ইতি ভালোবাসা

Comment 1 আদর্শ পোস্ট ফরম্যাট

মেয়েটি : শোন ! আজ থেকে তোকে আমি ভালবাসি না ,বলতে পারিস এই মুহূর্ত থেকে!

ছেলেটি :আচ্ছা।

মেয়েটি :কারণ জিজ্ঞাসা করবি না ?

ছেলেটি :না।

মেয়েটি :তবুও আমি বলছি। আমি চাই না এ নিয়ে তোর মনে কোনো প্রশ্ন থাকুক। আমি ভেবে দেখেছি বুঝলি ,তোর থেকে বরুন আমাকে অনেক বেশি ভালবাসে। অনেক অনেক বেশী। আমাকে সে দিনে কতবার ‘ভালোবাসি’ বলে তা গুনে শেষ করা যায় না। আমাকে কত উপহার দিয়েছে ,আমি কখন খেয়েছি, কতক্ষন ঘুমিয়েছি ,এই সব ছোট ছোট ব্যাপার নিয়েও তার চিন্তার শেষ নেই ,তার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলে দিন রাত্রি সে যে শুধু আমার কথাই ভাবে ,আমি যে তার জীবন ,আমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। সে আগে যে মেয়েটিকে ভালবাসত ,সে তার ভালবাসার যোগ্য ছিল না ,তাই তো তাকে সরিয়ে দিয়ে বরুন আমাকে দিয়েছে তার নতুন ভালোবাসার সিংহাসন,আমার থেকে বেশী মূল্য তার আর কেউ দিতে পারবে না.।তাছাড়া তোকে ভালোবেসে আমি কি বা পেয়েছি ?ওই তাকে সাজানো নানান মলাটের সতীন দল ছাড়া? তুই কি বুঝিস ভালবাসার মানে ?

ছেলেটি :ভালবাসার মানে ? তা আর বোঝার অবকাশ কোথায় পেলাম ?তার আগেই তো সে গিলে খেয়ে নিল আমাকে।

মেয়েটি :কি যে বলিস কিছুই বুঝি না ,ওই বই পড়ে পড়ে মাথাটা একদম খারাপ হয়ে গেছে। যাইহোক,তুই চাইলে এখনো আমাকে আটকাতে পারিস ,তুই যদি আমাকে বরুণের চেয়েও বেশি ভালবাসতে পারিস , তাহলেই আমি আর তোকে ছেড়ে যাব না। ভেবে দ্যাখ,পারবি কি ?

ছেলেটি :না । এতদিন যখন পারিনি ,ভবিষ্যতেও পারব বলে মনে হয় না। তাছাড়া আমার ভালবাসা মাপার যন্ত্র টা একদম বিকল ,তার বেশী কমের কাটা আর নড়ে না ,সবসময় কেমন স্থির হয়ে একজায়গায় দাড়িয়ে থাকে।

মেয়েটি :তার মানে তুই আর আমাকে ভালোবাসিস না ? সেই জন্যই আমার থাকা না থাকাতে কিছুই যায় আসেনা তোর!

ছেলেটি (অল্প হেসে ) : বলতে পারিস তোর থাকা না থাকায় আমার ভালবাসার কিছু যায় আসে না। সে যেমন আছে ,সবসময় তেমনি থাকবে।

মেয়েটি :একই রকম থাকবে ? আমি চলে গেলেও একই রকম থাকবে? তা কি করে হয় ?

ছেলেটি: তা জানি না ,তবে এটুকু জানি তাকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার সাধ্য আর সকলের মত আমারও নেই!

মেয়েটি:আমি বরুণের কাছে চলে গেলে কি তুই অন্য কাউকে ভালোবাসবি ?

ছেলেটি: না ! ভালাবাসার মুখ বদলের উপায় আমার জানা নেই।

মেয়েটি:তাহলে কি আমার ফিরে আসার অপেক্ষা করবি?

