দাদাভাই : হ্যাপি বার্থডে তিন্নি ।
তিন্নি : থ্যাঙ্ক ইউ দাদাভাই ।
দাদাভাই : পূর্ণবয়স্কা হতে আর মাত্র ২ বছর দেরী ,মনে রাখিস টিভির রিমোট নিয়ে মারামারি এই বয়সে আর তোকে মানায় না।
তিন্নি : কথাটা আয়নার সামনে দাড়িয়ে বল ।
দাদাভাই : আয়তন তো বাড়ছে না , মাথাটা এখনো আমার কাঁধে পৌঁছয় নি , তবু তোর বুদ্ধিদীপ্ত কথার খেলায় আমি যে এখনো দুধেভাতে তিন্নি !
তিন্নি : আয়তনের সাথে বুদ্ধির সম্পর্ক থাকলে পিপড়ের বদলে হাতিকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী বলা হত দাদাভাই !
দাদাভাই : আমাকে হাতি বললি ! তোর দৈর্ঘ্য কম বলেছি , প্রস্থের বিচারে পিপড়ের থেকে হাতির দিকেই পাল্লা ভারী কিন্তু তোর !
তিন্নি : এই যদি আমার কথার ব্যাখ্যা হয় , ইঞ্জিয়ারিং পড়ার ফাঁকে বাংলা ক্লাসে ভর্তি হ , প্রযুক্তির আগে মাতৃভাষার উপর দখল হওয়াই বেশী দরকার ।
দাদাভাই হেসে বলল : বুঝলাম ! তা জন্মদিনে মা কী দিল তোকে ?
তিন্নি : কুন্দনের সেট ।
দাদাভাই: সেকি গয়না তো তুই পড়িস না । মা তো বলে তুই ভিখিরীর মত খালি কান গলায় ঘুরে বেড়াস বলে মার ও সাধের গয়না গুলো পড়া হয় না । খুব চিন্তিত ভাবে বাবাকে বলছিল সেদিন , সামনে রিনি দির বিয়ে , তার ছন্নছাড়া মেয়েটাকে দেখে লোকে কি বলবে , সেই মেয়ের পাশে তার পরিপাটি মাকে দেখে “নিজের বেলায় আটিসুটি ,মেয়ের বেলায় দাত কপাটি ” ধরনের মন্তব্য যে কেউ করবে না ,তা যদি বাবা লিখে দিতে পারে , তবেই মা যাবে রিনিদির বিয়েতে ।
তিন্নি (হেসে ): তা বাবা লিখে দিল ?
দাদাভাই : না , বরং নির্বিকার ভাবে বলল “সে না হয় দেওয়া যাবে ,বিয়ে তো এখনো দেরী আছে ,আর কাগজ কলমও তো পালিয়ে যাচ্ছে না।” বাবার উত্তর শুনে রাগের মধ্যেও মার চিন্তাটা যে আরো বেশী জোরালো হলো তা বেশ বোঝা যাচ্ছিল । তোর জন্মদিনের কুন্দন সেট সেই চিন্তারই ফলপ্রসু বলে আমার বিশ্বাস ।
তিন্নি : জানি , তুই জন্মদিনে কি দিবি আমায় দাদাভাই ?
দাদাভাই : বহুদিন ধরে বাবার মাথা খেয়ে আদায় করা iPad টা ১ মাসের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি ।
তিন্নি : দরকার নেই , তোর গয়না তুই পড় ।
দাদাভাই : ভেবে দ্যাখ ,অনেক ভালো ভালো গেম আছে কিন্তু , temple run খেলা শুরু করলে ‘সত্যজিত রায়’ নাম টা মুহুর্তে ভুলে যাবি ।
তিন্নি : অনির্দিষ্ট লক্ষ্যের পিছনে আমি দৌড়ই না , একঘেয়েমি তে আমার যে বড় আপত্তি । তাই সে লোকের দেখানো বৈচিত্রময় জগৎ ভুলে তোর temple run র সাথে আপোষ করা , বোধহয় এ জন্মে আমার আর হয়ে উঠলো না। স্টিভ জবস এর কাছে আমার হয়ে এতদিনে নিশ্চই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন Mr রায় ।
দাদাভাই : গেমের কথা ছাড় , আমার ডাউনলোড করা দারুন দারুন ebook পড়ার সুযোগও কিন্তু হারাচ্ছিস ।
তিন্নি : ebook আমার ভালো লাগে না , বইয়ের গন্ধ নাকে না এলে আমার নেশা হয় না , বইয়ের পাতা কে ছোঁয়ার মধ্যে দিয়ে লেখা গল্পের চরিত্রকে ছোঁয়ার স্বাদ তোর ebook দিতে পারলে ,বইমেলার মাঠ প্রতিবছর কুম্ভের মেলার মত ভিড়ের সাক্ষী হত না দাদাভাই !
দাদাভাই :উফ ! কি যুক্তি ! আমার আর মায়ের কপাল তাহলে চিরকালের পোড়া , এবার বল বাবা তার আদরের মেয়েকে কী দিল ?
তিন্নির উত্তরের আগেই একজন ভদ্রলোক ঘরে প্রবেশ করলেন , তাকে দেখে তিন্নি বলল ,”কিছু বলবে বাবা ?”
ভদ্রলোক হাসি মুখে কয়েকটা বই তিন্নির হাতে দিয়ে বললেন , ” এনাদের জন্য একটু জায়গা বের কর দেখি মা ! উপরের তাকে ধরে যাবে মনে হয় ,সত্যজিত ও শরৎ বাবুকে একটু অনুরোধ করলেই সরে বসবেন । “
তিন্নির চোখ খুশীতে জ্বলজ্বল করে উঠলো , সে বইগুলোর নাম এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলল ,
- ‘কাছের মানুষ’ ,
- ‘লোটাকম্বল’ ,
- ‘বাবলি’ ,
- ‘আমার মেয়েবেলা’
তারপর বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল , ” আমার দোষ নেই , তোমার জন্যেই আর কারো দেওয়া উপহার আমার কখনো পছন্দ হয় না ! “