটের বেশী লাগে না।

সুমন হেসে বলল : যাক তাহলে  ‘uniqueness’ র বাজার  লক্ষী সরস্বতীর মত তোর মাথাটাও এখনো খায়নি দেখছি। সুকুমার রায়ের আমলে গোঁফ দিয়ে লোক চেনা যেত , লোকজন যেভাবে ডিসাইনার পোশাকের পিছনে ছুটছে তাতে মনে হচ্ছে  কিছুদিন পর পাসপোর্ট আর লাগবে না ,তার বদলে পরনের পোশাক ই যথেষ্ঠ হবে ।

আত্রেয়ী : তাহলে তো প্যান্টালুনস , ওয়েস্টসাইট  ,শপার’স স্টপ  ইত্যাদি পাইকারী স্টকের ব্র্যান্ড নামগুলো অনশনে বসবে আর রাস্তার  বদলে ব্যাঙের ছাতার মত রাতারাতি গজিয়ে ওঠা  ডিসাইনার বুটিকের  ছাদ দিয়ে  আমাদের  চলাচল করতে হবে।তবে পোশাকের ‘uniqueness’ কনসেপ্ট টা ইমপ্লিমেন্ট হলে অলৌকিক হেরফের হবে আমাদের দেশের জনসংখ্যার হিসেবের খাতায়!

সুমন: মানে ঠিক বুঝলাম না , কিরকম হেরফের ?

আত্রেয়ী : হালকা সবুজ শাড়ির আঁচলে সাদা রঙে করীনা কাপুর লেখা –  ১ জন    , what an uniquness!  একই পোশাকে অন্য কাউকে দেখা গেলে চুরির অভিযোগের সাথে সাথে কপিরাইটের কেসও যোগ হবে,idenitity নিয়ে মজা করা বেরিয়ে যাবে।

লাল জামার কলারে লেখা ‘S K’  – ১ জন , আরে শাহরুখ খান নয় ,ওনার S ছোট , এটা হল সলমন খান।  জনসংখ্যার হিসেবের খাতায় আরো ১ যোগ হল।

কোনো পোশাক কেনার সামর্থ নেই তাই যেকোনো উৎসব ও সাধারণ দিনে বিনা ব্যতিক্রমে খালি গা  – ১২০ কোটি , ওহ! থুড়ি , ‘uniquness’  র হিসেবে ১ হবে তো!

এবার বুঝলি তো হেরফের টা কোথায় হবে !

ধন্যবাদ ,

BongNote

আর নয়

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

অনুরাগ  : আমি তোর কাছে ফিরে এসেছি  রিনি , তোর ভালবাসার মূল্য আমার মত মহা মুর্খ যে দিতে পারবে না , তা বোধহয় তুই আগেই জানতিস ,তাই সেদিন আমাকে  আটকানোর কোনো চেষ্টাই তুই  করিসনি, কি বল ?

রিনি  : না তা নয় ,যে সেচ্ছায়  চলে যেতে চায় ,তাকে আটকানোর ক্ষমতা বিধাতার থাকলেও আমার নেই।

অনুরাগ  : কিন্তু আমি তো এখন ফিরে এসেছি ,তুই ডাকিস নি ,তবুও ফিরে এসেছি। যে ভালবাসা স্বাধীন করে দেওয়ার পরও ফিরে আসে সেই তো চির সত্য।

রিনি  : আমার কাছে ভালবাসার সত্যতা তখনি যখন সে কোনো অবস্থাতেই তার ভালবাসার মানুষ কে ছেড়ে চলে যায় না।

অনুরাগ : তার মানে একটা ক্ষনিকের ভুলের শাস্তি আমাকে সারাজীবন ধরে পেতে হবে ?

রিনি  : তুই তো ভাগ্যবান অনুরাগ ! কত মানুষ তো নিজের ভুল না জেনেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করে যায় !

অনুরাগ : তাহলে তুই আমাকে কিছুতেই ফিরিয়ে নিবি না ? এটাই তোর শেষ সিদ্ধান্ত ?

রিনি  :  তুই নিজের ইচ্ছায়  চলে গিয়েছিলি  আবার  নিজের ইচ্ছাতেই ফিরে এসেছিস ,এখানে আর যাই হোক  ‘আমার সিদ্ধান্ত ‘ শব্দটার প্রয়োগ একেবারেই যথাযত নয়। একটা উহ্য  শব্দকে হঠাৎ  অনেক  গুরুত্ব দিলে সে তার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবে ,সেটাই কি প্রত্যাশিত নয় ?

অনুরাগ :  কিন্তু আমি যে সত্যি ভিতর থেকে জবাব পেয়েছি রিনি  ,তোকে যে সবকিছু দিয়ে ভালোবাসি আমি ,তুই ছাড়া বেঁচে থাকার যে কোনো মানেই  নেই আমার কাছে ।

রিনি  : নাই বা থাকলো। যদি সত্যি কাউকে ভালোবেসে থাকিস তবে মানে ছাড়া হলেও বেঁচেই  বরং থাক ,মরে গিয়ে শান্তি লাভের আশ্বাস নিতান্তই কাল্পনিক ।

অনুরাগ : একটু ভেবে দ্যাখ রিনি   , আমার ওপর রাগ করে তুই কিন্তু আমাদের দুজনের জীবন ই নষ্ট করে ফেলছিস।

রিনি  : জীবন নষ্ট করা কি ওতই সহজ ? ও তো শুধুই  কথার কথা , নাহলে পতিতা পল্লীর নষ্ট মেয়ের জীবনের দাগে ভরা মাটির  প্রলেপ মেখে  মা দূর্গা নিজেকে কিভাবেই বা  মুহুর্তে পবিত্র করে নিতেন  বল ?

অনুরাগ : আমাদের একসাথে কাটানো অজস্র মুহুর্তের আর কোনো মূল্যই নেই তোর কাছে ?

রিনি  : ঠিক তা নয় ,বলতে পারিস সে মূল্য  মেটানোর সামর্থ্য আজ আর আমার নেই।

অনুরাগ : যা ঘটেছে তার জন্য তুইও কি দায়ী নস ? একবারও আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিস ? আমার ভালবাসার দিকে আঙ্গুল ওঠানোর আগে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখিস পারলে , তোকে ছাড়া আমি কেমন আছি একবারও জানতে ইচ্ছা করেনি ?

রিনি  : কারো  মৃত্যুর পর তার প্রতি ভালবাসা অপরিবর্তিত থাকলেও তার  সাথে যোগাযোগের  চেষ্টা ,সত্যিকে অস্বীকার করতে চাওয়া দুর্বল মনের অসম্ভব ইচ্ছা ছাড়া  আর কিছু বলা যায় না ! ভেবে নিস সেই অসম্ভবের পিছনে দৌড়তে আমার মন চায় নি ।

অনুরাগ : তার মানে তোর কাছে আমি মৃত ?

রিনি  : মৃত্যু শুধু মানুষের হয় বুঝি ! সম্পর্কের হয় না ?

অনুরাগ : তাহলে তুই আমাকে ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারবি ? এই মৃত সম্পর্ক তোর  কাছে  দুঃস্বপ্ন ব্যতীত আর কিছুই নয় !

রিনি  : তুই আমার জীবনে আসার আগেও তো আমি বেঁচেই ছিলাম ! তোর জন্য মরে গেলে যে  নাড়ির সম্পর্কের ওপরঅবিচার করা হত ,সে সম্পর্কে  কোনো স্বার্থের হিসেব নেই অনুরাগ ,আমার অস্তিত্বকে ঘিরেই  তাদের চাওয়ার শুরু, পাওয়ার শেষ ! তোর ক্ষনিকের ভালবাসা সে সম্পর্কের কাছে যে কখনো মাথা তুলে দাড়াতেই পারেনি !

অনুরাগ : রিনি  একটা সত্যি কথার উত্তর দে   ,তুই বোধহয় এখন  অন্য কাউকে ….

রিনি  হেসে বলল  : এ ভগবানের ভারী অন্যায়  জানিস অনুরাগ ! সবাইকে একইরকম ভাবে ভাবার ক্ষমতা কেন যে উনি দেন নি নাহলে তোর এই নির্লজ্জ প্রশ্নের উত্তরে এভাবে আমাকে চুপ করে থাকতে হত না।

অনুরাগ জানলার দিকে তাকিয়ে থাকা  রিনি র  পাশে এসে দাড়াতেই রিনি  ঘর থেকে দ্রুত পায়ে  বেরিয়ে গেল ,আর ভগবানও  বোধহয় সেই মুহুর্তে তার কৌতুক রসের পরিচয় না দিয়ে আর কিছুতেই থাকতে পারলেন না ,তাই রিনি র ফেলে রেখে যাওয়া মোবাইলের  রিংটোন বেজে উঠলো ,অনুরাগের কানে ভেসে এলো সোমলতা আচার্যর কন্ঠস্মর  :

“সেই হারানো চড়ুই এর ডাক ,বলে যে গেছে সে চলে যাক ,নিজেকে ভালোবাসো তুমি এবার।”

সিংহাসন

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

সিংহাসন : আপনি কোথায় চললেন মহারাজ ?

রাজা অস্থির হয়ে বললেন : জানিনা ,তবে এটুকু জানি ওই গদিতে  বসার যোগ্যতা আমার নেই।

সিংহাসন : একি বলছেন মহারাজ ? ঈশ্বরের যোগ্যতা বিচার হয় বলে তো কখনো শুনিনি।

রাজা বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন : কে  ঈশ্বর ? আমি তো একজন সাধারণ মানুষ যার ছোট্ট ভুলের খেসারত দেশ সুদ্ধ অসহায় মানুষকে দিতে হয় !

সিংহাসন : তাই বুঝি ? আপনি যখন বলছেন তাই হবে হয়তো ,আসলে আমি তো কখনো ঈশ্বর দেখিনি তবে লোকমুখে শুনেছি তার কথা, একই দেহে রক্ষক আর ভক্ষকের সহাবস্থানই বোধহয় আমার এই ভ্রমের কারণ।

রাজা : কার দেহে রক্ষক আর ভক্ষকের একই সাথে সহাবস্থান ?  তুমি কি আমাকেই কটাক্ষ করছো ?

সিংহাসন : লোকমুখে শুনেছি দ্বাপর যুগে আপনার মতই এক ভীষণ প্রতাপশালী  রাজা ছিলেন , একদিকে রাজনৈতিক কুটিলতা ও অন্যদিকে মোহিনী মোহন রূপ তাকে মহাকাব্যের প্রধান পুরুষ বানিয়েছিল ঠিকই কিন্তু তার ‘ভগবান’ উপাধি লাভের পিছনে ছিল ওই একটাই  কারণ  ‘একই দেহে রক্ষক আর ভক্ষকের সহাবস্থান’। গোবর্ধন পর্বতের আড়ালে তিনি যেমন ছিলেন বৃন্দবাসীর রক্ষক আবার কুরুক্ষেত্রের  মহাযুদ্ধে , নিরস্ত্র সারথী বেসে ছিলেন তেমনি নৃশংস  ভক্ষক , যার খিদের আয়ু ছিল পুরো ১৮ দিন । আপানার মধ্যেও সেই

একই গুণ প্রথম দিকে আমাকে শিহরিত করলেও শেষমেষ সর্বশক্তিমানের গুনগানই ছিল আমার বাঁচার সম্বল।

রাজা হতাশ হয়ে বললেন : মানে তুমিও আমাকে ভালোবাসো না ? ভয় করো শুধু ?

সিংহাসন : কি যে বলেন রাজা মশাই ! সিংহাসনের আবার  ভালবাসা ! সে পেতে তো অনেক ভাগ্য লাগে শুনেছি !

যাকে ভালো বাসি ,যার একবার ফিরে দেখবার অপেক্ষায় অনন্ত কাল ধরে একইভাবে বসে আছি  , কখনো  ভ্রম বশত  মুহুর্তের জন্যও সে কখনো ফিরে চায়নি আমার মনি মানিক্য ভরা শরীরের দিকে, তার মোহ মায়াহীন হৃদয়,অন্তর্নিহিত  প্রকৃত রাজা হওয়ার সকল গুনগুলো উপেক্ষা করে, অজানা কোনো শক্তির ধ্যান মগ্ন হয়ে আছে সেই কোন আদি অন্তহীন সময় ধরে,আর যোগ্যের অহর্নিশ প্রতীক্ষার ফলস্বরূপ আমার কপালে জোটে সব লোভী ক্ষুধার্তের দল ,যাদের নিরন্তর খাই খাই দেখে আমার চোখ এখন এতটাই অভ্যস্ত যে তার ব্যতিক্রমের আশা কেউ করলে আমি আড়ালে মুখ চেপে হাসি।

রাজা : শুধু তুমি কেন ! আমি নিজেই এখন আর আমাকে সিংহাসনের যোগ্য মনে করি না , তাই তো চলে যাচ্ছি , কিন্তু একটা সত্যি কথা জানতে ইচ্ছা করছে , এই ভয়ানক ভুল টা করার আগেও কি আমি যোগ্য রাজা ছিলাম না বলেই তোমার বিশ্বাস?

সিংহাসন : এই মুহুর্তে সিংহাসনে না বসে থাকলেও আপনি রাজা ,যার ওপরে বসে আপনি অন্যের যোগ্যতা বিচার করেন, সে কি করে আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করবে বলুন ! তবে এটুকু বলতে পারি  ক্ষনিকের জন্য হলেও কিছু মানুষের নিশ্চই মনে হয়েছিল আপনি তাদের রাজা হবার যোগ্য আর তাদের সেই মনে হওয়া যতই স্বল্পস্থায়ী হোক ,সেই চরম  মুহুর্তের সিদ্ধান্তই আপনাকে বসিয়ে দিয়েছিল

এই পরম কাঙ্খিত আসনে নাহলে আপনিও আরও অজস্র  রাজা হবার দৌড়ে সামিল মানুষের মত , সময় শেষে আমাকে দূর থেকে দেখেই  দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন  ।

রাজা পাপ বোধে বিচলিত হয়ে বললেন : শুধু একটা ভুলের জন্য সবকিছু বদলে গেল ! কেন যে আমি সাড়া দিলাম এই  সর্বনাশা যুদ্ধের হাতছানিতে ,কেন যে সকল লাভের খেলায় ক্ষতির হিসেব টাই একেবারের জন্যও চোখে পরেনি ! আসলে ভয়ঙ্কর জেতার নেশাটাই আজ আমাকে এভাবে সর্বহারা করে দিল।

সিংহাসন : আপনাকে সর্বহারা করে দিল !  কি হারিয়েছেন আপনি ? সিংহাসন ? ব্যাস ? ওটুকুই আপনাকে সর্বহারা করে দিল ?

