ফিরব আবার

Leave a comment আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

একটা খুব চেনা গলার স্বর : মিলি ফুচকা খাবি ? মুন্না কাকুকে বলে প্রচন্ড ঝাল দিয়ে মাখিয়েছি ,পাগল করা স্বাদ হয়েছে রে!

মিলি চিৎকার করে বলল : তেঁতুল জলে লেবুটা ঠিক আছে কিনা একবার দেখে নে, আমি আসছি এখনি।

মিলি দৌড়ে বারান্দায় আসতেই মেয়েটি ওর হাত চেপে ধরে বললো  : শোন ! আমি কুল আর চালতার আচারও কিনে এনেছি বুঝলি ! ফুচকা খেয়েই আমরা ছাদে চলে যাবো,কুলের বীচি মুখ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলার কম্পিটিশনে আজকে আমি তোকে হারিয়েই ছাড়বো। আগের বার হাওয়ার পার্শিয়ালটির জন্যই তো তুই হারতে হারতেও জিতে গেলি।

(মিলি হেসে) : সে না হয় হবে কিন্তু তুই আচার টা দিলীপ কাকুর থেকে এনেছিস তো ? পাশের নতুন লোকটা কিন্তু একদম ভালো বানায় না।

(মেয়েটি) : না তো কি ? ১৫ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে থেকে “কাকু ,আমাকে এবার দাও প্লিস” বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যাবার পরই হাতে পেয়েছি এই অমৃত ,মাছি মারা লোকের কাছ থেকে ভ্যাজাল কেনার শর্টকাট আর যেই করুক এই শর্মা মরে গেলেও করবে না।

(মিলি):আমার কাছেও একটা জিনিস আছে ,কালকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাবা ট্রেন থেকে কিনে এনেছে :টক ঝাল মিষ্টি হজমি গুলি। একটা মুখে দিলেই রত্না মিসের সব গালাগালি মাথা থেকে একেবারে কর্পুরের মত উবে যাবে।

(মেয়েটি ): বলছিস ! তাহলে তো আর কথাই নেই ,ওহ মিলি আরো আছে ,আজকে বিকেলে কাকাই বলছে নুন লঙ্কা দিয়ে বাতাবিলেবু মাখবে ,কোনরকমে এগুলো শেষ করেই তোকে নিয়ে এক নিমেষে পৌছে যাবো আমাদের বাড়ির রান্নাঘরে।

(মিলি): উফ ! ভেবেই গায়ে শিহরণ দিচ্ছে এখনি ,সত্যি কাকাই এর হাতে যে কি আছে ,বাতাবি লেবুই বল অথবা শসা কুচি, নাহলে তোদের গাছের ডাসা পেয়ারা ,সব কিছুই কাকাই এর হাতের জাদুতে অসম্ভব রকম লোভনীয় হয়ে ওঠে,সে লোভ এতটাই দুর্নিবার যে পরদিন সকালে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমে বসে থাকার কষ্টের স্মৃতি যতই স্পষ্ট হয়ে চোখের সামনে আসুক না কেন ,তা এক মুহুর্তের জন্যও কাকাই এর থালা থেকে আমার হাতকে দূরে রাখতে পারে না।

(মেয়েটি মিলির কানের মুখ এনে বলল): মুন্নাকাকুর তেঁতুল জলের হাঁড়িটা এখনো অর্ধেকের বেশী ভর্তি ! ঝাল বাতাবি লেবুর সাথে তেঁতুল জল চুমুক দিয়ে খেতে যা লাগবে না !

(মিলি) : আহা ! তুই যেন জানিস না ! মুন্না কাকু একের বদলে দুটো ফুচকা ফাউ দিলেও শেষ পাতে তেঁতুল জল চাইলেই নোংরা দাঁত করে বলে  “ফুচকার আগে জল ফুরিয়ে গেলে ব্যবসার ক্ষেতি হবেগো দিদিমনি !”

(মেয়েটি ): আরে ! জানি বলেই তো বলছি । ফুচকার আগে জল ফুরিয়ে গেলে তবে তো ক্ষতি  কিন্তু অন্যটা হলে তো কোনো ক্ষতি নেই বরং লাভ , আমাদের ! বাক্সতে বড় জোর আর পঞ্চাশ টা ফুচকা পরে আছে ! তা তো আমরাই  ! ….

(মিলি) : কিন্তু ভিতরে তো আরো থাকতে পারে !

(মেয়েটি): নেই ! তুই আসার আগেই সে তদন্ত শেষ !   “এবাবা! এই কটা ফুচকা মাত্র! ”  বলতেই মুননাকাকু মুখ কাঁচুমাচু করে বলল “সকাল থেকে মেঘের গজরানি দেখে বিষ্টির ভয়ে আজ কম ভাজছি দিদিমণি , দ্যাখেন তো কত খেতি হল !”

(মিলি  হেসে ) : ফেলুদা বই থেকে বেরিয়ে এসে নিশ্চই আজ তোর পিঠ চাপড়ে যাবে ! আমি  ভিতর থেকে  চটপট একটা বাটি নিয়ে আসি।

(মেয়েটি ): সবচেয়ে বড় বাটিটা আনিস কিন্তু !
(মিলি) : সে আর বলতে ! তুই দাঁড়া ..
……(দূরে চলে যাওয়া পায়ের শব্দ )……………………

(মেয়েটি): কিরে আর কতক্ষণ ? কি করছিস বল তো ? তাড়াতাড়ি আয় না মিলি ,মুন্না কাকুর যে দেরী হয়ে যাচ্ছে।

(মিলি চিৎকার করে বলল) : যাই !

হঠাৎ ঘড়ির এলার্মের শব্দে বিছানায় উঠে বসলো মিলি । ঘড়িতে তখন সকাল ৮ টা । ফোনের ক্যালেন্ডার মনে করিয়ে দিল অফিসে ৯.৩০ থেকে তার জরুরি মিটিং। দ্রুত স্নান সেরে তৈরী হয়ে টিফিন বক্সে ভরে নিল গত রাতের বানানো পাস্তা। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে অফিস পৌছে মিলি দেখল সবে ৯:১০ বাজে,মিটিং শুরু হতে এখনো কুড়ি মিনিট বাকি। ব্যাগ টা ডেস্কে রেখে , মোবাইল ফোন টা হাতে নিয়ে একটা নম্বর ডায়াল করলো সে , খুব চেনা গলার ‘হ্যালো’ কথাটা ফোনের ওদিক থেকে ভেসে আসতেই মিলি বলল : ” এই রিনি ! ওইসব সংসার টংসার ছাড় দেখিনি ! একদিন না হয় নিজের ভাত ওদের নিজেদেরই রাঁধতে দে ,তুই আমার সাথে চল এখনি ,মুন্না কাকুর যে সত্যি অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে। “