অনুরাগ : আমি তোর কাছে ফিরে এসেছি রিনি , তোর ভালবাসার মূল্য আমার মত মহা মুর্খ যে দিতে পারবে না , তা বোধহয় তুই আগেই জানতিস ,তাই সেদিন আমাকে আটকানোর কোনো চেষ্টাই তুই করিসনি, কি বল ?
রিনি : না তা নয় ,যে সেচ্ছায় চলে যেতে চায় ,তাকে আটকানোর ক্ষমতা বিধাতার থাকলেও আমার নেই।
অনুরাগ : কিন্তু আমি তো এখন ফিরে এসেছি ,তুই ডাকিস নি ,তবুও ফিরে এসেছি। যে ভালবাসা স্বাধীন করে দেওয়ার পরও ফিরে আসে সেই তো চির সত্য।
রিনি : আমার কাছে ভালবাসার সত্যতা তখনি যখন সে কোনো অবস্থাতেই তার ভালবাসার মানুষ কে ছেড়ে চলে যায় না।
অনুরাগ : তার মানে একটা ক্ষনিকের ভুলের শাস্তি আমাকে সারাজীবন ধরে পেতে হবে ?
রিনি : তুই তো ভাগ্যবান অনুরাগ ! কত মানুষ তো নিজের ভুল না জেনেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করে যায় !
অনুরাগ : তাহলে তুই আমাকে কিছুতেই ফিরিয়ে নিবি না ? এটাই তোর শেষ সিদ্ধান্ত ?
রিনি : তুই নিজের ইচ্ছায় চলে গিয়েছিলি আবার নিজের ইচ্ছাতেই ফিরে এসেছিস ,এখানে আর যাই হোক ‘আমার সিদ্ধান্ত ‘ শব্দটার প্রয়োগ একেবারেই যথাযত নয়। একটা উহ্য শব্দকে হঠাৎ অনেক গুরুত্ব দিলে সে তার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবে ,সেটাই কি প্রত্যাশিত নয় ?
অনুরাগ : কিন্তু আমি যে সত্যি ভিতর থেকে জবাব পেয়েছি রিনি ,তোকে যে সবকিছু দিয়ে ভালোবাসি আমি ,তুই ছাড়া বেঁচে থাকার যে কোনো মানেই নেই আমার কাছে ।
রিনি : নাই বা থাকলো। যদি সত্যি কাউকে ভালোবেসে থাকিস তবে মানে ছাড়া হলেও বেঁচেই বরং থাক ,মরে গিয়ে শান্তি লাভের আশ্বাস নিতান্তই কাল্পনিক ।
অনুরাগ : একটু ভেবে দ্যাখ রিনি , আমার ওপর রাগ করে তুই কিন্তু আমাদের দুজনের জীবন ই নষ্ট করে ফেলছিস।
রিনি : জীবন নষ্ট করা কি ওতই সহজ ? ও তো শুধুই কথার কথা , নাহলে পতিতা পল্লীর নষ্ট মেয়ের জীবনের দাগে ভরা মাটির প্রলেপ মেখে মা দূর্গা নিজেকে কিভাবেই বা মুহুর্তে পবিত্র করে নিতেন বল ?
অনুরাগ : আমাদের একসাথে কাটানো অজস্র মুহুর্তের আর কোনো মূল্যই নেই তোর কাছে ?
রিনি : ঠিক তা নয় ,বলতে পারিস সে মূল্য মেটানোর সামর্থ্য আজ আর আমার নেই।
অনুরাগ : যা ঘটেছে তার জন্য তুইও কি দায়ী নস ? একবারও আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিস ? আমার ভালবাসার দিকে আঙ্গুল ওঠানোর আগে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখিস পারলে , তোকে ছাড়া আমি কেমন আছি একবারও জানতে ইচ্ছা করেনি ?
রিনি : কারো মৃত্যুর পর তার প্রতি ভালবাসা অপরিবর্তিত থাকলেও তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা ,সত্যিকে অস্বীকার করতে চাওয়া দুর্বল মনের অসম্ভব ইচ্ছা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না ! ভেবে নিস সেই অসম্ভবের পিছনে দৌড়তে আমার মন চায় নি ।
অনুরাগ : তার মানে তোর কাছে আমি মৃত ?
রিনি : মৃত্যু শুধু মানুষের হয় বুঝি ! সম্পর্কের হয় না ?
অনুরাগ : তাহলে তুই আমাকে ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারবি ? এই মৃত সম্পর্ক তোর কাছে দুঃস্বপ্ন ব্যতীত আর কিছুই নয় !
রিনি : তুই আমার জীবনে আসার আগেও তো আমি বেঁচেই ছিলাম ! তোর জন্য মরে গেলে যে নাড়ির সম্পর্কের ওপরঅবিচার করা হত ,সে সম্পর্কে কোনো স্বার্থের হিসেব নেই অনুরাগ ,আমার অস্তিত্বকে ঘিরেই তাদের চাওয়ার শুরু, পাওয়ার শেষ ! তোর ক্ষনিকের ভালবাসা সে সম্পর্কের কাছে যে কখনো মাথা তুলে দাড়াতেই পারেনি !
অনুরাগ : রিনি একটা সত্যি কথার উত্তর দে ,তুই বোধহয় এখন অন্য কাউকে ….
রিনি হেসে বলল : এ ভগবানের ভারী অন্যায় জানিস অনুরাগ ! সবাইকে একইরকম ভাবে ভাবার ক্ষমতা কেন যে উনি দেন নি নাহলে তোর এই নির্লজ্জ প্রশ্নের উত্তরে এভাবে আমাকে চুপ করে থাকতে হত না।
অনুরাগ জানলার দিকে তাকিয়ে থাকা রিনি র পাশে এসে দাড়াতেই রিনি ঘর থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল ,আর ভগবানও বোধহয় সেই মুহুর্তে তার কৌতুক রসের পরিচয় না দিয়ে আর কিছুতেই থাকতে পারলেন না ,তাই রিনি র ফেলে রেখে যাওয়া মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠলো ,অনুরাগের কানে ভেসে এলো সোমলতা আচার্যর কন্ঠস্মর :
“সেই হারানো চড়ুই এর ডাক ,বলে যে গেছে সে চলে যাক ,নিজেকে ভালোবাসো তুমি এবার।”