একবার ফিরে গিয়ে দেখুন সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে , সাদা লালের মাঝখানে মরা পঁচা গন্ধে জ্ঞান হারানোর আগে নিজের অন্তর্যামী কে জিজ্ঞ্যেস করবেন সর্বহারার মানে , এই মুহুর্তে  সে উত্তর আপনি  শুনেও বুঝতে পারবেন না।

রাজা : আমি আর পারছি না ! এখনি আমার ভুলের প্রায়শ্চিও করতে চাই ! আচ্ছা ,ক্ষতিপূরণ দিলে কেমন হয় ? আমি রাজকোষ ফাঁকা করে দিতেও রাজি।

সিংহাসন : আপনি কী ক্ষতি করেছেন তা জানেন কি ? তা না জানলে মিথ্যা ই ক্ষতিপূরণের চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত হচ্ছেন !

রাজা কটাক্ষ করে বললেন : বিদ্রুপ করছো ? প্রাণ ফেরানোর কোনো উপায় জানা থাকলে কি আমি এখানে এভাবে বসে থাকতাম ?

সিংহাসন : প্রাণ ফেরানোর উপায় নাই বা জানলেন , প্রাণ নেবার অগনিত উপায় তো জানেন ,  এইসব দুর্বল , অসহায় ,সর্বহারাদের মরে যাওয়াই ভালো , তাদের নিরন্তর বুক চাপড়ে কান্না  রাজার অস্বস্তির কারণ হলে শাস্তি পেতে হবে বৈকি ! শ্বাস বন্ধ হওয়ার আগে, তাদের মধ্যে মৃত্যুভয়হীন কিছু মানুষ ,শিরদাড়ার জোরে আপনার দিকে আঙ্গুল তোলার চেষ্টা করলেও তা  সোজাসুজি আপনার দিকে  ওঠার আগেই আপনার প্রহরীর কাটারীর কোপে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাবে। কোনো ভয় নেই আপনার,  রাজার সিদ্ধান্তের বিচার হয় না পৃথিবীর কোনো আদালতে!

রাজা : তোমাকে ভালোবাসাই আমার কাল হয়েছে , যাবো ভেবেও কিছুতেই যেতে পারছি না ,কোন এক অমোঘ শক্তিতে আমাকে যেন কেউ বেঁধে রেখেছে তোমার সাথে !

সিংহাসন :  সেই শক্তির নাম  ‘লোভ’ , মহাকালের মতই সেও অন্তহীন। আপনি মিথ্যাই এত ভাবছেন ,আপনার ক্ষনিকের বিচলিত মন দু এক গ্লাস সুরাপানেই  শান্ত হয়ে যাবে মহারাজ !

রাজা উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা সোনার গ্লাসে সুরা ঢেলে বললেন : সত্যি বলছো ? এই দুঃস্বপ্নের দায়ভার আর আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে না বাকি জীবন ? রাত্রি কাটলেই সব আগের মত হয়ে যাবে?

সিংহাসন :  নিশ্চই হয়ে যাবে মহারাজ , একদম সব আগের মত, কিন্তু শুধু আপনার জীবনে !

রাজা : আর বাকি দের ?

সিংহাসন : কাদের কথা বলছেন ? যুদ্ধ ক্ষেত্রে পড়ে থাকা লাশ গুলো নাকি মৃতের সমান বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজন? নিশ্চই এদের মধ্যে কারো সব ঠিক হওয়ার আশা আপনি করছেন না মহারাজ! আর বাদ বাকিদের তো কিছু  বেঠিক ই হয়নি , তাই ঠিক হওয়ার

চিন্তা টা সময় নষ্ট ব্যতীত কিছুই নয় !

সুরার নেশায় মগ্ন রাজা বললেন : মোক্ষম উপায় বাতলেছো! মাত্র ৪ গ্লাসেই অস্থিরতা টা কমেছে  , লাল রঙ টা তেমনি স্পষ্ট  কিন্তু সাদা রঙ টা আবছা হয়ে আসছে! আমি ভেবে পাচ্ছি না এমন নিশ্চিত ভাবে তুমি বললে কি করে ? এরকম অভিজ্ঞতা কি তোমার আগে কখনো হয়েছে ?

সিংহাসন : বহুবার ! এই আসনে বসা  রাজারা তো সেই একই ইতিহাসের বিনা ব্যতিক্রমে পুরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলেছেন সেই প্রথম দিন থেকে।আপনার মতই তাদের ক্ষনিকের  পাপবোধ  দূর করতে , একরাত্রি ভরপেট সুরাপানের পর আরামায়ক বিছানাই যথেষ্ঠ ছিল ,আমার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন মহারাজ , কিছু দেখতে পাচ্ছেন ?

রাজা  নেশাতুর চোখে তাকিয়ে দেখলেন একের পর এক মুখ বদল হচ্ছে তার  সাধের সিংহাসনে ! বিস্ময়ে।,ভয়ে , উদ্ভ্রান্তের

মত সিংহাসনের কাছে দৌড়ে গিয়ে   , গদির ওপরে বসে থাকা ভদ্রলোক কে বললেন , ” আপনি ? জার্মান ইতিহাসের পাতায়  একটা খুব চেনা ছবির সাথে আপনার মুখের আদল টা যে হুবহু মিলে যাচ্ছে বিশেষ করে আপনার এই   গোঁফ টা !

একি আপনি আবার কে ? আগের জন কোথায় গেলেন ? আমার মাথাটা কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে  ! ওহ মনে পড়েছে , আপনি তো সেই ইরাকের রাজা ! কিন্তু এটা  তো আমার সিংহাসন ,আপনারা কী করছেন এখানে ? কী  চান বলুন তো ? আমার কথার উত্তর না দিয়ে কোথায় চলে গেলেন?

আবার নতুন মুখ ! আপনি তো সেই কুখ্যাত আমেরিকার অধিপতি ,আপনার হাত তো বিষাক্ত মাকড়সার জাল মশাই ,পুরো পৃথিবীকে গিলে  ফিলতে  ক গ্লাস সুরা লেগেছিল আপনার ? আমার ভিতরে খুব কষ্ট হচ্ছে যে ! যদিও  সিংহাসন বলছিল কাল সকালেই  সব ঠিক হয়ে যাবে তবুও আমার ঘুমাতে খুব ভয় করছে , নিজের অভিজ্ঞতা হাতড়ে  একটা সত্যি কথা বলুন তো ,সুরা পানের পরে  ঠান্ডা ঘরে স্বর্গী য়  বিছানায় আপনার ঘুম একবারের জন্যও লাল আর সাদা রঙের ভয়ঙ্কর স্ম্র্তি ভাঙ্গিয়ে দেয়নি ? কী  হলো ? কিছু বলছেন না  যে ?

বিশ্বাস করুন ,উত্তর টা আমার জানা খুব জরুরি!

সুরা হাতে খালি সিংহাসনের সামনে বসে থাকা রাজা জ্ঞান হারানোর আগে অদৃশ্য কাউকে অস্ফুটে  বললেন , “আপনি ? আগের জন

কো ……”

মোহিনীমোহন

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

দেওয়াল জুড়ে মনভোলানো কারুকার্য করা একটা ভীষণ সুন্দর ঘরে প্রবেশ করে, জনৈক ভদ্রলোক কাউকে উদ্দেশ্য করে বললেন : একা ঘরে আপনাকে দেখে কথা বলার লোভ কিছুতেই সামলাতে পারলাম না কৃষ্ণ স্যার ! আমাকে দেওয়া অল্প সময়, আপনার বড়সড় কোনো হিসেবের গোলমাল না করে দিলে ,একটু বসতে পারি ?

কৃষ্ণ : হ্যাঁ! বসুন না , স্বর্গে থাকলেও আমি বরাবরই খুব ‘Down To Earth’।

জনৈক ভদ্রলোক : Many Many Thank You কৃষ্ণ স্যার! মানে মরার পর হাত একেবারে খালি করে দেয় তো ,আপনার জন্য নিজের হাতে করে মাখন নিয়ে আসার আজন্ম ইচ্ছাটা পূরণ করার কি কোনো উপায় ছিল বলুন ? মানে আপনার প্রিয় খাবার যে ‘ওইটাই’ ,তা প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর দিন সকালে ,টাটকা মাখন লাভের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা দোকানে দাড়িয়ে থাকার সময় আমার শরীরের প্রতিটা মজ্জা নতুন করে উপলব্ধি করতো ।

কৃষ্ণ : উহু! আপনার মজ্জারাশির এত বছরের উপলব্ধি একেবারেই ভুল।

জনৈক ভদ্রলোক : ভুল ? মাখন আপনার প্রিয় খাবার নয় ? আপনার সুনজরে থাকতে মাখনের পিছনে আমার এত বছরের বিনিয়োগ শুধুই অপচয় বলছেন ? ওহ ! আবার সেই পুরনো বুকের ব্যথাটা শুরু হয়ে যাবে মনে হচ্ছে ! তাহলে আপনার প্রিয় খাবার কি কৃষ্ণ স্যার ?

কৃষ্ণ : আমার কাছে খাবারের নামের থেকেও তাতে মেশানো উপকরণ বেশী গুরুত্বপূর্ণ । ভালবাসা , রাগ-অভিমান ,ক্ষোভ বিদ্বেষ ইত্যাদির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিমাপ আর কি! যশোদা মা র হাতের মাখন আর আপনার বাড়ির পাশের দোকানের মাখনের মধ্যেকার উপকরণের যে বিস্তর ফারাক মশাই ! এই যেমন গতকালকের ঘটনা , শ্যামল বাবুর মেয়ে অঙ্কে কম নম্বর পেয়েছে বলে ,সকলের অজান্তে ঠাকুর ঘরে ঢুকে, সে আমার রোজের বরাদ্দ একটা পুরো বাতাসা কে অর্ধেক করে দিল । আপনাকে মিথ্যা বলব না ,সেই অর্ধেক বাতাসার স্বাদ ,হাড়ি ভর্তি অমৃতর চেয়েও আমাকে অনেক বেশী তৃপ্তি দিয়েছে ,আসলে কি জানেন! সহজ সরল চাওয়া পাওয়ার নিরন্তর বাহুডোর , বন্ধ ঘরে করা আমার ওপর মান অভিমান ,ক্ষনিকের জন্য হলেও দমবন্ধ করা ‘ভগবান’ ইমেজ থেকে আমাকে মুক্তি দেয়।

জনৈক ভদ্রলোক : মানে ? এই রকম স্পর্ধা আপনি মুখ বুজে সহ্য করলেন ? অঙ্কে নম্বর তো মেয়েটির নিজের ফাঁকিবাজি স্বভাব দোষে কমেছে, তার জন্য আপনার মধ্যাহ্নভোজ একেবারে সে অর্ধেক করে দিল ? আপনি তক্কে তক্কে থাকুন কৃষ্ণ স্যার, পরেরবার একেবারে ডাহা ফেল করিয়ে ছাড়বেন।

কৃষ্ণ : ‘ভালোবাসার অভিমান’ কে ‘অকারণ ভয়’ তে পরিবর্তন করার এরকম অব্যর্থ কৌশল শুনে আপনার নির্বুদ্ধিতার প্রশংসা না করে সত্যি পারছি না।

জনৈক ভদ্রলোক : ক্ষমা করবেন ,মানে আমি আপনার ইমেজের কথা ভেবেই ….সে যাই হোক ,এই সুযোগে একটা ভালো প্রশ্ন মনে পড়ে গেল । আচ্ছা আপনি যদি যুগ যুগান্তর ধরে চলে আসা টিপিকাল ‘কৃষ্ণ’ ইমেজের যেকোনো একটা বৈশিষ্ট পরিবর্তনের সুযোগ পান, তাহলে কোনটা বাছবেন ?

কৃষ্ণ : আমার গায়ের রঙ ।

জনৈক ভদ্রলোক : সেকি ? আপনি তো কালো রঙের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ মশাই ! সুঠাম দেহের গর্বিত অধিকারী রা নিজেদের বর্ণনায় যে বিশেষণের প্রয়োগ করে, আপনিই যে তার কর্ণধার ,মানে আমি ‘Tall ,Dark ,Handsome’ ট্যাগের কথা বলছিলাম।

কৃষ্ণ : নারী পুরুষের মধ্যে বর্ণ বৈষম্যের এই অদ্ভূত চলনের উত্তরদায়ী যে স্বয়ং আমি| গায়ের কালো রঙ আমার ‘মোহিনীমোহন’ ইমেজের ওপর কখনো কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি , নিজে কালো হলেও কাকতালীয় ভাবে আমার জীবনজুড়ে উজ্জ্বলবর্না সুন্দরীদের ভিড় , সেখান থেকেই বোধহয় পুরুষ সমাজ একটা অদ্ভুত ধারণার বশবর্তী হয়েছে যে , সে নিজে যতই কিম্ভূত কিমাকার হোক না কেন ,তার পছন্দের নারীকে সুন্দরী এবং অবশ্যই উজ্জ্বলবর্না হতে হবে।

জনৈক ভদ্রলোক :না না ,এভাবে অকারণ পাপ বোধে ভুগবেন না কৃষ্ণ স্যার , মানে ওই মেয়েদের কথাই যদি বলেন ,মা কালীর গায়ের রঙও তো কালো,তা উনি মা দুর্গার সাথে কম্পিটিশনে কমতি কোথায় যান !

কৃষ্ণ : আহা ! দেব দেবীর কথা ছাড়ুন ,মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবুন, আপনার জীবনের ফ্ল্যাশ ব্যাকে আমি পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি, নিজের কালো কুষ্টি ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে , একের পর এক মা কালীর গায়ের রঙের সুন্দর মেয়েকে গুণ বিচার না করেই মুহুর্তে নাকচ করে দিচ্ছেন । তা এখানে আপনার দোষ ধরলে চলবে কেন বলুন ! চলন টাই যে আমার সৃষ্টি।

জনৈক ভদ্রলোক : ভগবান হয়েও আপনার আত্মসমালোচনা আমাকে সত্যি বিস্মিত করছে। আচ্ছা কৃষ্ণ স্যার ,অনেকে বলে মহাভারতের যুদ্ধ টা নাকি আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে করিয়েছেন,সেটা কি সত্যি ?