ছেলেটি: না ! তবে কোনদিন যদি ফিরে আসিস ,আমাকে এখানেই দেখতে পাবি ।কতদিন জানিনা কিন্তু এটুকু জানি এ দেহ থেকে ওত সহজে আমার মুক্তি নেই।

মেয়েটি:কিন্তু একা একা কি করে থাকবি তুই ?তোর জন্য তো আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।

ছেলেটি:একাকিত্ব কারো মৃত্যুর কারণ বলে তো শুনিনি নাহলে এতগুলো বছর পৃথিবীতে আমার মত মানুষের কাটে কিভাবে ?

মেয়েটি:কিন্তু আমি যে শুনেছি একা থাকার বড় যন্ত্রণা ,তুই কি পারবি তা সহ্য করতে? না পারলে যে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারব না।

ছেলেটি: ওত ভাবিস না। আমি চাইলেও একটা মুখ ,অনেক স্মৃতি ,এই তাকের সাজানো বইগুলো, কিছুতেই আমাকে একা থাকতে দেবে না.জোকের মত আঁকড়ে ধরে থাকবে আমার শরীর মন।

মেয়েটি:মুখ ? কার মুখ ? আমার ?

ছেলেটি:না। ভালবাসার।

মেয়েটি: ভালবাসার বুঝি কোনো মুখ হয়?সেটা তো অনুভূতি মাত্র।

ছেলেটি:হয় বৈকি !বরুণের ঘরের আয়নার সামনে দাড়াস ,দেখতে পাবি।

মেয়েটি:আমি তবে চললাম ! এখনো কি বলবি না আমাকে তুই ভালোবাসিস ,আমাকে ছাড়া তুই বাঁচবি না ?

ছেলেটি :না.তুই ভালো থাকলেই আমার বাঁচার কারণের কোনো অভাব হবে না !

মেয়েটি:কথা দিলাম ,যদি কখনো আমার মনে হয় বরুন আমাকে ভালবাসে না আমি আবার তোর কাছে ফিরে আসার কথা নিশ্চই ভাববো ।

ছেলেটি :ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি সে ভাবার সুযোগ যেন সে তোকে কখনো না দেয়।

মেয়েটি:কেন? তুই চাস না আমি তোর কাছে ফিরে আসি ?

ছেলেটি :আমি তো অনেক কিছু চাই, আমি চাই পৃথিবী এই মুহুর্তে ধ্বংস হয়ে যাক ,কিন্তু তা হবে কি ?তবে চেয়ে কি লাভ ?

মেয়েটি:তবুও এক বার না হয় হাত পেতে দেখলি। যা চাস তা না পেলেও অন্য কিছু পাওয়ার আশায়।

ছেলেটি :হাত পাততে পারলে অনেক সমস্যার যে সমাধান হয়ে যেত সেই কবেই। সে যাক ,কিছু সমস্যা না থাকলে জীবনের কোনো মানে থাকে না।তোর মনে হয় দেরী হয়ে যাচ্ছে,বাইরে খুব বৃষ্টি পরছে ,একা যাস না।,চল শেষ বারের মত বৃষ্টি ভিজে তোকে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসি।

মেয়েটি:শেষ বারের মত ?আর কখনো তুই বৃষ্টিতে ভিজবি না ?

ছেলেটি : তা কেন ?তবে সব বৃষ্টি তো চোখে দেখা যায় না।

বৃষ্টি ভেজা মেয়েটি (বাড়িতে ঢোকার আগে ):আমাকে কি তুই ভুলে যাবি ?কখনো কোনদিন ,এক মুহুর্তের জন্য আর আমার কথা মনে পরবে না ?

বৃষ্টি ভেজা ছেলেটি (অল্প হেসে) :ভুলতে পারলে নিশ্চই মনে পরবে। আমি এগোলাম। আর এখানে দাড়িয়ে থাকা আমার ঠিক হবে না।ভালো থাকিস।