কৃষ্ণ হেসে বলল : সে তো নিন্দুকেরা কতকিছুই বলে থাকে ,আর পাপমুক্তির সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটা মনগড়া কথার উপর অপরিমিত বিশ্বাস: ‘সব ই তার ইচ্ছা ‘| মহাভারতের ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে, আমি শুধু মানুষকে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম যে নিজের ভিতরের শক্তি র উচিত অনুচিতের নিরপেক্ষ উপলব্ধিকে সকলের সামনে সত্যি হিসেবে প্রমান করার ইচ্ছাপূরণের জন্য কোনো ‘মিরাকেল’ র অপেক্ষা করা নিষ্প্রয়োজন ,আশেপাশের অতি পরিচিত অবস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সে সুযোগ । ‘ভাই ভাইয়ের মধ্যে যুদ্ধ বিবাদ ‘ অথবা ‘নারী সম্মানের অবমাননা’ কি মহাভারতের আগে বা পরে আর কখনো ঘটেনি ? সর্বসমক্ষে দৈনন্দিন ঘটা এই চিরপরিচিত উদাহরণের বিনা ব্যতিক্রমে পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছিল পান্ডব ও কৌরব দল। যেখানে আমার ভূমিকা সংক্ষেপে বলতে হলে বলব : যুদ্ধ থামানোর ব্যর্থ প্রয়াসের পর কুরুক্ষেত্রে ঘটা ভয়ঙ্কর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আমি নিজের মতাদর্শ কে জগত সংসারের সামনে তুলে ধরেছিলাম।

জনৈক ভদ্রলোক : আচ্ছা আপনার মৃত্যুর কারণ কি সত্যি গান্ধারীর দেওয়া অভিশাপ? মানে খুব জানতে ইচ্ছা করছে কৃষ্ণ স্যার,ভগবান হয়েও এই শাপমোচনের কোনো উপায়ই কি আপনার জানা ছিল না ?

কৃষ্ণ বলল : দেখুন আমার জীবনকালে কত মানুষই তো আমাকে কতভাবে অভিশাপ দিয়েছে ,আমার শত্রুদলের বিস্তারিত বিবরণে আর নাই বা গেলাম । তবে এটুকু বলতে পারি ,বাকিদের মধ্যে অভিশাপ দেওয়ার প্রবণতা অথবা হাস্যকর প্রয়াস থাকলেও, যা ছিল না বলে আমার বিশ্বাস তা হলো ‘ন্যুনতম যোগ্যতা’। আপনার প্রশ্নের উত্তর আরো সহজ করতে বলব ,গান্ধারীর মধ্যে একাধারে অসাধারণ নারীত্ব ও অতিসাধারণ মাতৃ হৃদয়ের সমন্বয় দেখে , তার স্রষ্টা স্বয়ং বিস্ময়ে বার বার বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন , তাই তার মতন বক্তিত্বময়ীর অভিশাপ , আমার মৃত্যুকে জীবনের চেয়েও অনেক বেশী গৌরবান্বিত করেছে । ভগবান হয়ে শেষ দানে কিস্তিমাতের সুযোগ আমি কি করেই বা ছাড়তাম বলুন!

জনৈক ভদ্রলোক :আপনি তো সর্বশক্তিমান ,আপনার সিদ্ধান্তর উপর প্রশ্ন করার আমার মত সদ্য মৃত সাধারণ মানুষের কি বা যোগ্যতা। আমার পরবর্তী প্রশ্ন টা একটু ব্যক্তিগত আবার বিতর্কিতও বটে। রাধাকে কি আপনি সত্যি ভালো বাসতেন ? নাকি পরস্ত্রীর অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি ভগবানের পক্ষেও উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি ? মানে যদি ভালোই বাসতেন,তাহলে রাধাকে বিয়ে করলেন না কেন ? তখনকার দিনে তো বিবাহ বিচ্ছেদের এত জটিলতা ছিল বলে শুনিনি।

কৃষ্ণ হেসে বলল : বিবাহের জন্য দুটি ভিন্ন সত্তার প্রয়োজন ,তখনও যেমন ছিল, আজও তেমন আছে । এই প্রয়োজন যে অপরিহার্য , চিরন্তন ।

জনৈক ভদ্রলোক : মানে ঠিক বুঝলাম না কৃষ্ণ স্যার ।

হঠাৎ ভদ্রলোক বিস্ময়ের চোখে দেখলেন এতক্ষণ তার সামনে বসে থাকা ভুবনমোহন সৌন্দর্যের অধিকারী দিব্যপুরুষ আর নিজস্থানে নেই, তার জায়গায় বসে আছেন এক অপরুপা নারী যার সৌন্দর্যের বিবরণ দেওয়া এককথায় অসম্ভব । ভদ্রলোক ভীষণ অবিশ্বাসে চোখ বন্ধ করে ফেললেন । বেশ কিছুক্ষণ পর চোখ খুলতেই তার সামনে দৃশ্যমান হল হাসিমুখে বসে থাকা সেই চেনা দিব্যপুরুষটি ,যে হয়তো তার মনের আদ্যপ্রান্ত দেখতে পেয়ে কৌতুক মাখা স্বরে প্রশ্ন করল ,”কি বুঝলেন মশাই ? “

জনৈক ভদ্রলোক : মানে রাধা শুধুই পৃথিবীর ভ্রম মাত্র ? রাধার আড়ালে আপনি আসলে নিজেকেই ভালবাসতেন ?

কৃষ্ণ হেসে বলল : ধ্যুর মশাই ! ভ্রমের নাম হলো ‘কৃষ্ণ’ ,আসলে সবটাই যে রাধা,অনন্ত সৃষ্টিকে নিজ গর্ভে ধারনকারিনী আদ্যাশক্তি, আমি তো তার প্রতিবিম্ব মাত্র । কেউ হয়তো এই সত্যি উপলব্ধি করে পৃথিবীর দরবারে ‘রাধা’ কে সবসময় ‘কৃষ্ণে’ র আগেই রেখেছেন , সে আপনি ‘রাধাকৃষ্ণ’ ই বলুন অথবা ‘রাধেকিষণ’ , সত্যি সুপ্ত হলেও তা কিন্তু দিব্যচক্ষুতে অবলীলায় দৃশ্যমান।

প্রিয় শিক্ষক

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

সেমিস্টার শেষের ছুটিতে মামাবাড়িতে বেড়াতে আসা তৃতন তার মামাতো দিদি স্বাগতার ঘরে ঢুকে বলল : কি করছিস দিদিভাই ? আজকে তো sunday, তোর অফিস নিশ্চই ছুটি ,তাই না ?

স্বাগতা গল্পের বই থেকে মুখ তুলে হেসে বলল : হ্যাঁ রে। multinational কোম্পানি গুলোর এই এক সুবিধা ,সোম থেকে শুক্র রক্ত নিঙ্গড়ে নিলেও শনি-রবি শরীরকে সেই রক্তভান্ডারের শূন্যস্থান পূরণের সময় দেয় ,অনেকটা ওই রক্তদান শিবিরের মতন বুঝলি! বোতল ভরা রক্ত নেবার পর গ্লাস ভরা দুধ খাওয়ানোর চলন ।

তৃতন হেসে বলল : কেন ? তোর বুঝি অফিস যেতে ভালো লাগে না ?

স্বাগতা : না তা নয় ,আসলে ভালোলাগা যে কখন অভ্যেসে বদলে যায় আর অভ্যেসের স্থান যে কবে প্রয়োজন নিয়ে বসে ,তার হিসেব রাখাটা একটু মুশকিল বৈকি।

তৃতন হেসে বলল : তার মানে তুই প্রয়োজনে চাকরী করিস , ভালোবেসে নয় ?

স্বাগতা : প্রয়োজন তো বটেই , বেতনের অঙ্কের সাথে নিজের অজান্তেই খরচের হাতটাও যে এতদিনে অনেকটা লম্বা হয়ে গেছে বোনটি, আর শিক্ষকের খবরদারি কে ভালবাসা গেলেও অফিস বসের টহলদারীকে কিছুতেই যে যায় না।

তৃতন : তোর কথায় মনে পড়লো ,জানিস দিদিভাই স্কুল থেকে বেরোনোর পর কতবার ভেবেও তনিমা মিসের সাথে একবারও আর দেখা করতে যাওয়া হয়নি । এই সেমিস্টারের চাপ , প্রজেক্ট জমা দেওয়ার তাড়ায় সবকিছু কেমন যেন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। একবার তো ফুলের তোড়া আর মিষ্টি কিনে ওনাকে হঠাৎ গিয়ে সারপ্রাইজ দেওয়ার প্ল্যান করেই ফেলেছিলাম ,কিন্তু শেষ মুহুর্তে কলেজে স্পেশাল ক্লাসের নোটিশটা সবকিছু ভেস্তে দিল।

স্বাগতা : তনিমা মিস ই বুঝি তোর সবচেয়ে ফেভারিট টিচার ?

তৃতন হেসে বলল : হ্যাঁ, সেই ক্লাস ১ এ স্কুলের প্রথম দিনে ওনাকে দেখেছিলাম, কখন যে নিজের অজান্তেই এতটা ভালোবেসে ফেলেছি ,এখন ভাবলে সত্যি অবাক হয়ে যাই।

স্বাগতা হেসে বলল: কেন ? উনি বুঝি সবার থেকে আলাদা ? নিশ্চই পড়া না পারলেও কিছু বলতেন না!

তৃতন হেসে বলল : না রে দিদিভাই ,তা নয় ! হেড মিসের কাছে আমাদের নামে অন্যদের করা বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেই তনিমা মিস ভীষণ রেগে ক্লাসে এসে বলতেন, “আমি আর কি করবো ! আমি তো আর কোনো ক্লাস টিচার নই , আমি তো চিড়িয়াখানার ম্যানেজার ! আমি তো আজ হেড মিসকে বলে দিয়েছি ,এক এক করে নাম ডেকে ,হাতে TC ধরিয়ে সবকটাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিন , লোকের বাড়ি রান্না করাই যদি ভগবান কপালে লিখে দিয়ে থাকেন ,আমি তো আর ডাস্টার দিয়ে সে লিখন মুছে দিতে পারবো না ! “

কিন্ত আসলে সত্যি টা ছিল একদম অন্যরকম ,আমাদের হয়ে হেডমিসের সাথে তর্ক করতেও তনিমা মিস কখনো পিছপা হতেন না ,ওনার ক্লাস টিচার পদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় একদিন তো সবার সামনেই উনি হেড মিসকে বলে দিয়েছিলেন “যে বয়সের যা ধর্ম তা করতে না দিলে জীবনের অর্থটাই যে মূল্যহীন হয়ে যাবে,যদি ১২ বছরের ছেলেমেয়েরা রাতারাতি ম্যাচিওর হয়ে যায় ,তাহলে আর কৈশোর কথাটার যৌক্তিকতা কোথায় ! ” চিরকাল উনি হেডমিসের চক্ষুশূল ছিলেন ,নিজের যোগ্যতার জন্যেই কোনমতে চাকরীটা টিকে ছিল এই যা ,তাও কতদিন টিকেছে জানি না, শুনেছিলাম অসুস্থতার কারণে তাড়াতাড়ি রিটায়ার করেছেন ,আসল সত্যি তো অন্যকিছু বলেই আমার মনে হয়।

স্বাগতা : বুঝলাম ! চাকরীর যাওয়ার ভয়কে অবলীলায় উপেক্ষা করে , নিজের ভাবনাকে কেউ এভাবে সোজাসুজি বলতে পারলে, ভালবাসার দরজা তার জন্য যে অজান্তে খুলতে বাধ্য এতে আশ্চর্যের কিছু নেই তবুও কেন জানি না খুব জানতে ইচ্ছা করছে, শুধু কি তাই ছিল তার বিশেষত্ব ?

তৃতন : মোটেই না। ওনার বাংলা ক্লাস না করলে আমি যে নিজের ভাষাকে কোনদিন ভালোই বাসতে পারতাম না দিদিভাই ,চিরকাল আমার কাছে সেটা থার্ড সাবজেক্ট হয়েই থেকে যেত ,অনেকটা উচ্চমাধ্যমিকে নেওয়া এডিশনালের মতন ,ওটাতে ফেল করলে নম্বর হয়তো কমবে কিন্তু ওভারঅলে পাশ হওয়া আটকানোর কোনো ভয় নেই।

স্বাগতা হেসে বলল : আরো মজার উধাহরণ হবে ছোটবেলার খেলায় ‘দুধভাতের’ মত, সে ভাবছে আছে কিন্তু বাকিরা সকলে জানে তার জানা সত্যিটা আসলে কত বড় মিথ্যা।

তৃতন হেসে বলল :একদম ঠিক ! জানিস দিদিভাই ,শুধু বোধহয় তনিমা মিসের জন্যই ‘কনভেন্টে পড়েছি বলে বাংলা জানিনা’, মুখে মুখে এই গর্বিত স্বীকারোক্তি শুনে আজও আশ্চর্যের চেয়ে লজ্জাই বেশী লাগে ।

স্বাগতা এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল : তুই বরং এই ছুটিতেই তনিমা মিসের সাথে দেখা করে নিস। আবার কলেজ খুললে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যস্ত হয়ে পড়বি।
‘যেমনি ভাবা ,তেমনি কাজ ‘ নিয়মে চলবি ,তাহলে দেখবি সব না হলেও বেশীরভাগ কাজ গুলোই শেষ করতে পারছিস।

তৃতন : সে না হয় একদিন দেখা করে নেওয়া যাবে ঠিক , অনেকদিন বাকি এখনো ছুটির ,তনিমা মিসের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশী দূর নয় ।আচ্ছা দিদিভাই আমি তো বললাম ,এবার তুই তোর ফেভারিট টিচারের ব্যাপারে বল।

স্বাগতা বলল : আমার ফেভারিট টিচার স্কুলে পড়াতো না ,সেই ছোট থেকে স্কুলের শেষ দিন অব্দি আমার ওই একজনই প্রাইভেট টিউটর, আমাকে বিজ্ঞান পড়াতেন, বাকি সাবজেক্ট গুলো মা র কাছেই পড়তাম।

তৃতন : ওহ ,গোপাল স্যার ! ছুটিতে মামাবাড়ি এসে আমিও তো দেখেছি ওনাকে কতবার । একবার পড়াতে বসলে সময় জ্ঞান ই থাকতো না ওনার ,কি যে রাগ হত আমার ,সেই সময়টুকু একা একা আমার যে কাটতেই চাইতো না ,তাই তো আমি দরজার বাইরে লুকিয়ে ওনাকে ভেঙচি কাটতাম ,উল্টোদিকের চেয়ারে বসে তুই আমাকে দেখতে পেয়ে জোর করে হাসি চেপে রাখতিস।

স্বাগতা হেসে বলল : হ্যাঁ,আর মনে আছে ,স্যার বাথরুমে গেলেই টেবিলে রাখা ওনার ভাজা মৌরির প্রায় অর্ধেকের বেশী আমরা দুজনে শেষ করে দিতাম ? নিশ্চই বুঝতে পারতেন কিন্তু আজও ভেবে পাই না, কেন কোনদিনও আমাকে সেই ব্যাপারে একেবারের জন্যও জিজ্ঞাসা করেননি ।

তৃতন : আচ্ছা তুই ওনার সাথে শেষ কবে দেখা করেছিলি ?

স্বাগতা : উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে।

তৃতন : তারপর রেসাল্ট বেরোনোর পর আর দেখা করিসনি ? যতদূর মনে পড়ছে তুই তো সাইন্সের সব সাবজেক্টে ই লেটার পেয়েছিলি !

স্বাগতা : হ্যাঁ তা পেয়েছিলাম বটে কিন্তু সেইসময় আর ওনার সাথে দেখা করতে যাওয়া হয়নি ,বিভিন্ন কলেজে ফর্ম তুলতে ,কি নিয়ে পড়বো সেটা ঠিক করতে এত ব্যস্ত ছিলাম যে, ইচ্ছা থাকলেও কিছুতেই আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি ,তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ব্যস্ততা তোর মত আমারও সব ওলটপালট করে দিয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসিং এ চাকরি পাওয়ার পরদিন সকালে ,কাউকে কিছু না জানিয়েই ওনার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম ,আমার হাতে ছিল একটা মিষ্টির প্যাকেট আর প্রথম পাওয়া চাকরীর এপয়েন্টমেন্ট লেটার। কিন্তু সেদিন উনি আমার সাথে দেখা করতে কিছুতেই রাজী না হওয়ায় ফিরে এসেছিলাম ,আর কখনো ওমুখো হইনি।

তৃতন : কেন ? দেখা করতে রাজি হলেন না কেন ? এতদিন যাসনি বলে তোর ওপর রেগে গিয়েছিলেন ?

স্বাগতা : তাই হবে হয়তো অথবা আমার সাথে দেখা করলে এত বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাকে দেওয়া সব শিক্ষাই যে মিথ্যা প্রমাণিত হতো ,সেই ভয় থেকেই বোধ হয় এড়িয়ে গেলেন।

তৃতন : মিথ্যা প্রমাণিত হতো ? মানে ঠিক বুঝলাম না দিদিভাই।

স্বাগতা : উনি যে বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তৃতন,সবশেষে পঞ্চভূতের ছাই হওয়াতে বিশ্বাসী,বইমেলা থেকে কেনা আমার সাধের ভূতের গল্পের বইগুলোকে টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিতেন , সেই মানুষ পরলোক বলে কিছু আছে জানতে পারলেও আমাকে এত সহজে তা কি করেই বা জানতে দিতেন বল!

244-1139

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

পাখি কলেজ লাইব্রেরীতে ঢুকে অম্লানকে দেখতে পেয়ে ওর সামনের চেয়ারে বসে বলল , “তোর কাছে বেলা ম্যাডামের নম্বর টা আছে ?”

অম্লান অল্প হেসে বলল : কেন থাকবে না ?একেবারে মনের মনিকোঠায় সেভড আছে সেই কবে থেকে ,টুকে নে ,244-1139 ।

পাখি অবাক হয়ে বলল : এটা কি ? মোবাইল নম্বর দে।

অম্লান নির্বিকার ভাবে বলল : মোবাইল নম্বর তো জানি না ,ওই একটাই নম্বর উনি বার বার বলেছেন।

পাখি এবার রেগে গিয়ে বলল : কিসব উল্টো পাল্টা ,আমি কার কথা বলছি বলতো ?

অম্লান : তা জানি না তবে ওই নামে একজনের নম্বর ই আমার কাছে আছে ,বেলা বোস ,চিনিস নিশ্চই ?

পাখি : না ,সে আবার কে ? তোর নতুন গার্ল ফ্রেন্ড ?

অম্লান : না রে ,আমার নারী ভাগ্য বরাবর মন্দ। পা ভাঙার ভয়ে রঞ্জনার পাড়াতেও আর যাওয়া হল না আর কালো সাহেবের মেয়ে খ্রীস্টান বলে বাড়িতে সবাই বাগড়া দিল , শেষে বেলার সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় পাকা হয়েই এসেছিল কিন্তু ভেঙে দিল টেলিফোন দপ্তর, বার বার এভাবে wrong number এর অজুহাতে যেকোনো মেয়েরই সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক।তাও আবার ওদের নিজেদের বাড়িতে ফোন নেই ,পাশের বাড়ির কাকিমা বাতের ব্যথা নিয়ে ওকে ডাকতে যেতেই ফোন কেটে যেত। এভাবে কি আর সম্পর্ক টেকে !তারপর আর কি !এগারোশো টাকার চাকরী ছেড়ে অগত্যা আবার কলেজে ঢুকলাম ,প্রেম ই যখন নেই তখন আর ১০ টা ৫ টার চাকরীতে মোটিভেশন কোথায় !

পাখি : নামগুলো খুব চেনা চেনা লাগছে ,সে যাই হোক তোর প্রেমের ইতিহাস শোনার আমার সময় নেই ,একজন টিচারের নম্বর চাওয়াতে এত সব বিপত্তি।

অম্লান : তোর মত সব সাবজেক্ট এর জন্য আমি কোচিং এ দৌড়ই না বুঝলি ! আমার কাছে টিচার মানে একজনই ,সে হলো Mr Hall , পকেটে আধখাওয়া ফলের এনার্জি নিয়ে পেদিয়ে লাট করে দিত তবুও একটা ভীষন ভালবাসার টান , আজও একটুর জন্য বেরিয়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেলের শব্দ মনটা কেমন আনমনা করে দেয়,খুব মনে হয় জানিস পাখি ,মাঝ রাস্তায় এর ওর সাথে ধাক্কা না লাগলেই ট্রেনে ওনার সাথে শেষ দেখাটা ঠিক হয়েই যেত আমার।

পাখি : Mr Hall বলে এ কলেজে কেউ পড়ায় বলে তো শুনিনি, এ নিশ্চই তোর রাত জেগে টিভিতে সিনেমা দেখার ফল !

অম্লান :মোটেই না ,উনি বারণ করার পর আমি একদম আর টিভি দেখি না।

পাখি : এই উনি টা কে ? নিশ্চই ভগবানের স্বপ্নাদেশ পাসনি ! সে যাই হোক টিভি দেখিস না তো একা থাকলে করিস টা কি ?

অম্লান : একা তো আমি থাকি না ,একা লাগলেই আব্দুল মানান হোসেনের রিক্সা চড়ে আলতাভ ফকিরের বাঁশি শুনতে চলে যাই। আর কোনদিন বৃষ্টিতে বাড়ির সামনের ম্যাকলয়েড স্ট্রিট হাঁটু জল হয়ে থাকলে তো বেরোবার উপায় থাকে না ,তখন জানলা খুলে আকাশ দেখি।

পাখি : মাথাটা একেবারে গেছে মনে হচ্ছে ,ভালো ডাক্তার দেখা।

অম্লান : দেখিয়েছি তো ,বলেছে হাওয়া বদল লাগবে।

পাখি : আমি প্রথমেই আঁচ করেছিলাম ,রাঁচির টিকিট বেশ সস্তা এখন ,যা গিয়ে ঘুরে আয় চটপট ,আর বেশী দেরী করলে ভীষন বিপদ, তোর না হলেও আশে পাশের লোক জনের।

অম্লান : রাঁচি নয় ,রাঁচি নয় , পাহাড় ! ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে পরিস্কার লেখা দার্জিলিং র কাঞ্চনজঙ্ঘাই শুধু আমাকে দিতে পারে সঞ্জীবনী সুধা ,তোর বোঝার সুবিধার জন্য বলি ব্যাপরটা অনেকটা ওই বিশল্যকরণীর মত।

হঠা ৎ লাইব্রেরী ম্যাডাম ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে মুখে আঙ্গুল দেখাতেই অম্লান মুখ টা পাখির কানের কাছে নিয়ে গিয়ে বলল “এবার ওনার লেটেস্ট সিনেমার মত একদম নির্বাক হয়ে যা। “

পাখি রেগে উঠে যেতেই অম্লান হেসে ওর পিছু নিয়ে বলল “এভাবে যাস না পাখি ,তুই না থাকলে কালকের সকালবেলার চা তে পুরো চিনির প্যাকেট ঢেলে দিলেও যে পানসে ভাবটা কিছুতেই যাবে না । “

চাওয়া পাওয়া

Comments 2 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

লেকের ধারে একা একা চুপ করে বসে থাকা রাত্রির পাশে গিয়ে বসলো মৃগাঙ্ক। রাত্রি তাকে দেখেও না দেখার ভান করতে সে বলল , “কিরে রাত্রি মন খারাপ ? কারোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না ?”

রাত্রি মৃগাঙ্কর দিকে না তাকিয়েই উত্তর দিল “বলতে পারিস।”

মৃগাঙ্ক : কেন ? মন খারাপ কেন তোর ? কেউ কিছু বলেছে ?

রাত্রি : সবসময় কেউ কিছু বললেই বুঝি মন খারাপ হয় ?

মৃগাঙ্ক : বুঝলাম। তা মন খারাপের কারণ যখন বলবি না ,তখন অন্য কথা বলি,ভালো না লাগলে বলিস চলে যাবো।

রাত্রি : পৃথিবীর সব মেয়ের মন ভালো করার গুরু দায়িত্ব বুঝি তোর উপর ?

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : আগে পাশে বসে থাকা মেয়েটার মন ভালো করার চেষ্টাতে তো সফল হই তারপর না হয় বাকিদের কথা ভাবা যাবে।

রাত্রি : আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস কিরকম মেঘ করে এসেছে ! এখনি বৃষ্টি নামবে মনে হয়।

মৃগাঙ্ক : যাক ,আমি না পারলেও বৃষ্টি তোর মন ভালো করে দেবে ,আর সকলের মত তুইও নিশ্চই বৃষ্টি ভিজতে ভালোবাসিস ?

রাত্রি : না।

মৃগাঙ্ক : তোর বৃষ্টি ভিজতে ভালো লাগে না ?

রাত্রি : বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়ে মাইলের পর মাইল হাঁটার সময় অজস্র লোভী চোখের লালসাময় দৃষ্টির শিকার হয়েছিস কখনো ? যদি হতিস তাহলে ওই কাব্যিক ভালবাসার বদলে যা থাকতো তা হলো শুধুই দুঃস্বপ্ন।

মৃগাঙ্ক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল : আচ্ছা ওই ফুল টা কিরকম অন্যরকম দেখ,তুলে নিয়ে আসবো তোর জন্য?

রাত্রি : না। তোর ভালো লাগলে তুই রাখ , আমি তার সৌন্দর্যের যোগ্য কদর করতে পারবো না।

মৃগাঙ্ক : তোকে বুঝি ফুল ও আনন্দ দেয় না ?

রাত্রি : না , আমার পাওয়া সব ফুলের মধ্যে প্রেরকের সুপ্ত বাসনার স্বার্থ ফুলের সৌন্দর্য অব্দি আমাকে কখনো পৌছাতে দেয়নি।

মৃগাঙ্ক (হেসে) : আমাকেও তাহলে তুই সেই দলেই ফেলিস।

রাত্রি : তা নাহলেও অনেকদিনের ভালো না লাগার অভ্যেস হঠাৎ কি করে বদলাই বল ?

মৃগাঙ্ক : রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনবি ? ভয় নেই আমি গাইব না ,মোবাইলে বাজাবো।

রাত্রি : একদম না, জমা মনখারাপ কে মুহুর্তে চোখের জলে রুপান্তরের কৌশল রবীন্দ্রনাথের থেকে ভালো কেউ জানে না।

মৃগাঙ্ক: তবে আর কি ! বারবিকিউ চিকেনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে ,চল এবার ,খাবি তো ?

রাত্রি : না ,এখন আমার চিকেন খেতে ইচ্ছা করছে না ,তুই গিয়ে বাকিদের সাথে খাওয়া দাওয়া কর ,এভাবে আমার কাছে বসে পিকনিকের আনন্দ নষ্ট করিস না।

মৃগাঙ্ক: চিকেন আমারও বিশেষ পছন্দ নয় ,তার বদলে যদি মায়ের হাতের মুড়ি ঘন্ট হতো আহা ! আমাকে বিদায় করার তোর এতক্ষণের চেষ্টা আমি নিজের অজান্তেই সফল করে দিতাম।

রাত্রি হেসে বলল : আর তার সাথে আমার মায়ের হাতের আলু বড়ি দিয়ে তৈরী সাদা সুক্ত যা আমাকে কিছুতেই এখানে একা একা বসে থাকতে দিত না।

মৃগাঙ্ক: তুই ঠিক আমার মতই পেটুক গোছের।

রাত্রি হেসে বলল : তোর থেকে অনেক অনেক বেশী। জিরো ফিগারের হাতছানি আমি অবলীলায় উপেক্ষা করলেও থালা ভরা রঙ বেরঙের মিষ্টি র স্বপ্ন মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙিয়ে ঠিক ফ্রিজের দরজার সামনে দাড় করিয়ে ছাড়ে।

মৃগাঙ্ক (সজোরে হেসে ) : যা বললি তারপর এই প্রশ্ন টা সত্যি অপ্রয়োজন ,তবুও করছি ,তুই বুঝি মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসিস ?

রাত্রি : ভীষণ ।আমার বাবার তো মিষ্টির দোকান ,স্কুলের গরমের ছুটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল রাত জেগে সবার সাথে মিষ্টি বানানো, তার মধ্যে ক খানা যে সবার অগোচরে মুখে পুরে ফেলতাম তার হিসেব সত্যি কখনো করিনি।

মৃগাঙ্ক : কিছু হিসাব বোধ হয় না করাই ভালো নাহলে যোগ বিয়োগের সীমাবদ্ধতা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়ে যাবে।

রাত্রি : একদম ঠিক। ছোটবেলার বেহিসাবী মন আর নিশ্চিন্ত ঘুমের রাতগুলোর জুরি মেলা ভার।

মৃগাঙ্ক : আচ্ছা তুই লক্ষী পুজোতে আল্পনা দিয়েছিস কখনো ?

রাত্রি : কতবার দিয়েছি কিন্তু সে আল্পনায় লক্ষীর পাঁচটা আঙ্গুল হয় থেবড়ে গিয়ে আলাদা ভাবে বোঝা যেত না অথবা এতটাই দূরে দূরে থাকতো যে হঠাৎ দেখলে গোরিলার পায়ের ছাপ মনে হতে পারে।

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : গোরিলার হলেও পা তো আঁকতে পারতিস ,আমি চেষ্টা করেও যখন পা ,ফুল ,পাতা কিছুই আঁকতে পারতাম না তখন সব জল ন্যাকরা দিয়ে মুছে দিতাম কিন্তু শোকাবার পর বুঝতে পারতাম ঠিক মত মুছতেও পারিনি , মেঝে জুড়ে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়ে থাকা সাদা দাগ দেখে বাড়ির লোকজন আমাকে পেলেই গম্ভীর ভাবে প্রশ্ন করত ” এত সুন্দর আল্পনা কে করলো বলত টুটুল ? “

রাত্রির খিল খিল হাসি কিছুক্ষণ উপভোগ করে মৃগাঙ্ক বলল ” জানিস রাত্রি আমার কাছে মায়ের পাঠানো একটা জিনিস সবসময় মজুত থাকে যা শেষের দিকে হলেই মা নগেন কাকা কে দিয়ে আবার পাঠিয়ে দেয় ,আজও তা আছে আমার পকেটে ,তুই যদি বলিস তোকে তার থেকে ভাগ দিতে পারি। “

রাত্রি হাসি থামিয়ে বলল ” কি জিনিস রে ?”

মৃগাঙ্ক বলল : নাম বলছি না তবে ক্লু দিচ্ছি ,সেটা হল লক্ষী পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

রাত্রির চোখ খুশিতে জ্বল জ্বল করে উঠলো ,পকেট থেকে বার হওয়া মৃগাঙ্কর হাতের মুঠো রাত্রি নিজের হাতে মুহুর্তে খুলে ফেলে সব কটা একসাথে মুখে পুরে চোখ বন্ধ করে বলল : আহ ! অমৃতর আরেক নাম বোধহয় নারকেলের নাড়ু ,বুঝলি মৃগাঙ্ক ?

মৃগাঙ্ক হেসে বলল : সব মন খারাপ তুই একসাথে গিলে ফেললি ?

রাত্রি চোখ বুজেই বলল : গিলে তো তোর আল্পনার গল্পের সাথেই ফেলেছিলাম ,নাড়ুর স্বাদে তা হজম হল মাত্র !

ভালোবাসার রাখী

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

পাঞ্জাবী ছেলেটি হাতে একটা রাখী নিয়ে ঘরে ঢুকে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকা বাঙালী মেয়েটার কাছে গিয়ে বলল :মেরে হাত মে ইয়ে বান্ধ দেগী ? মেরে বহেন নে স্পীডপোস্ট সে ভেজী আজ সুভা।

মেয়েটি হেসে রাখীটা ছেলেটির হাতে বেঁধে দিতে দিতে বলল , ” মনে রাখিস আমাকে দিয়ে রাখী বাঁধালি কিন্তু ,আজ থেকে আমি তোর বোন হই সম্পর্কে।

ছেলেটি : আগার মেরে বহেন বান্ধ্তি তো ইয়ে জরুর রাখী হোতা লকিন অব ইয়ে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড হ্যয়।

মেয়েটি হেসে: বাহ্ ! কি অভাবনীয় কনসেপ্ট ! তোর মতই যাতাকলে পরা কেউ বোধহয় এই “ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড” ব্যাপারটা মাথা থেকে বার করেছিল।

ছেলেটি : Don’t say a word about the person ,he is the saviour of mankind.

মেয়েটি : সেই ! সম্পর্কের দই না বানালে আর ‘ saviour of mankind’ এর তকমা পাওয়া কিভাবেই বা সম্ভব।

ছেলেটি : দহি ? ইউ মিন মিষ্টি দহি ? auntyজি নে লাই হয় কয়া ?

মেয়েটি : ধুর তেরি ! একটু কঠিন কিছু বললেই হলো ব্যাস বাংলা ভাষার একেবারে সৎকার করে তবেই ছাড়বে।

ছেলেটি : যা না থোড়া মিষ্টি দহি লেকে আ মেরে লিয়ে।

মেয়েটি : কোনো দই টই নেই ,আর থাকলেও তোকে দিতাম না,আগে বাংলা শেখ তারপর বাংলার দই খাবি।

ছেলেটি :আজ রাখী কে দিন ,ফিরভি তু..

মেয়েটি : “রাখী কে দিন ” মানে কি ? এটা কি তোদের দিন নাকি ? এটা এখানে কে শুরু করেছিল জানিস ?

ছেলেটি : I know ,দ্যাট ইস Tagore .

মেয়েটি : যাক ! এটুকু জেনে রবীন্দ্রনাথের জন্ম সার্থক করে দিলি। হ্যা যেটা বলছিলাম, এই দিনটা রবীন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন আর যেহেতু উনি বাঙালি ছিলেন,তাই রাখীর দিন টা আমাদের মানে বাঙালীদের দিন যেটা তোরা অবাঙালীরা কপি করেছিস।

ছেলেটি নিজের হাতে বাঁধা রাখীর একটা ছবি তুলে মোবাইলে সেটা বোনের নম্বরে পাঠিয়ে বলল :অবাঙালীরা ? For you only two type of people exist in this world : বাঙালী ওর অবাঙালী ? রাইট ?

মেয়েটি : হ্যা তাই। পাঞ্জাবী ,গুজরাতি না মারওয়াড়ি এত চুলচেরা বিশ্লেষণে আমরা যাই না, বাঙালী নয় ব্যাস।

ছেলেটি : Don’t you think you people are too proud to argue ?

মেয়েটি : একটা বাঙালির শুরু করা ফেস্টিভালে এভাবে ছুটি নিয়ে মন্ডা মিঠাই খেয়ে ভাংড়া নেচে এনজয় করছিস ,আর সত্যি বললেই argument হয়ে যায় কি বল ?

ছেলেটির ফোন বেজে উঠলো ,ওপাশে বোনের কন্ঠস্বর : “হ্যাপি Rakhi ভাইয়া ,থাঙ্কস for sending picture wearing my Rakhi ,you look awesome ।”

মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ছেলেটি বোনকে হেসে উত্তর দিল “Be grateful to Rabindranath ,It’s all about him ,otherwise the picture would not exist as well as Rakhi ,I doubt if we ,I mean all ‘অবাঙালী’ nonsense people would exist or not “.

মেয়েটি রেগে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

ভগবান ও জাতিস্মর

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

ভগবানের সামনে দাড়িয়ে থাকা মৃত জাতিস্মর বলল : ” আপনি কিভাবে এটা করতে পারলেন ? শুধুমাত্র একটা জন্মের গ্লানি মানুষের কাছে কি ভীষণ অসহ্য আপনি জানেন না ? তা সত্বেও আমাকে আপনি এভাবে গত জন্মের স্ম্র্তি নিয়ে পুনর্জন্ম দান করে দিলেন ?

ভগবান : ওটা ভুল না ভেবে সুযোগ কেন ভাবছো না ?

জাতিস্মর :সুযোগ ?

ভগবান : হ্যা ,গত জন্মের ভুল গুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ।

জাতিস্মর : মোটেই না। আমি এঘরে ঢোকার আগে শুনেছি আপনি নিজের মনে নিজের করা ভুল আওরাচ্ছিলেন ,ভুলে যাবেন না আমি আর জীবিত মানুষ নই ,আমি এখন অশরীরী ,আপনার মত না হলেও আমারও কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে। নিজের ভুল স্বীকার করতে না পারলে আপনি কেমন ভগবান ?

ভগবান :তুমি বুঝতে ভুল করছো ,আসলে আমার তৈরী একটা যন্ত্র আমাকে আশানুরূপ ফল না দিয়ে বারবার অবাক করে দিচ্ছে । তাই সেই ক্যালকুলেশন টাই নতুন করে করার চেষ্টা করছিলাম।

জাতিস্মর : কিসের ক্যালকুলেশন?

ভগবান :আমার স্ম্র্তি যন্ত্রের ক্যালকুলেশন।

জাতিস্মর : স্ম্র্তি যন্ত্র টা আবার কি ?

ভগবান : আমার স্ম্র্তি যন্ত্রের পৃথিবীর দেওয়া নাম মস্তিষ্ক।

জাতিস্মর : ওটাই তো যত গন্ডগোলের মূল। আপনার ক্যালকুলেশনের ভুলের খেসারত কত লোক দিচ্ছে জানেন ? এভাবে অঙ্কে কাঁচা হলে কি আর ভগবান হওয়া যায় ?

ভগবান :আহ ! বিব্রত কোরো না,সকালবেলা ২ ঘন্টা ছাড়া আমি কোনো অভিযোগ শুনি না। এখন তুমি এসো। আমি ভুল টা কোথায় আবার বোঝার চেষ্টা করি ।

জাতিস্মর : আসবো মানে ? আপনার যমদূতের কাছে শুনলাম আমার আবার পুনর্জন্ম হবে। আপনার যন্ত্রের ডিফেক্ট না ঠিক হলে আমি আর কোনো রিস্ক নিতে চাই না। নাহলে এবার ২ জন্মের স্ম্র্তি নিয়ে না জন্মে যাই আমি!

ভগবান :তা হবে না ,আমি তোমার হবু মস্তিস্কে নিজে হাতে “সকল অতীত বিনাশ” বোতাম টিপে দিয়েছি ,একেবারে খালি পরীক্ষা করে তবে ই হ্যান্ড ওভার দেওয়া হয়েছে।

জাতিস্মর : তবে আবার এখন কি করছেন ?

ভগবান : এটা অন্য ব্যাপার। তুমি বুঝবে না। তুমি এসো এখন। তোমার সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।

জাতিস্মর : আমাকে একবার বলেই দেখুন না। আপনার ভুলের অসীম কৃপায় পরপর ২ জন্মের অঙ্কবিদ্যা আমি একবর্ণ ভুলিনি। আপনার সব ক্যালকুলেশন পারফেক্ট না করে দিলে আমার নাম শ্যামাচরণ চাটুজ্যে নয় ,হে হে লেটেস্ট জন্মের নাম টাই বললাম,আপনি এমনিতেই যা কনফিউসড ,আর করতে চাই না।

ভগবান : বেশ বেশ। তা গোলমাল টা হচ্ছে যন্ত্রের মেমরি আইডেন্টিফিকেশন ক্ষমতা নিয়ে। মানে যা মনে রাখার কথা তা মনে রাখতে পারে না আবার যা ভুলতে চায় বা ভুলে যাওয়া উচিত বলেই আমার বিশ্বাস ,তাই বেশী করে মনে রাখে।

জাতিস্মর : একবার reboot করে দেখুন না।

ভগবান : ধুর ,তুমি যাও তো বাছা। যতসব উল্টোপাল্টা।

জাতিস্মর : কেন ? ভুল বললাম ?

ভগবান : তুমি ২ জন্মে কি শিখেছ কে জানে ! আর যেই জানুক ভগবান তো জানে না। প্রতিবার নতুন জন্মের আগে আমি নিজে বসে যন্ত্র reboot করি , “সব অতীত বিনাশ” বোতামের ওটাই কাজ ! অসুবিধা হচ্ছে এটা সিলেক্টিভ বিনাশ করতে পারে না ,একবার করতে শুরু করলে একসাথে সব করবে যদি না মাঝখানে বিগড়ে যায় ,সেটা যদিও খুবই কম হয়,তবুও যন্ত্র যখন ,বিগড়ানো স্বাভাবিক সে ভগবানের বানোনো হলেও।

জাতিস্মর : তা আমি এত কি করে জানব ? আমার বেলায় তো আর আপনি “সব অতীত বিনাশ” করেননি।

ভগবান : শুধু একবার করতে পারিনি ,তাও করছিলাম,প্রায় শেষের দিকে ছিল,ডাক্তারের তাড়া থাকায় আগেই তোমাকে মায়ের পেট থেকে বার করে নিল।

জাতিস্মর : তা ঠিক ,মা বলেছিল বটে ,আমি প্রি ম্যাচিওর বেবি ।

ভগবান : যাইহোক তোমাকে আগেই বলেছিলাম ,ভুল না ভেবে ওটাকে সুযোগ ভাবো যদিও গত জন্মের ভুলের পুনরাবৃত্তি ছাড়া তুমি আর কিছুই করে উঠতে পারোনি।

জাতিস্মর :শুনুন অন্যের ভুলের খেসারত দিতে হলে আর সুযোগের সদব্যবহার করা যায় না,সে ডাক্তারের করা ভুল আর ভগবানের দেওয়া সুযোগ ,যাই হোক না কেন!

ভগবান :আহ ! বললাম না ,অভিযোগের সময় সকালবেলা দুঘন্টা।

জাতিস্মর : তার আগেই যদি আমার পুনর্জন্ম হয়ে যায়! বলা কি যায় ? আমার বর দান চাই।

ভগবান :মানে ? কি বরদান ? আর বরদান লাভের কি বা যোগ্যতা তোমার ?

জাতিস্মর : যোগ্যতার প্রশ্ন ছাড়ুন ,আমি অন্যের ভুলের শিকার। পেনাল্টি র বদলে বরদান। আমাকে দিতেই হবে। দিয়ে দিন ,আমি চলে যাচ্ছি।

ভগবান :মহা মুশকিল হলো তো ! এদিকে ক্যালকুলেশন টা …আচ্ছা তাড়াতাড়ি বলো কি চাই তোমার ?

জাতিস্মর :নতুন জন্মে এক অমোঘ শক্তি।

ভগবান : কি শক্তি ?

জাতিস্মর :”যখন যা চাইবো মুহুর্তে ভুলে যাবো। ” ব্যাস তাহলেই নতুন জীবন একেবারে দুঃখ কষ্টহীন,এক কথায় স্বর্গপ্রাপ্তির সুখ বুঝলেন কিনা ! তথাস্তু বলে দিন , এক্ষুনি চলে যাচ্ছি!

ভগবান রেগে উঠে দাড়িয়ে জাতিস্মরকে মুহুর্তে টেনে নিয়ে গেলো একটা বিশালাকায় জানলার কাছে ,জাতিস্মর অবাক হয়ে দেখছে একটা ক্লাস ঘর, অনেক ছেলে মেয়ে সেখানে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে ,তার মাঝে একজন শিক্ষকের কড়া পায়ে টহলদারী । জাতিস্মর কিছু বলার আগেই ভগবান কঠিন কন্ঠস্মরে বলল “ভালো করে তাকিয়ে দেখো শেষ বেঞ্চিতে বসা ওই ছেলেটার দিকে। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে অনেকক্ষণ হলো ,ও এখনো কিছুই লিখে উঠতে পারেনি ,ওর জল ভরা চোখের ভিতর উথালপাতাল প্রশ্নের ভিড় দেখতে পাচ্ছো ? ২ বছর আগে ক্লাসের এই সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটি একবার নয় বারবার চেষ্টা করে চলেছে পরীক্ষার শেষ দিন তাকে স্কুল থেকে নিতে আসার সময় দুর্ঘটনায় মৃত মায়ের স্ম্র্তি ভুলতে। কিন্তু পারছে কি ? কেন পারছেনা বলে তোমার মনে হয় ? আমি যে এই পাগলের মত দিনরাত নিজের মনে ক্যালকুলেশন আওরাচ্ছি তা কি আমার স্বভাব দোষ বলে তোমার বিশ্বাস ? এখনো যদি কিছুই বোঝার ক্ষমতা না থাকে ২ জন্ম কেন ,হাজার জন্মের স্ম্র্তিও মূল্যহীন। “

নিথর হয়ে দাড়িয়ে থাকা জাতিস্ম্ররের পাশ থেকে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে ভগবান বললেন , “প্রহরী! আমাকে এখন একা থাকতে হবে ,কেউ যেন কিছুতেই আমাকে বিব্রত না করতে পারে। “

তারপরের কথাগুলো ভগবান নিজের মনে আওড়ালেন তবুও অশরীরী শক্তিবলে জাতিস্মর শুনতে পেল ভগবান বলছেন “কোথায় একটা ছোট্ট ভুল এতবার দেখেও কেন যে কিছুতেই বুঝতে পারছি না ,যেভাবেই হোক আমাকে খুঁজে বার করতেই হবে , নাহলে যে ছেলেটা ….”

দোভাষী রবীন্দ্রনাথ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

বাঙালী মেয়েটি (দ্রুত ঘরে ঢুকে ) : আমি তোকে বিয়ে করবো না !

পাঞ্জাবী ছেলেটি : কিউ ? ফির কয়া হো গয়া ? ম্যায়নে “লার্ন বেঙ্গলি ইন ৩০ ডেস ” বুক ভি পড়লি তেরে মুর্শিদাবাদ রহেনেয়ালি নানীমা সে বাত করনেকে লিয়ে। I know লাস্ট টাইম উনকে ‘ঘুম পেয়েছে ? ‘ সাওয়াল বিনা সামঝে আনসার মে ম্যয় আমেরিকা ,জাপান , অউর সব জাগা যাহা বিসনেস ট্রিপ কে লিয়ে গয়া থা গলতিসে বল দিয়া,ইসিলিয়ে মুজসে গুদসা হ্যয় তু। পর ম্যয় কিতনি বার মাফি তো মাঙ লি ,ফিরভি তু..

বাঙালী মেয়েটি: ওটা ছাড়াও অন্য কারণ আছে।

পাঞ্জাবী ছেলেটি : ও কয়া ?

বাঙালী মেয়েটি: : তুই রবীন্দ্রনাথ বুঝিস না।

পাঞ্জাবী ছেলেটি : রবীন্দ্রনাথ ? ইউ মিন রবীন্দ্রনাথ টেগোর ?

বাঙালী মেয়েটি: দেখলি তো ? তোর কাছে যা টেগোর আমার কাছে তা ঠাকুর। এই জন্যেই আমি ঠিক করে নিয়েছি তোকে বিয়ে করবো না ।

পাঞ্জাবী ছেলেটি : let me understand properly , ইংলিশ মে ঠাকুর কো লোগ টেগোর কহেতে হ্যায় ইসিলিয়ে তু মুঝসে শাদি নাহি করনা চাহাতি?

বাঙালী মেয়েটি: দেখেছিস তো ?কিরকম কিছুই বুঝতে পারিস না তুই ! সারাজীবন এভাবে উল্টো গনেশের সাথে আমি ঘর করতে পারব না। হ্যা ১৫ বছর আগে তোর আধো আধো বাংলা শুনে হাসি পেলেও এখন আর পাচ্ছে না ,বরং রাগে গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।

পাঞ্জাবী ছেলেটি : Still I need a valid reason ,Only Tagore is just not acceptable .

বাঙালী মেয়েটি: What do you mean by only Tagore ?এতদিন একটা বাঙালী মেয়ের সাথে থেকে রবীন্দ্রনাথের আগে “ONLY” লাগানোর তোর সাহস হলো কি করে ?

পাঞ্জাবী ছেলেটি : টেগোরের আগে লাগিয়েছি ,ঠাকুরের আগে নয়।

বাঙালী মেয়েটি:আমার মত এরকম একটা মনেপ্রাণে বাঙালী মেয়েকে বিয়ে করার কোনো যোগ্যতাই তোর নেই। এটা তোর কাছে না হলেও আমার কাছে valid reason.এতদিনে বাংলার ‘ব’ ও ভালবাসতে পারলি না। আমি জানি শেষ দিন অব্দি ওই পাঞ্জাবের ‘প’ তেই আটকে থাকবি।

পাঞ্জাবী ছেলেটি :তুই ভুল জানিস ,I love রসগুল্লা। I just love it রে।

বাঙালী মেয়েটি: মিষ্টির নাম টা ‘রসগুল্লা’ নয় রসোগোল্লা। আর তোকে কে বলল শুধু ‘রসোগোল্লা’ খেতে ভাললাগলেই বাংলাকে ভালবাসা হয়ে গেল ?

পাঞ্জাবী ছেলেটি : আরো আছে, ফেলুদা ,ব্যোমকেশ এন্ড মাই ফেভারিট লালমোহন বাবু। সবকটা সিনেমা আমি তোর সাথে দেখেছি ভুলে যাস না।

বাঙালী মেয়েটি:নিচে ইংলিশ subtitle দেখে আমিও স্প্যানিশ সিনেমা দেখে থাকি। আমি আর জানিনা তোর পেটে পেটে কত বাঙালিয়ানা।

পাঞ্জাবী ছেলেটি :বাঙালিয়ানা কাকে বলে জানি না তবে , বাংলার খাবার খেতে ভালোলাগে ,বাংলায় তৈরী সিনেমা ভালোলাগে ,রবীন্দ্রনাথ বাংলায় না পড়লেও ইংরাজীতে পড়েছি বৈকি ,আর সেই ছোট্ট বেলা থেকে ভালো লাগে একটা বাঙালী পাগল মেয়ে যে এখন ঝগড়া করতে এতটাই ব্যস্ত যে এতক্ষণ খেয়ালই করেনি তার পাঞ্জাবী বন্ধুর ক্রমান্যয় বাংলা সংলাপ।

বাঙালী মেয়েটি:সত্যি তো।একদম খেয়াল হয়নি।তুই বুঝি শুধু আমার জন্যে বাংলা শিখলি ?

পাঞ্জাবী ছেলেটি : না। Only Tagore compelled me .

বাঙালী মেয়েটি (রাগের ভান করে ): তোর বাজে কথা শোনার সময় নেই আমার ,বিয়ের অনেক শপিং বাকি।

পাঞ্জাবী ছেলেটি : সে যা তবে “লার্ন বেঙ্গলি ইন ৩০ ডেস ” এর উপর কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে পারছি না। সেই তো তীরে এসে নৌকা ডুবি হওয়া এ যাত্রায় বাঁচালো।

বাঙালী মেয়েটি (হেসে): ওটা ‘তীরে এসে তরী ডোবা’ হবে। রবীন্দ্রনাথ আর ‘লার্ন বেঙ্গলি ইন ৩০ ডেস’ থেকে শেখা শব্দ কেমন চমৎকার গুলিয়ে ফেললি ,এই না হলে বাঙালী মেয়ের হবু পাঞ্জাবী বর !

Moment of Lifetime

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

৬৪ বছরের বাঙালী ভদ্রলোক তার বিদেশিনী স্ত্রীর সামনে একটা অনেক পুরনো ছবি ধরে বলল:

A Beautiful Lake , A Young Childish Girl smiling indefinitely looking at my camera , An ordinary but splendid afternoon ,What should it be called ?

৬৩ তে পা দেওয়া বিদেশিনী: তোমার কুবেরের সকল ধন রাশি যার কাছে তুচ্ছ ,”A Moment Of Lifetime”.

মুক্তি দে

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

একটা গোল করা কাগজের টুকরোর সরু দিকটা ঘুমন্ত তীর্থ র কানে ঢুকতেই ,তীর্থ বলল:”আহ ! সকাল সকাল এভাবে জ্বালাস না মৌনী ,আরেকটু ঘুমাতে দে প্লিস।”

একটা আদো আদো কন্ঠস্বর তার উত্তরে বলল ” মৌনী কে বাবা? আমি তো তাতান !”

তাতানের গলায় চমকে উঠে তীর্থ ওকে লেপের তলায় নিয়ে আদর করে বলল ,” আমার তাতান সোনা দেখছি ভীষণ দুষ্টু হচ্ছে দিন দিন !” তাতানের খিলখিল হাসির মধ্যে তীর্থ চোখ বুজে বালিশে মুখ চেপে নিজের মনেই বলে উঠলো :

“আর কত দিন ? মুহুর্তের জন্য হলেও এবার আমায় মুক্তি দে , দোহাই তোর! ”

সত্যি মিথ্যা

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

রীনা : তুমি কি বিয়ের আগে কাউকে ভালোবেসেছো ?

অমল : না ! আর তুমি ?

রীনা : না।

কিছুক্ষণ পরে রীনা তার কাপড়ের বাক্সে সবচেয়ে তলার শাড়ির ভাজে রাখা চিঠি গুলোর উপর হাত দিয়ে মনে মনে বলল : আর সকলের মত আমিও চেষ্টা করব বাকি জীবনটা এই নতুন সংসার আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে কিন্তু আমার কাছে ভালবাসার মানে চিরকাল এই পুরোনো কাগজের টুকরো গুলোই থাকবে। এই সত্যি যে কাউকে বলার নয় , আমার অন্তরের মেয়েটা ছাড়া তো এ আর কেউ বুঝবে না।

রীনাকে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকতে দেখে ঝাপসা চোখে জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকা অমল একটা পুরনো রঙ ওঠা ছবি সযত্নে মানি ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়ে রাখল।

রীনা : তোমার চোখে কি জল ?

অমল (চশমা টা পরে নিয়ে অল্প হেসে ) : কই না তো। ওই চশমাটা খুললেই অসুবিধা, চোখের পাওয়ার টা বদলাতে হবে, এবার একটা ডাক্তার না দেখালেই নয়।

মৃত মানুষ ও যমদূত গোছের কেউ

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

মৃত মানুষ : আমি ভগবানের সাথে দেখা করতে চাই।

যমদূত গোছের কেউ : ওনাকে দেখা যায় না ,উনি নিরাকার।

মৃত মানুষ :আকার না দেখা যাক ,সাদা আলখাল্লা ধরনের পোশাক অথবা গাড়ির হেডলাইটের মত চোখ ধাধানো আলো ,কিছু তো দেখা যাবে !

যমদূত গোছের কেউ : সে আবার কি ? নিরাকারের পোশাক কি প্রয়োজন আর এখানে কখনো অন্ধকার হয় না যে ভগবান নিজেই আলো হয়ে ঘুরবেন।

মৃত মানুষ : ও তাহলে বোধ হয় সবটাই বুজরুকি। সে যাই হোক ,আমার ভগবানের সাথে কথা বলা দরকার। উনি কথা তো বলেন নাকি তাও বলেন না ?

যমদূত গোছের কেউ : তা বলেন তবে জন বিশেষে ,এভাবে সবার সাথে নয়।

মৃত মানুষ : ও এখানেও বাছ বিচার ? সামান্য প্রশ্ন করতে হলেও আগে যোগ্যতা বিচার করতে হবে ?

যমদূত গোছের কেউ : তা তো বটেই ! ওনাকে প্রশ্ন যে খুশি করতে পারলেও উত্তর উনি জন বিশেষেই দিয়ে থাকেন।

মৃত মানুষ : তা কি সেই যোগ্যতা প্রমানের মাপকাঠি ? পাপ পুন্যের হিসেব ?

যমদূত গোছের কেউ : পাপ পুন্যের হিসেব বলে কিছু হয় না।

মৃত মানুষ : সেকি ? শুধু নরক যাবার ভয় কত ইচ্ছাই যে অপূর্ন রয়ে গেল। আর শুধু পুণ্য লাভের আশায় বুকে পাথর রেখে দান ধ্যানে কত অপচয় না করেছি ,আর আপনি এখন বলছেন পাপ পুন্য বলে কিছু হয় না!

যমদূত গোছের কেউ: আপনি ভুল করছেন। হিসেব মানে তো যোগ বিয়োগ তাই তো ? একটা ছাগল আর ২ টো ঘোড়ার মধ্যে কি যোগ বিয়োগ হয় ?

মৃত মানুষ :মানে ঠিক বুঝলাম না !

যমদূত গোছের কেউ: মানে মানুষের করা প্রতিটা পাপ অথবা পুণ্য একেবারে আলাদা সত্বা ! একে অপরের সাথে যোগ বিয়োগ করার জন্য সমগোত্রীয় হওয়া আবশ্যক। এই ধরুন ঠাকুমার আঁচারের বোতল থেকে আঁচার চুরি করার জন্য হওয়া পাপের সাথে সেই ঠাকুমাকে শেষ সময় একবারও না দেখতে যাওয়ার পাপের কিভাবে যোগ করা যায় তা ভগবানের জানা নেই! আবার ধরুন রাস্তার কুকুর কে বিস্কুট দেওয়ার পুন্যের থেকে কিভাবে স্ত্রী র পেটের কন্যা ভ্রুণ হত্যা করার পাপ কে বিয়োগ করা যায় তাও ভগবানের অজানা। তাই প্রথম দিকে চেষ্টা করলেও ভগবানের আর হিসাব কষা হয়নি।

মৃত মানুষ : তাহলে বিচার টা কিভাবে হয় ? তার থেকেও বেশি যেটা জানা জরুরী সেটা হলো কত সময় ধরে হয় ?

যমদূত গোছের কেউ: বিচার তো হয়ে গেছে ! তৎক্ষনাৎ , মুহুর্তে ! একি আপনাদের হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট পেয়েছেন নাকি ? নাটক দেখার অবসর আপনাদের থাকতে পারে মশাই ,ভগবানের নেই।

মৃত মানুষ : তবে এখন শুধু ই ফল প্রকাশের অপেক্ষা ? একটা কথা বলুন বিচার যখন হয়েই গেছে তখন অপরাধীর শাস্তিও তৎক্ষনাৎ হলে কি ক্ষতি হত ? ভগবানের বিচার তো সবাই টিকিট কেটে দেখতো মশাই ,সারাজীবন শুধু কথার কথা হয়ে থাকত না ব্যাপারটা ,আপনি নিশ্চই জানবেন পরলোক ব্যাপারটা অনেকেই এখনো ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি তাই ব্যাপারটা জীবদ্দশায় চালু করতে পারলে ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট র উপর চাপটা বেশ অনেকটাই কমত!

যমদূত গোছের কেউ: সবই তো বুঝলাম কিন্তু শাস্তি দেওয়ার জন্য যে যন্ত্র টা প্রয়োজন সেটা বেশির ভাগ মানুষই বিনা ব্যবহারে একেবারে খারাপ করে ফেলে ,তাই ভগবানের ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। মাঝ রাস্তায় গাড়ি দাড় করিয়ে তো আর মেরামত করা যায় না মশাই , গ্যারেজ না করলে অতি বড় মেকানিকও যে ভীষণ অসহায় ! তাই পেট্রোল শেষ হবার অপেক্ষা ছাড়া কিছুই বিশেষ করার থাকে না, এখানে এলে সেই যন্ত্রকে আবার নতুন করে ইনস্টল করা হয় আর যেকোনো কাউকে শাস্তি দেবার আগে তার কার্যকারিতা ভগবান নিজের উপর পরীক্ষা করে দেখে নেন ।

মৃত মানুষ: কি সেই যন্ত্র ? আর পাপের শাস্তি টাই বা কি ?

যমদূত গোছের কেউ: যন্ত্রটার নাম হলো ‘বিবেক’ আর শাস্তির নাম হল ‘বিবেক দংশন’। অপরাধীর পাপের পরিমাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় দংশনের তীব্রতা ! সামনে অপরাধের ফ্ল্যাশব্যাকের সাথে ক্রমান্যয়ে বাড়তে থাকে এই দংশনের ধ্রুপদী নৃত্য , জন বিশেষে কতক্ষণ চলবে তা মহাকালেরও অজানা , আমার মনে হয় ঠিক ততক্ষণ অব্দি যতক্ষণ না সেই অপরাধের শিকার হওয়াতে বেরোনো চোখের জলের শেষ বিন্দু টা পর্যন্ত মুক্তির বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।

মৃত মানুষ (ঢোক গিলে ): সে তো অগনিত চোখের জল ,সমুদ্রের শেষ বিন্দু কোথায় তা কি আর কারো জানা আছে ! ইস ,আগে যদি একটু ধারণা থাকত ব্যাপারটা নিয়ে ! ‘বিবেকের দংশন’ তো নিদারুন যন্ত্রণা মশাই ,অনেক ছোটবেলায় আমার একবার হয়েছিল ,আমার অন্যায়ের জন্য যখন বড়দা মায়ের কাছে মার খেয়েছিল। সে দংশনের দায়ভার কারণে অকারণে সারা জীবনের অগণিত মুহুর্তে বয়ে বেরিয়েছি।

যমদূত গোছের কেউ: এখানে একেবারে ধুলো ময়লা হীন ঝকঝকে নতুন ইনস্টল করা বিবেক মশাই ,সদ্যজাত শিশুর নিষ্পাপ মুখের মতই সতেজ আর প্রানবন্ত,নিজের দোষ আড়াল করার কৌশল যার একেবারেই অজানা, এর দংশন একবার অনুভব করলে ওই সব আগুনের গহ্বর ,গরম তেলের কড়াই ,নরক নামক কাল্পনিক জায়গার জ্বালা যন্ত্রণাকে বেশ আরামদায়ক বলেই মনে হবে !

মৃত মানুষ : আচ্ছা ,ক্ষমা চাইলে কেমন হবে ? ভগবান তো শুনেছি খুব দয়ালু ,শাস্তি কম করে দেবেন নিশ্চই তাহলে একটু হলেও,কি বলেন ?

যমদূত গোছের কেউ:যার কাছে অপরাধ করেছিলেন তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন কি ? সে যদি না করে থাকতে পারে তাহলে ভগবান কি করে করবে বলুন ,উনি বরাবরই ভীষণ ইনসেনসিটিভ!

মৃত মানুষ : আচ্ছা ,উনি নিজের উপর বিবেক যন্ত্রের কার্যকারিতা কিভাবে পরীক্ষা করেন ? ভগবান নিজেও কি পাপ করেন নাকি ?

যমদূত গোছের কেউ:এই ধরুন আপনার মতন মানুষকে সৃষ্টি করার দায়ভার কার ? সেই দংশনের ভাগীদার নিশ্চই আপনি বা আপনার জন্মদাত্রী মা নন !

মৃত মানুষ : তার মানে আপনি বললেন আমি খারাপ মানুষ ? আপনি জানেন আমি জীবন ভর কত কষ্ট করেছি ? হ্যা পাপ না হয় করেছি অনেক কিন্তু পুণ্যও তো কম করিনি।

যমদূত গোছের কেউ: আমি কিছুই জানি না। আপনি ভালো না খারাপ একটু পরেই ওই সামনের ঘর থেকে আসা আর্তনাদ বলবে ,তা সে খুশিরও হতে পারে অথবা ত্রাহি ত্রাহি রব ।

মৃত মানুষ : খুশির আর্তনাদ ? মানে পুণ্য ফল ?

যমদূত গোছের কেউ: হ্যা। তবে সেটা সবার জন্য এক। ভগবানের কাছে এর কোনো জন বিশেষে প্রকারভেদ নেই।

মৃত মানুষ : সেটা কিরকম যদি একটু বলেন।

যমদূত গোছের কেউ: যার জন্য সবচেয়ে ভীষন মুহূর্তেও এই কষ্টকর জীবনকে একবারও মুল্যহীন বলে মনে হয়নি ,কে যেন ভিতর থেকে বলেছে বারবার আপনাকে , এই জীবন না থাকলে তো সেও থাকতো না ,যার ক্ষনিকের সান্নিধ্য আপনাকে ভুলিয়ে দিত জীবনে অজস্র না পাওয়ার ক্ষোভ ! খিদের জ্বালায় , ব্যর্থতায় ,জীবনের প্রতিটা ক্ষণে , এমনকি মৃত্যুর পর পর্যন্ত যার মুখ আপনি একবারের জন্যেও ভুলতে পারেননি,সকল পুন্যের ফল স্বরূপ আপনি তার সঙ্গে কাটাতে পারবেন একটি সুখকর মুহূর্ত!

মৃত মানুষ : মাত্র একটি মুহূর্ত ? মাত্র একটি ?

যমদূত গোছের কেউ: মনে রাখবেন এখানে কিন্তু ঘড়ি নেই ,সময় এখানে চিরকাল নিশ্চল ,অপরিবর্তিত। তাই আপনার অজান্তেই ওই একটি মুহূর্ত ই হয়ে উঠবে চিরন্তন।

পছন্দের বই

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

জনৈক ভদ্রলোক : নমস্কার দাদা ! আপনি শুনেছি ভালো লেখেন।

লেখক: না সেরকম কিছু নয় ,ওই অল্প আধটু লেখার চেষ্টা করি আর কি !

জনৈক ভদ্রলোক : হে হে ! মানে আমার না খুব বই পড়ার সখ কিন্তু কোনো গল্পই আমার ঠিক মনের মত হয় না। কিসব ছাই ভস্ম চারিদিকে ! কখনো বিরহ বেদনা নাহলে রক্ত মাখা রাজনীতি অথবা সেই বস্তা পঁচা সুখ দুঃখ তা নাহলে চশমা পরা সখের ডিটেকটিভ ,ধুর ধুর ! তাই সবার মুখে আপনার খুব নাম শুনে আপনার কাছে এভাবে না বলে চলে এলাম ,আপনার এই ঘরে তো তাক ভরা বই ,একটা ভালো বই দিতে পারেন আমার মনের মত?

লেখক :তা আপনি কি ধরনের গল্প খুঁজছেন যদি খোলসা করে বলেন তাহলে একটু সুবিধা হয়।

জনৈক ভদ্রলোক : মানে হাসি কান্না ভরা বেশ একটা টান টান উত্তেজনাপূর্ণ রহস্য রোমাঞ্চকর কাহিনী যার শেষে প্রেমিক প্রেমিকার মিলন হবে, যাকে বলে হবেই,মশাই আপনাকে বলতে লজ্জা নেই বিচ্ছেদ টা আমি ঠিক মেনে নিতে পারি না।

লেখক (খাতা থেকে মুখ না তুলে ) : সোজা গিয়ে ডানদিকে।

জনৈক ভদ্রলোক (ঘরের ডানদিকে একটা বইয়ের তাকের সামনে দাড়িয়ে) : ডানদিকের তাকের কত নম্বর বইটা যদি একটু বলেন।

লেখক : উহু! সামনের রাস্তার সোজা গিয়ে ডানদিকে ! নতুন খুললে কি হবে ,বায়স্কোপ টা সবসময়ই প্রায় হাউসফুল।

ভগবান ভূত

Comments 2 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

প্রথম জন : তুই ভূতে বিশ্বাস করিস ?

দ্বিতীয় জন : হ্যা।

প্রথম জন : আর ভগবানে ?

দ্বিতীয় জন : হ্যা।

প্রথম জন : কোনটায় বেশি বিশ্বাস ?

দ্বিতীয় জন : এ আবার কেমন প্রশ্ন ? বলছি তো দুজনকেই বিশ্বাস করি।

প্রথম জন : তবুও ,বল না বেশি কাকে ?

দ্বিতীয় জন : চাপে পরলে ভগবানকে আর অন্ধকারে ভূতকে।

প্রথম জন : তোর কি মনে হয় ভগবান আর ভূতের মধ্যে কোনো লিঙ্ক আছে ?

দ্বিতীয় জন : তা আছেই তো , ভূতে ধরলে একমাত্র ভগবানই ভরসা আর ভগবানের সাক্ষাৎ পেতে ভূত হওয়া আবশ্যক।

প্রথম জন : দুজনের কাউকে কি দেখেছিস ?

দ্বিতীয় জন : না সে সৌভাগ্য হয়নি।

প্রথম জন : তবে বিশ্বাস করিস যে ?

দ্বিতীয় জন : অবিশ্বাস করলে তো কোনো লাভ নেই তবে বিশ্বাস করলে তারা যদি সত্যি থেকে থাকেন তবে আমার উপর তুষ্ট থাকবেন।

প্রথম জন : যদি ধর মরে গিয়ে দেখলি দুদলের মধ্যে একদম বনিবনা নেই। একজনকে ছেড়ে অন্যকে বিশ্বাস করেছিস বলে দুজনেই ক্ষেপে গেল তোর ওপর।

দ্বিতীয় জন : তা হবে না। যত ঝামেলা তলানিতে ,গদির উপরে বসা সবাই এক পরিবার ,নইলে ভাগের হিসেব কষতে অসুবিধা।

প্রথম জন : মানে রাজনীতি ? মরে গিয়েও রাজনীতি থেকে মুক্তি নেই বলছিস ?

দ্বিতীয় জন : কে জানে ? বলা কি যায় ? শুনেছি ঢেকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙ্গে। যাওয়ার জায়গা যদি একটাই হয় এত ঢেকি একসাথে গিয়ে এতদিন কি একটা ধান ও আস্ত রাখবে ? তাই সব ভেবেচিন্তেই আমার এই সর্বতুষ্টি প্ল্যান।

প্রথম জন : ইয়ে বলছিস কিছুই বদলাবে না ? শুনেছি ওই দুনিয়ায় কোনো কিছুর অভাব বোধ হয় না।

দ্বিতীয় জন : সে তো এখানেও হয় না ,কতদিন থেকে যে একটা জিনিস তোর ,আমার ,আশেপাশের সবার থেকেও নেই ,কই কোনদিন তো অভাব বোধ হয় না।

প্রথম জন : বুঝলাম না তো ,ঠিক কি জিনিস বলত ?

দ্বিতীয় জন : ওই পিঠের মাঝে লম্বা একটা হাড় ,ডাক্তার রা কি যেন বলে ,ও হ্যা শিরদাঁড়া  ।

ইতি ভালোবাসা

Comment 1 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

মেয়েটি : শোন ! আজ থেকে তোকে আমি ভালবাসি না ,বলতে পারিস এই মুহূর্ত থেকে!

ছেলেটি :আচ্ছা।

মেয়েটি :কারণ জিজ্ঞাসা করবি না ?

ছেলেটি :না।

মেয়েটি :তবুও আমি বলছি। আমি চাই না এ নিয়ে তোর মনে কোনো প্রশ্ন থাকুক। আমি ভেবে দেখেছি বুঝলি ,তোর থেকে বরুন আমাকে অনেক বেশি ভালবাসে। অনেক অনেক বেশী। আমাকে সে দিনে কতবার ‘ভালোবাসি’ বলে তা গুনে শেষ করা যায় না। আমাকে কত উপহার দিয়েছে ,আমি কখন খেয়েছি, কতক্ষন ঘুমিয়েছি ,এই সব ছোট ছোট ব্যাপার নিয়েও তার চিন্তার শেষ নেই ,তার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলে দিন রাত্রি সে যে শুধু আমার কথাই ভাবে ,আমি যে তার জীবন ,আমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। সে আগে যে মেয়েটিকে ভালবাসত ,সে তার ভালবাসার যোগ্য ছিল না ,তাই তো তাকে সরিয়ে দিয়ে বরুন আমাকে দিয়েছে তার নতুন ভালোবাসার সিংহাসন,আমার থেকে বেশী মূল্য তার আর কেউ দিতে পারবে না.।তাছাড়া তোকে ভালোবেসে আমি কি বা পেয়েছি ?ওই তাকে সাজানো নানান মলাটের সতীন দল ছাড়া? তুই কি বুঝিস ভালবাসার মানে ?

ছেলেটি :ভালবাসার মানে ? তা আর বোঝার অবকাশ কোথায় পেলাম ?তার আগেই তো সে গিলে খেয়ে নিল আমাকে।

মেয়েটি :কি যে বলিস কিছুই বুঝি না ,ওই বই পড়ে পড়ে মাথাটা একদম খারাপ হয়ে গেছে। যাইহোক,তুই চাইলে এখনো আমাকে আটকাতে পারিস ,তুই যদি আমাকে বরুণের চেয়েও বেশি ভালবাসতে পারিস , তাহলেই আমি আর তোকে ছেড়ে যাব না। ভেবে দ্যাখ,পারবি কি ?

ছেলেটি :না । এতদিন যখন পারিনি ,ভবিষ্যতেও পারব বলে মনে হয় না। তাছাড়া আমার ভালবাসা মাপার যন্ত্র টা একদম বিকল ,তার বেশী কমের কাটা আর নড়ে না ,সবসময় কেমন স্থির হয়ে একজায়গায় দাড়িয়ে থাকে।

মেয়েটি :তার মানে তুই আর আমাকে ভালোবাসিস না ? সেই জন্যই আমার থাকা না থাকাতে কিছুই যায় আসেনা তোর!

ছেলেটি (অল্প হেসে ) : বলতে পারিস তোর থাকা না থাকায় আমার ভালবাসার কিছু যায় আসে না। সে যেমন আছে ,সবসময় তেমনি থাকবে।

মেয়েটি :একই রকম থাকবে ? আমি চলে গেলেও একই রকম থাকবে? তা কি করে হয় ?

ছেলেটি: তা জানি না ,তবে এটুকু জানি তাকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার সাধ্য আর সকলের মত আমারও নেই!

মেয়েটি:আমি বরুণের কাছে চলে গেলে কি তুই অন্য কাউকে ভালোবাসবি ?

ছেলেটি: না ! ভালাবাসার মুখ বদলের উপায় আমার জানা নেই।

মেয়েটি:তাহলে কি আমার ফিরে আসার অপেক্ষা করবি?

ছেলেটি: না ! তবে কোনদিন যদি ফিরে আসিস ,আমাকে এখানেই দেখতে পাবি ।কতদিন জানিনা কিন্তু এটুকু জানি এ দেহ থেকে ওত সহজে আমার মুক্তি নেই।

মেয়েটি:কিন্তু একা একা কি করে থাকবি তুই ?তোর জন্য তো আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।

ছেলেটি:একাকিত্ব কারো মৃত্যুর কারণ বলে তো শুনিনি নাহলে এতগুলো বছর পৃথিবীতে আমার মত মানুষের কাটে কিভাবে ?

মেয়েটি:কিন্তু আমি যে শুনেছি একা থাকার বড় যন্ত্রণা ,তুই কি পারবি তা সহ্য করতে? না পারলে যে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারব না।

ছেলেটি: ওত ভাবিস না। আমি চাইলেও একটা মুখ ,অনেক স্মৃতি ,এই তাকের সাজানো বইগুলো, কিছুতেই আমাকে একা থাকতে দেবে না.জোকের মত আঁকড়ে ধরে থাকবে আমার শরীর মন।

মেয়েটি:মুখ ? কার মুখ ? আমার ?

ছেলেটি:না। ভালবাসার।

মেয়েটি: ভালবাসার বুঝি কোনো মুখ হয়?সেটা তো অনুভূতি মাত্র।

ছেলেটি:হয় বৈকি !বরুণের ঘরের আয়নার সামনে দাড়াস ,দেখতে পাবি।

মেয়েটি:আমি তবে চললাম ! এখনো কি বলবি না আমাকে তুই ভালোবাসিস ,আমাকে ছাড়া তুই বাঁচবি না ?

ছেলেটি :না.তুই ভালো থাকলেই আমার বাঁচার কারণের কোনো অভাব হবে না !

মেয়েটি:কথা দিলাম ,যদি কখনো আমার মনে হয় বরুন আমাকে ভালবাসে না আমি আবার তোর কাছে ফিরে আসার কথা নিশ্চই ভাববো ।

ছেলেটি :ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি সে ভাবার সুযোগ যেন সে তোকে কখনো না দেয়।

মেয়েটি:কেন? তুই চাস না আমি তোর কাছে ফিরে আসি ?

ছেলেটি :আমি তো অনেক কিছু চাই, আমি চাই পৃথিবী এই মুহুর্তে ধ্বংস হয়ে যাক ,কিন্তু তা হবে কি ?তবে চেয়ে কি লাভ ?

মেয়েটি:তবুও এক বার না হয় হাত পেতে দেখলি। যা চাস তা না পেলেও অন্য কিছু পাওয়ার আশায়।

ছেলেটি :হাত পাততে পারলে অনেক সমস্যার যে সমাধান হয়ে যেত সেই কবেই। সে যাক ,কিছু সমস্যা না থাকলে জীবনের কোনো মানে থাকে না।তোর মনে হয় দেরী হয়ে যাচ্ছে,বাইরে খুব বৃষ্টি পরছে ,একা যাস না।,চল শেষ বারের মত বৃষ্টি ভিজে তোকে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসি।

মেয়েটি:শেষ বারের মত ?আর কখনো তুই বৃষ্টিতে ভিজবি না ?

ছেলেটি : তা কেন ?তবে সব বৃষ্টি তো চোখে দেখা যায় না।

বৃষ্টি ভেজা মেয়েটি (বাড়িতে ঢোকার আগে ):আমাকে কি তুই ভুলে যাবি ?কখনো কোনদিন ,এক মুহুর্তের জন্য আর আমার কথা মনে পরবে না ?

বৃষ্টি ভেজা ছেলেটি (অল্প হেসে) :ভুলতে পারলে নিশ্চই মনে পরবে। আমি এগোলাম। আর এখানে দাড়িয়ে থাকা আমার ঠিক হবে না।ভালো থাকিস।

 

ফিরব আবার

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

একটা খুব চেনা গলার স্বর : মিলি ফুচকা খাবি ? মুন্না কাকুকে বলে প্রচন্ড ঝাল দিয়ে মাখিয়েছি ,পাগল করা স্বাদ হয়েছে রে!

মিলি চিৎকার করে বলল : তেঁতুল জলে লেবুটা ঠিক আছে কিনা একবার দেখে নে, আমি আসছি এখনি।

মিলি দৌড়ে বারান্দায় আসতেই মেয়েটি ওর হাত চেপে ধরে বললো  : শোন ! আমি কুল আর চালতার আচারও কিনে এনেছি বুঝলি ! ফুচকা খেয়েই আমরা ছাদে চলে যাবো,কুলের বীচি মুখ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলার কম্পিটিশনে আজকে আমি তোকে হারিয়েই ছাড়বো। আগের বার হাওয়ার পার্শিয়ালটির জন্যই তো তুই হারতে হারতেও জিতে গেলি।

(মিলি হেসে) : সে না হয় হবে কিন্তু তুই আচার টা দিলীপ কাকুর থেকে এনেছিস তো ? পাশের নতুন লোকটা কিন্তু একদম ভালো বানায় না।

(মেয়েটি) : না তো কি ? ১৫ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে থেকে “কাকু ,আমাকে এবার দাও প্লিস” বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যাবার পরই হাতে পেয়েছি এই অমৃত ,মাছি মারা লোকের কাছ থেকে ভ্যাজাল কেনার শর্টকাট আর যেই করুক এই শর্মা মরে গেলেও করবে না।

(মিলি):আমার কাছেও একটা জিনিস আছে ,কালকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাবা ট্রেন থেকে কিনে এনেছে :টক ঝাল মিষ্টি হজমি গুলি। একটা মুখে দিলেই রত্না মিসের সব গালাগালি মাথা থেকে একেবারে কর্পুরের মত উবে যাবে।

(মেয়েটি ): বলছিস ! তাহলে তো আর কথাই নেই ,ওহ মিলি আরো আছে ,আজকে বিকেলে কাকাই বলছে নুন লঙ্কা দিয়ে বাতাবিলেবু মাখবে ,কোনরকমে এগুলো শেষ করেই তোকে নিয়ে এক নিমেষে পৌছে যাবো আমাদের বাড়ির রান্নাঘরে।

(মিলি): উফ ! ভেবেই গায়ে শিহরণ দিচ্ছে এখনি ,সত্যি কাকাই এর হাতে যে কি আছে ,বাতাবি লেবুই বল অথবা শসা কুচি, নাহলে তোদের গাছের ডাসা পেয়ারা ,সব কিছুই কাকাই এর হাতের জাদুতে অসম্ভব রকম লোভনীয় হয়ে ওঠে,সে লোভ এতটাই দুর্নিবার যে পরদিন সকালে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমে বসে থাকার কষ্টের স্মৃতি যতই স্পষ্ট হয়ে চোখের সামনে আসুক না কেন ,তা এক মুহুর্তের জন্যও কাকাই এর থালা থেকে আমার হাতকে দূরে রাখতে পারে না।

(মেয়েটি মিলির কানের মুখ এনে বলল): মুন্নাকাকুর তেঁতুল জলের হাঁড়িটা এখনো অর্ধেকের বেশী ভর্তি ! ঝাল বাতাবি লেবুর সাথে তেঁতুল জল চুমুক দিয়ে খেতে যা লাগবে না !

(মিলি) : আহা ! তুই যেন জানিস না ! মুন্না কাকু একের বদলে দুটো ফুচকা ফাউ দিলেও শেষ পাতে তেঁতুল জল চাইলেই নোংরা দাঁত করে বলে  “ফুচকার আগে জল ফুরিয়ে গেলে ব্যবসার ক্ষেতি হবেগো দিদিমনি !”

(মেয়েটি ): আরে ! জানি বলেই তো বলছি । ফুচকার আগে জল ফুরিয়ে গেলে তবে তো ক্ষতি  কিন্তু অন্যটা হলে তো কোনো ক্ষতি নেই বরং লাভ , আমাদের ! বাক্সতে বড় জোর আর পঞ্চাশ টা ফুচকা পরে আছে ! তা তো আমরাই  ! ….

(মিলি) : কিন্তু ভিতরে তো আরো থাকতে পারে !

(মেয়েটি): নেই ! তুই আসার আগেই সে তদন্ত শেষ !   “এবাবা! এই কটা ফুচকা মাত্র! ”  বলতেই মুননাকাকু মুখ কাঁচুমাচু করে বলল “সকাল থেকে মেঘের গজরানি দেখে বিষ্টির ভয়ে আজ কম ভাজছি দিদিমণি , দ্যাখেন তো কত খেতি হল !”

(মিলি  হেসে ) : ফেলুদা বই থেকে বেরিয়ে এসে নিশ্চই আজ তোর পিঠ চাপড়ে যাবে ! আমি  ভিতর থেকে  চটপট একটা বাটি নিয়ে আসি।

(মেয়েটি ): সবচেয়ে বড় বাটিটা আনিস কিন্তু !
(মিলি) : সে আর বলতে ! তুই দাঁড়া ..
……(দূরে চলে যাওয়া পায়ের শব্দ )……………………

(মেয়েটি): কিরে আর কতক্ষণ ? কি করছিস বল তো ? তাড়াতাড়ি আয় না মিলি ,মুন্না কাকুর যে দেরী হয়ে যাচ্ছে।

(মিলি চিৎকার করে বলল) : যাই !

হঠাৎ ঘড়ির এলার্মের শব্দে বিছানায় উঠে বসলো মিলি । ঘড়িতে তখন সকাল ৮ টা । ফোনের ক্যালেন্ডার মনে করিয়ে দিল অফিসে ৯.৩০ থেকে তার জরুরি মিটিং। দ্রুত স্নান সেরে তৈরী হয়ে টিফিন বক্সে ভরে নিল গত রাতের বানানো পাস্তা। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে অফিস পৌছে মিলি দেখল সবে ৯:১০ বাজে,মিটিং শুরু হতে এখনো কুড়ি মিনিট বাকি। ব্যাগ টা ডেস্কে রেখে , মোবাইল ফোন টা হাতে নিয়ে একটা নম্বর ডায়াল করলো সে , খুব চেনা গলার ‘হ্যালো’ কথাটা ফোনের ওদিক থেকে ভেসে আসতেই মিলি বলল : ” এই রিনি ! ওইসব সংসার টংসার ছাড় দেখিনি ! একদিন না হয় নিজের ভাত ওদের নিজেদেরই রাঁধতে দে ,তুই আমার সাথে চল এখনি ,মুন্না কাকুর যে সত্যি অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে। “

প্রত্যাখ্যান

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

প্রেমিক ছেলেটি : আমার ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করিস না দোহাই তোর ।
নির্বিকার মেয়েটি : কেন ভালোবাসিস আমাকে ?
প্রেমিক ছেলেটি : তা জানি না ,তবে ভালোবাসি ,মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।
নির্বিকার মেয়েটি : সে তো বুঝলাম কিন্তু কারণটা কি ?আমার মধ্যে এমন কি দেখলি যা আর কারো মধ্যে নেই ?
প্রেমিক ছেলেটি : যদি বলি তোর ওই নীলচে চোখের মায়া আমাকে পাগল করে দেয় !
নির্বিকার মেয়েটি : ওটা কন্টাক্ট লেন্স! আর কোনো কারণ ?
প্রেমিক ছেলেটি : তোর এই ঘন কালো চুলের হাতছানি কে উপেক্ষা করা আমার কেমন যেন অসম্ভব মনে হয়।
নির্বিকার মেয়েটি : আমার চুল এত সুন্দর ছিল না ,তোকে বলিনি সম্প্রতি মাত্র ১২ টা সাক্ষাতে শহরের সবচেয়ে বড় হেয়ার স্পেশালিস্ট র জাদু স্পর্শ আমার চুলকে তোর মত অনেককেই হাতছানি দেওয়ার শক্তি দান করেছে।
প্রেমিক ছেলেটি : আমার অনেকদিনের চেনা তোর শরীরের গন্ধ ,সেটাও কি নকল বলতে চাস ?
নির্বিকার মেয়েটি : নকল কেন হবে ? সেটা তো আমার আমেরিকা নিবাসী মাসির প্রতি বছর ভালবাসা স্বরূপ পাঠানো ব্র্যান্ডেড সুগন্ধির মোহনী শক্তি ! নকল হলে বুঝি এতদিন ব্যবহার করতাম !
প্রেমিক ছেলেটি : আমি যে কিভাবে তোকে বোঝাব ? মানে তোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সবটুকুই আমার ভীষন ভালোলাগে ,আসল নকলের বিচার কখনো করিনি ,করার কথা ভাবতেও পারিনি ,তার আগেই বাঁধা পরে গেছি তোর এই অপরূপ সৌন্দর্যের মায়াজালে।
নির্বিকার মেয়েটি (সজোরে হেসে ): আমার সৌন্দর্য? আমার শরীর জুড়ে অত্যাধুনিক চোখ ধাধানো গয়না , পরনে প্রখ্যাত ডিসাইনারের শাড়ি,দামী প্রসাধনে উজ্জ্বল মুখ ,যত্ন করে করা নেল আর্ট ,কালো রং করা মায়াবী চোখের চাহনী , অনেকদিনের চেষ্টায় রপ্ত করা সুন্দর করে কথা বলার কায়দা ,এসবের কথাই বলছিস তো ? কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারবি এ সবই যে কৃত্রিম !
প্রেমিক ছেলেটি : প্রত্যাখ্যান কর কিন্তু এভাবে বিদ্রুপ করিস না ! কৃত্রিম মানে কি ? কোনো কিছুই কি তাহলে তোর আসল নয় ? তবে কি তোর কথা মত তুই একটা মাংসের দলা ছাড়া আর কিছুই নস ?
নির্বিকার মেয়েটি (হেসে ) : ভালো বলেছিস ,মাংসের দলা ,আমারও তাই মনে হয় !
প্রেমিক ছেলেটি : বুঝেছি ! আমাকে কেন আর ভালোবাসবি তুই ? তোকে ভালবাসার লোকের তো আর অভাব নেই ,আমি কি আর দেখিনি ভেবেছিস তোর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এ গন্ডা গন্ডা ছেলের প্রকাশ্যে প্রেম নিবেদন ,তার মধ্যে তো কতজন আবার N R I ! ওদের মধ্যেই কাউকে বোধহয় তোর মনে ধরেছে কি বল ?
নির্বিকার মেয়েটি : না !
প্রেমিক ছেলেটি : তবে কি পক্ষীরাজে চড়া রাজপুত্রের অপেক্ষা তে আছিস ?
নির্বিকার মেয়েটি : মোটেই না ! রাজপুত্রের দৃষ্টিও যে সিংহাসনের চাকচিক্যতেই আটকে থাকবে চিরকাল।
প্রেমিক ছেলেটি : তাহলে কি চাস তুই ?
নির্বিকার মেয়েটি : সে তুই বুঝবি না ! তবে এটুকু জেনে রাখ ,তা যদি কেউ দিতে পারে কোনো বাক্যালাপের অবকাশ তাকে আমি দেব না ,তার হাত ধরে হারিয়ে যাব এক অনন্ত জীবনে ,আর কোনদিন পিছনে তাকিয়ে দেখবনা ফেলে রেখে যাওয়া মাংসের দলার দিকে ।
ধন্যবাদ ,
BongNote